ঢাকা, বুধবার, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭, ১২ আগস্ট ২০২০, ২১ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

রত্নগর্ভা সম্মাননা পেলেন ঈশ্বরদীর আমেনা বেগম

উপজেলা করসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১৫৬ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৯, ২০১৯
রত্নগর্ভা সম্মাননা পেলেন ঈশ্বরদীর আমেনা বেগম

ঈশ্বরদী (পাবনা): চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী থাকা অবস্থায় আমেনা বেগমের বিয়ে হয়েছিল পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার চর- সাহাপুর ইউনিয়নের ঠিকাদার মোজাহার আলীর সঙ্গে। দাম্পত্য জীবনে তিনি ৭ ছেলে ১ মেয়ের জননী। 

ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের বাবুইচারা গ্রামের মৃত আছের উদ্দিন মণ্ডলের তৃতীয় কন্যা তিনি। দুই ভাই ও চার বোনের মধ্যে ছিলেন তৃতীয়।

 

সফল জননী আমেনা বেগম (৯০)। যিনি নিজে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করার সুযোগ পেয়েছিলেন। উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারেননি তো কি হয়েছে? সব ঝড়ঝাপটা সামলে ঠিকই তার আটটি সন্তানকে মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তুলেছেন।  

সোমবার (৯ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় ঈশ্বরদী
উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে
আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ও বেগম
রোকেয়া দিবসে সফল জননী হিসেবে আমেনা বেগমকে সম্মাননা দেওয়া হয়।  

ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।  

এসময় অর্থনৈতিকভাবে সফল নারী রাবেয়া খাতুন, শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে উম্মে হাবিবা সুলতানা
ও সমাজসেবা উন্নয়নে মোসলিমা রহমান মল্লিকের হাতেও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।  

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিহাব রায়হানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরদী উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান বিশ্বাস।  

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহিনা সুলতানার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের  ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খাঁন,  মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফিয়া ফেরদৌস কাঁকলী, রত্নগর্ভা জননীর বড় ছেলে, প্রাক্তন অতিরিক্ত ডিআইজি মাহফুজুল ইসলাম রঞ্জু, ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহাউদ্দীন ফারুকী।  

স্বাগত বক্তব্য রাখেন- জয়িতা অন্বেষণে সম্মাননা পদকপ্রাপ্ত নারী, আমেনা বেগম, রাবেয়া বেগম, উম্মে হাবিবা সুলতানা মায়া, মোসলিমা রহমান মল্লিক।  
                                                  
ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিহাব রায়হান বাংলানিউজকে বলেন, জগতে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ সম্পদ কিছু হয়ে থাকে  সেটা ' মা',  মায়েরাই দেশে রত্ন উপহার দেন।  

তিনি বলেন, দয়া করে কেউ মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাবেন না। এর কারণ হলো, উচ্চ শিক্ষিত অনেক সন্তানের মা আছেন, যারা থাকেন -বৃদ্ধাশ্রমে আবার একটা শ্রমিক তার জননীকে মাথায় তুলে রাখেন। তাই আজকে এটুকু বলবো সন্তানকে উচ্চ শিক্ষায়  শিক্ষিত করলে হবে না, সবার আগে প্রয়োজন নৈতিক শিক্ষা। যেন বৃদ্ধ বয়সে কোনো মা-বাবাকে আইনের আশ্রয় নিতে না হয়, বৃদ্ধাশ্রমে যেতে না হয়।           

কথা সাহিত্যিক আনিসুল হকের ভাষায় ‘মা’ যেন আলাদা একটা পৃথিবী। বৃক্ষের যেমন মাটির রস টেনে নিলেই কাজ সমাপ্তি হয় না তাকে পথচারীকে ছায়া দিতে হয় ফুল ফোটাতে হয়, ফল ধরাতে হয়। আর বৃক্ষের প্রাপ্তি তো এটাই। তেমনি মা সন্তান জম্ম দিলেই আদর্শ মা হওয়া যায় না। দিনরাত পরিশ্রম করে সন্তনকে লালন পালন করেন। বড় করে তোলেন। সেই মাকে যদি জীবনের শেষদিন পর্যন্ত একটু শান্তি দেওয়া যায়, সেটা হবে আজকের রোকেয়া দিবসের প্রকৃত মূল্যায়ন। এমনই প্রত্যাশা আমাদের।  

বাংলাদেশ সময়: ১৬৫২ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৯, ২০১৯
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

জাতীয় এর সর্বশেষ

Alexa