ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭, ০১ অক্টোবর ২০২০, ১২ সফর ১৪৪২

জাতীয়

বিশ্বজুড়ে তিন কিশোরীর একজন কখনো স্কুলে যায় না: ইউনিসেফ

ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮২৬ ঘণ্টা, জানুয়ারী ২০, ২০২০
বিশ্বজুড়ে তিন কিশোরীর একজন কখনো স্কুলে যায় না: ইউনিসেফ

ঢাকা: বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্যের শিকার পরিবারগুলোর প্রতি তিনজন কিশোরীর মধ্যে গড়ে একজন কখনই স্কুলে যায় না। একই সঙ্গে মানসম্পন্ন শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ থেকে দারিদ্র্যসহ নানা প্রতিবন্ধকতা শিশুদের অব্যাহতভাবে বিরত রেখেছে। 

ইউনিসেফের এক নতুন প্রতিবেদনে এমনটাই জানানো হয়েছে। সোমবার (২০ জানুয়ারি) জাতিসংঘ শিশু তহবিল-ইউনিসেফের প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, দরিদ্রতম শিশুদের মানসম্পন্ন শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ থেকে অব্যাহতভাবে বিরত রাখার পেছনে রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা।

 

এগুলো হচ্ছে– দারিদ্র্য, লিঙ্গ বৈষম্য, শারীরিক অসামর্থ্যতা, জাতিগত পরিচয় বা ভাষাগত কারণে বৈষম্য, স্কুল থেকে তাদের অবস্থানগত দূরত্ব এবং দুর্বল অবকাঠামো। শিক্ষার প্রতিটি ধাপে বাধা দারিদ্র্যকে স্থায়ী করে এবং এটি বৈশ্বিক শিক্ষা সংকটের অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি।

‘শিক্ষার সংকট সমাধান: দরিদ্রতম শিশুদের শিক্ষার পেছনে আরও অর্থের যোগান দেওয়া একটি জরুরি প্রয়োজন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে সরকারি শিক্ষা ব্যয় বণ্টনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বৈষম্যের বিষয়টি উঠে এসেছে।  

এতে বলা হয়, তহবিলের সীমাবদ্ধতা ও এর অসম বণ্টনের ফল হচ্ছে বিদ্যালয়ে বড় আকৃতির শ্রেণি, নিম্নমানের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক, শিক্ষা উপকরণের অভাব এবং স্কুলগুলোর দুর্বল অবকাঠামো। এটি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী উপস্থিতি, স্কুলে ভর্তি এবং শেখার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর বলেন, প্রায় সব জায়গাতেই বিশ্বের দরিদ্রতম শিশুদের ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা নিজেদেরই ব্যর্থতায় পর্যবসিত করছে। যতক্ষণ পর্যন্ত সরকারি শিক্ষা ব্যয় অসম অনুপাতে ধনী পরিবারের শিশুদের পেছনে যেতে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সবচেয়ে দরিদ্র শ্রেণির দারিদ্র্য থেকে মুক্তিলাভ, বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা ও সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা শেখা এবং তাদের নিজের দেশের ‘অর্থনীতিতে’ অবদান রাখার আশা খুবই সামান্য।

‘৪২টি দেশের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, দরিদ্রতম ২০ শতাংশ পরিবারের শিশুদের শিক্ষার জন্য শিক্ষা তহবিলের যে অর্থ ব্যয় হয়, তার প্রায় দ্বিগুণ অর্থ ব্যয় হয় সবচেয়ে ধনী ২০ শতাংশ পরিবারের শিশুদের শিক্ষার জন্য। ’

তিনি জানান, আফ্রিকাজুড়ে দশটি দেশে শিক্ষাখাতে ব্যয়ে সবচেয়ে বেশি বৈষম্য পাওয়া গেছে; যেখানে সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের তুলনায় সবচেয়ে ধনী পরিবারের শিশুদের শিক্ষার জন্য চারগুণ বেশি অর্থ ব্যয় হয়। গিনি ও মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র হচ্ছে এমন দুটি দেশ যেখানে স্কুলের বাইরে থাকা শিশুদের হার বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং সরকারি শিক্ষা তহবিলের অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে এই দুই দেশে সবচেয়ে ধনী পরিবারে শিশুরা সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের তুলনায় যথাক্রমে ৯ ও ৬ গুণ বেশি সুবিধা পায়।

‘বাংলাদেশে সরকারিভাবে শিক্ষার অর্থ দরিদ্র পরিবারের শিশু ও ধনী পরিবারের শিশুর জন্যে ব্যয়ের হার যথাক্রমে ১৫ শতাংশ ও ২৭ শতাংশ। এই বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কেবল বার্বাডোস, ডেনমার্ক, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে ও সুইডেনেই ধনী ও দরিদ্রতম শ্রেণির মাঝে শিক্ষা তহবিল সমানভাবে বণ্টন করে। ’

ইউনিসেফের ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দরিদ্রতম শিশুদের জন্য থাকা সম্পদের সীমাবদ্ধতা শিক্ষা ক্ষেত্রে এই সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে, কেননা এ কারণে স্কুলগুলো তাদের শিক্ষার্থীদের মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদানে ব্যর্থ হয়।  

বিশ্বব্যাংকের তথ্য উল্লেখ করে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নিম্ন ও মধ্যম-আয়ের দেশে বসবাসকারী অর্ধেকেরও বেশি শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করার পরও একটি সাধারণ গল্প পড়তে বা বুঝতে পারে না।

বাংলাদেশ সময়: ১৩২৩ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২০, ২০১৯
টিআর/এমএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

জাতীয় এর সর্বশেষ

Alexa