মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্ট কোর্টে, শুনানি বৃহস্পতিবার

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

আদালতে যাওয়ার পথে গাড়িতে খালেদা জিয়া। ফাইল ফটো

walton

ঢাকা: জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ‍জামিন আবেদনের শুনানি বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর)। বুধবার (১১ ডিসেম্বর) প্রকাশিত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বৃহস্পতিবারের কার্যতালিকায় আবেদনটি ১২ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে।

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর শুনানি হবে। এদিকে আদালতের নির্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।
 
বুধবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল রিপোর্টটি আদালতে পাঠানো হয়।
 
বিএসএমএমইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক ড. কনক কান্তি বড়ুয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলানিউজকে বলেন, খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যদের সমন্বয়ে রিপোর্টটি তৈরি করা হয়েছে। তারপর সেটি সিলগালা করে আদালতে পাঠানো হয়।
 
পড়ুন>>আদালতে পাঠানো হলো খালেদার মেডিক্যাল রিপোর্ট

গত ২৮ নভেম্বর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে জানতে মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্ট চান। যা ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে আপিল বিভাগে দাখিল করতে বলা হয়। একই সঙ্গে ৫ ডিসেম্বর আদেশের জন্য দিন রাখা হয়। তবে ওইদিন রিপোর্ট পাঠানো হয়নি। এরপর আদালত কোনো ব্যর্থতা ছাড়াই ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়ে শুনানি ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করেন।
 
গত ৫ ডিসেম্বর আদালতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছিলেন, বিএসএমএমইউ-এর ভিসি জানিয়েছেন, কিছু টেস্ট হয়েছে, কিছু বাকি আছে। তাই প্রতিবেদন দিতে সময় দরকার। 

এরপর আদালত কোনো ব্যর্থতা ছাড়াই ১১ তারিখের (১১ ডিসেম্বর) মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়ে শুনানি ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করেন।
 
এ সময় খালেদার জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন প্রতিবেদন রোববার বা সোমবার (৮ ও ৯ ডিসেম্বর) দিতে নির্দেশনার আবেদন জানান। কিন্তু তারিখ পরিবর্তন করেননি আদালত। 

এর পরপরই বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা আদালত কক্ষে হইচই শুরু করেন। একপর্যায়ে আদালত এজলাস কক্ষ ত্যাগ করেন। কিন্তু এজলাসে অবস্থান করে স্লোগান দিতে থাকেন আইনজীবীরা।
 
বিরতির (বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা) পর ফের আদালত বসলে জয়নুল আবেদীন শুনানি করতে চান। কিন্তু আদালত তাতে সায় দেননি। এর মধ্যে হট্টগোলের কারণে অন্য মামলার শুনানিও ব্যাহত হয়। এ সময় বিএনপিপন্থি ২/১ জন সিনিয়র আইনজীবী আদালত কক্ষ থেকে বের হতে চাইলে জুনিয়রদের বাধার মুখে পড়েন।
 
ওইদিন আপিল বিভাগের বিচারকাজ শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা দুপুর সোয়া ১টার দিকে এজলাস কক্ষ ত্যাগ করেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির বেঞ্চ। পরে আইনজীবীরাও বের হয়ে যান।
 
এর আগে ২৫ নভেম্বর জামিন আবেদনের শুনানির জন্য আপিল বেঞ্চ ২৮ নভেম্বর দিন ঠিক করেন। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পেয়ে বন্দি রয়েছেন খালেদা জিয়া। আপিলের পর হাইকোর্টে যা বেড়ে ১০ বছর হয়।
 
পরে ২০১৮ সালের ১৮ নভেম্বর খালাস চেয়ে আপিল বিভাগে খালেদা জিয়া জামিন আবেদন করেন। তবে সেই আবেদন এখনো আদালতে উপস্থাপন করেননি তার আইনজীবীরা।
 
গত বছরের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের সাত নম্বর কক্ষে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান (বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি) জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।
 
একইসঙ্গে তাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সাজা হয়েছে মামলার অপর তিন আসামিরও।
 
দণ্ডপ্রাপ্ত অপর তিন আসামি হলেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।
 
গত বছরের ১৮ নভেম্বর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এর বিরুদ্ধে আপিল করা হয়।
 
পরে গত ৩০ এপ্রিল জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাত বছরের দণ্ডের বিরুদ্ধে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে অর্থদণ্ড স্থগিত এবং সম্পত্তি জব্দ করার ওপর স্থিতাবস্থা দিয়ে দুই মাসের মধ্যে ওই মামলার নথি তলব করেছিলেন।
 
এরপর ২০ জুন বিচারিক আদালত থেকে মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। ৩১ জুলাই বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ তার জামিন আবেদন খারিজ করে দেন।
 
পরে ১১ সেপ্টেম্বর ফের জামিন আবেদন ফেরত দেন বিচারপতি ফরিদ আহমেদ ও বিচারপতি এএসএম আব্দুল মোবিনের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
 
২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা করা হয়। ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে মামলাটি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
 
তদন্ত শেষে ২০১২ সালে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদাসহ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শেষ হলে দুদকের পক্ষে এই মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণা করা হয়।
 
বাংলাদেশ সময়: ২২০০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯
ইএস/এমএ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: রাজনীতি বিএনপি খালেদা জিয়া
ঢাকার ভোটে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেবে সেনা
অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের প্রয়াণ
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক হলেন মুনীরা সুলতানা
ফের বাংলা একাডেমির সভাপতি আনিসুজ্জামান
ঢাকার পিতা নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে নারী-তরুণ ভোটার


শুরু হলো ৪৪তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা
আড়ং‌য়ের চেঞ্জরুমের ভি‌ডিও: সাবেক কর্মীর স্বীকারোক্তি
কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সকে বিএসইসি’র সতর্ক
পদ্মায় ৯৫ লাখ টাকার কারেন্ট জাল জব্দ নৌ পুলিশের
দিন শেষ করার আগে লঙ্কানদের বড় ধাক্কা দিল জিম্বাবুয়ে