স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা

শাওন সোলায়মান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। ছবি: জিএম মুজিবুর

walton

ঢাকা: বিশ্বের অন্য অনেক দেশের মতোই করোনা মহামারীতে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ। এ ভাইরাস প্রতিরোধের লড়াইয়ে নিয়মিতই দায়িত্ব পালন করতে হয় পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের। আর তাতে করে তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিও অনেক। কিন্তু তা সত্ত্বেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যাচ্ছে না ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের। এ ব্যাপারে কর্মী ও সিটি করপোরেশন, দুই পক্ষেরই আছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ।

জানা যায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় নিয়মিত স্কেলভুক্ত ১ হাজার ৭শ’ ও দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে ৫ হাজার ৩শ’-সহ মোট ৮ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছেন। অন্যদিকে উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) নিয়মিত স্কেলভুক্ত ২ হাজার ৭শ’ এবং প্রাইভেট কোম্পানির ১ হাজার ৩শ’ কর্মী কাজ করছেন। সব মিলিয়ে দুই সিটিতে প্রায় ১২ হাজারের মতো পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছেন।
 
অথচ বেশিরভাগ সময়ই দায়িত্ব পালনকালে এ কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে না। স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রীও ব্যবহার করেন না অনেকেই। 

এ ব্যাপারে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা জানাচ্ছেন, কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী না পাওয়ার কথা। অন্যদিকে সিটি করপোরেশন বলছে, বারবার বলা সত্ত্বেও স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না অনেক পরিচ্ছন্নতাকর্মীই, যদিও তাদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে।
 
সরেজমিনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন মিরপুর ১২ নম্বর সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে (এসটিএস) কর্মরত কয়েকজন পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে দেখা যায় মাস্ক, গ্লাভস ছাড়াই কাজ করতে। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এক কর্মী বলেন, আমাদের তো (সুরক্ষা সামগ্রী) কিছুই দেয় নাই। আমরা কিছু বানাইয়া নিছি। কিন্তু এই কাজ করতে গিয়া সেগুলো পরা যায় না। সেগুলাও যদি এই কাজে ময়লা হইয়া নষ্ট হয় তাইলে পরবো কী? 
 
আরেক কর্মী বলেন, আমাদের কথা কে ভাবে? শুনছি কোনো কোনো জায়গায় কেউ কেউ কিছু জিনিস পাইছে। কিন্তু সেগুলা পইরা নাকি কাজ করতে অসুবিধা হয়। আবার কিছুদিন পর পর নাকি নষ্ট হইয়া যায়। যাগোর নষ্ট হইছে তারা নতুন আর পায় নাই। তাই যেমন আছি, সেইভাবেই কাজ করতেছি। আমগোর কিছু হইলে কারও কিছু যায়-আসে না।

কিন্তু আপনাদের থেকে অন্যদের মাঝে করোনা ভাইরাস ছড়াতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে এ কর্মী বলেন, কেমনে ছড়াইবো? আমগোর কাছে তো মানুষজন আসে না। আর আমগোর মধ্যে যদি হয় তাইলে কারও কিছু যাইবে-আইবে না। 
 
এদিকে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মাঝে ধাপে ধাপে স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করছেন সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে কর্মীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান কর্তা ব্যক্তিরা।
স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। ছবি: জিএম মুজিবুর  ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল হাসনাত বলেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের পর্যাপ্ত পরিমাণে সুরক্ষা সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। ইউএস এইড-এর সৌজন্যে খুবই উন্নত মানের ১ হাজার সেট সুরক্ষা সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অনেক সময়ই অসচেতনতার কারণে তারা এগুলো ব্যবহার করছেন না। এর জন্য তাদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিতেও আমরা ক্যাম্পেইন করছি। তাদের জন্য কমপক্ষে তিনটি জিনিস- মাস্ক, গ্লাভস ও জুতা (বুট) ব্যবহার বাধ্যতামূলক করছি। 

‘তাদের হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ড অফিসে হ্যান্ড ওয়াশার রাখা আছে। এগুলো আমরা তাদের বলছি। মাঠপর্যায়ে গিয়ে বলছি। আবার বাসা বাড়ি থেকে যারা আবর্জনা সংগ্রহ করেন তাদেরকে বলছি, যেন তারা রিসাইকেল পণ্যগুলো বের না করেন কারণ সেসব জিনিসও ঝুঁকিপূর্ণ।’  
 
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. বদরুল আমিন বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের নিজস্ব কর্মীদের মাঝে ধাপে ধাপে স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। মাস্ক, গ্লাভস, বুট, স্যানিটাইজার এবং কোথাও কোথাও পিপিই। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের পাশাপাশি আমাদের পরিদর্শক আছেন, গাড়ির চালক আছেন এবং পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত আরও অনেকেই আছেন। তাদের সবার জন্যই এসব দেওয়া হচ্ছে। তবে অনেক পরিচ্ছন্নতা কর্মীই এসব পরে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না বলে আমরা জানতে পেরেছি। এর জন্য আমরা তাদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, আমরা নিজেরাই তো সচেতন না, তাই তাদের পুরোপুরি সচেতন করাটা খুব চ্যালেঞ্জিং। 
 
বদরুল আমিন আরও বলেন, আমাদের নিজস্ব পরিচ্ছন্নতা কর্মীর বাইরে তৃতীয় পক্ষে আরও কিছু পরিচ্ছন্নতা কর্মী কাজ করেন। বিশেষ করে, যারা বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহ করেন। তাদের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি, যেন তারা তাদের কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টা নিশ্চিত করেন। আমরা সতর্ক করেছি, যদি এটা করা না হয়, তাহলে প্রয়োজনে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। 
 
বাংলাদেশ সময়: ০৯৪০ ঘণ্টা, মে ২৯, ২০২০
এসএইচএস/এইচজে

Nagad
উন্নত ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণই হুয়াওয়ের লক্ষ্য
১৫ জেলার নিম্নাঞ্চল বন্যায় প্লাবিত
ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ: একজনের স্বীকারোক্তি
সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কের শোক
এটিএম কার্ড সংকটে গ্রাহকের ভোগান্তি


রাজশাহী ফিরেছেন এন্ড্রু কিশোরের মেয়ে
সাতক্ষীরায় করোনা রোগীসহ ২ জনের মৃত্যু
নগরের দৃষ্টিনন্দন স্থাপনায় পরিণত হবে সনদ দত্ত মহাশশ্মান
দিনে উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য না ফেলতে তাপসের অনুরোধ
তিনটি করে গাছ লাগানোর নির্দেশ নিবন্ধন অধিদপ্তরের