php glass

সোনালি আঁশেও কৃষকের ‘মুখভার’

বেলাল হোসেন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

পাট পরিষ্কার করছেন চাষিরা/ছবি- আরিফ জাহান

walton

বগুড়া: রোদ তখন খাঁ খাঁ করছিলো। পানির মধ্যে কাজ করলেও তাপে শরীর চুয়ে ঝরছিলো ঘাম। টপ টপ করে তা পানিতেই পড়ছিল। কিন্তু তাদের লেশমাত্র খেয়াল নেই সেদিকে। পাটখড়ি থেকে সোনালি আঁশ আলাদা করতে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন কয়েকজন চাষি।

কারণ জাগ দেওয়া পাট বৈঠার নিচে ফেলে পিটিয়ে হাতের কৌশলে পাটখড়ি ও আঁশ আলাদা করার কাজে ব্যস্ত ছিলেন তারা। এরপর সেই পাটখড়ি ও আঁশ পানির কিনারা ঘেঁষে কিছুটা ওপরের দিকে আলাদা করে রাখছিলেন। 

পরে আঁশগুলো নিয়ে শুকানোর জন্য সারিবদ্ধভাবে নেড়ে দেওয়া হচ্ছিল। একইভাবে পাটখড়ি বিশেষ কায়দায় খাড়া করে শুকানো হচ্ছিল। অবশ্য এ কাজে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও দেখা মেলে। এভাবে কৃষাণ-কৃষাণী মিলেমিশে সোনালি স্বপ্ন ঘরে তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের কৃষকেরা।
 
কিন্তু তাদের চোখে-মুখে চরম হতাশার ছাপ। একে তো বন্যায় হিংস্র যমুনা বসতভিটা কেড়ে নিয়েছে। কেড়ে নিয়েছে জমির ফসলও। এরপর যার যা-ও আছে বাজারে ভালো দাম পাচ্ছেন না। যেন সুযোগ বুঝে কোপ মারছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে কম দামে পাট ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন সোনালি আঁশ ফলানো কৃষকেরা।
 
সবমিলে যেন সোনালি আঁশে কৃষকের ‘মুখভার’। এবার ধানেরও তেমন দাম পাননি। এখনও বাজারে দাম উঠছে না ধানের। তাই পানির দরে ধানের মতো পাট বিক্রির কথাও জানা গেলো বেশ কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে। পাটের কম দামের ব্যাপারটি কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও স্বীকার করেন। 

এছাড়া এবারের বন্যায় তুলনামূলক ক্ষয়ক্ষতির তালিকার শীর্ষে রয়েছেন পাটচাষিরা। তা মোটামুটি কৃষি বিভাগ থেকে পাওয়া পরিসংখ্যান দেখলেও অনুমেয়।
 
বগুড়ার ১২টি উপজেলার মধ্যে যমুনা বেষ্টিত সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলায় প্রতিবছর সবচেয়ে বেশি জমিতে পাট চাষ হয়ে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
 
কৃষি বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, জেলায় এবার পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৫ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমি। সে অনুযায়ী, ১২ হাজার ২৮৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছিল। বেশির ভাগ পাট চাষ করা হয় যমুনা বেষ্টিত ওই তিন উপজেলায়।

হাটে তোলার জন্য পাট নেওয়া হচ্ছেএর মাঝে বন্যায় তলিয়ে গেছে ৮ হাজার ৬৮৯ হেক্টর জমির ফসল পাট। মাত্র ৩ হাজার ৫৯৬ হেক্টর জমির পাট ঘরে তুলতে পারছেন চাষিরা। সে হিসেবে পাটের দাম বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তব চিত্র যেন একেবারে উল্টো।
 
চাষি আকবর হোসেন বাংলানিউজকে জানান, তিনি এবার প্রায় পাঁচ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। বন্যায় তলিয়ে যাওয়ার পর মাত্র দেড় বিঘা জমির পাট ঘরে তুলতে পেরেছেন। প্রতিবিঘায় তার খরচ পড়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকার মতো। তাও নিজের শ্রম ছাড়া। বিঘাপ্রতি ফলন হয়েছে ১০ মণ হারে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী সেই পাট ২১০০ টাকা মণ বিক্রি করতে হচ্ছে।
 
আরেক চাষি হায়দার আলী জানান, প্রায় সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে পাট লাগিয়েছিলেন তিনি। বন্যায় তলিয়ে যাওয়ার পর মাত্র এক বিঘা জমির পাট ঘরে তুলতে পেরেছেন। বাজারে সর্বোচ্চ ভালো মানের প্রতিমণ ২১০০ টাকা আর ক্রেতার চোখে একটু সমস্যা মনে হলেই প্রতিমণ একই পাট ১৭০০ থেকে ১৯০০ টাকার মধ্যে দাম হাঁকছেন।
 
তার ভাষ্য, দিন যাচ্ছে পাটের দাম কমছে। পাট ক্রেতারা অনেকটা সিন্ডিকেট করে ইচ্ছেমতো দাম কমিয়ে দিচ্ছেন। কারণ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা পাট বিক্রি করতে বাধ্য। এ সুযোগ নিয়ে ক্রেতারা ইচ্ছেমতো দামে পাট কেনার চেষ্টা করছেন। এতে ক্ষতির মুখে পড়ছে আমার মতো কৃষকেরা। কিন্তু কিছুই করার নেই।
 
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান জানান, নদীর তীরবর্তী ও চর এলাকায় উৎপাদিত পাটের মান অত্যন্ত ভালো। এছাড়া বন্যায় জেলার সিংহভাগ পাটের জমি তলিয়ে গেছে। সে অনুযায়ী পাটের দাম বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু সে অনুপাতে পাটের দাম নেই।
 
এর কারণ সম্পর্কে তার মত, পাটের ক্রেতা নির্দিষ্ট। অন্য ফসল যেমন অনেক শ্রেণীর ক্রেতা সাধারণ কিনে থাকেন। পাটের ক্ষেত্রে তেমন ক্রেতা নেই। এছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা জীবিকার তাগিদে পাট বিক্রি করতেও বাধ্য। হয়তো পাটের ক্রেতারা এ সুযোগটা নিচ্ছেন। এ জন্য চাষিরা পাটের দাম ভালো পাচ্ছেন না।
 
বাংলাদেশ সময়: ০৭০৪ ঘণ্টা, আগস্ট ২২, ২০১৯
এমবিএইচ/এমএ

ksrm
পুজোর গানে নাচলেন নুসরাত, মিমি ও শুভশ্রী
সোমবার ইমরান, মঙ্গলবার মোদীর সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক
অনুষ্ঠানে ভুঁইফোঁড়দের আমন্ত্রণ জানানো হবে না: মেয়র  
হাতিরঝিলে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার
প্যাকেটজাত খাবার কেনার আগে যা যা দেখতে হবে


মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে নিয়োগ
মাশরাফির জীবন সত্যিকারের অনুপ্রেরণা: মাসাকাদজা
কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের সভাপতির বিরুদ্ধে দুই মামলা
অবৈধ বিল বোর্ড অপসারণের নির্দেশ ডিসির
অনলাইন ব্যাংকিংয়ের আওতায় চসিক রাজস্ব বিভাগের কার্যক্রম