বালিশকাণ্ডে নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ১৩ জন কারাগারে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: প্রতীকী

walton

ঢাকা: পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বালিশকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে তিন মামলায় পাবনা গণপূর্ত বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মাকসুদুল আলমসহ ১৩ প্রকৌশলী ও ঠিকাদারকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। 

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিভানা খায়ের জেসী তাদের কারাগারে পাঠান।
 
কারাগারে পাঠানো ১৩ জন হলেন- পাবনা গণপূর্ত বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুমন কুমার নন্দী, মোহাম্মদ আবু সাঈদ, মো. জাহিদুল কবির, মো. শফিকুল ইসলাম ও মো. রওশন আলী, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল, মোহাম্মদ তাহাজ্জুদ হোসেন, আহমেদ সাজ্জাদ খান, সহকারী প্রকৌশলী মো. তারেক খান ও মো. আমিনুল ইসলাম এবং ঠিকাদার আসিফ হোসেন ও শাহাদাত হোসেন।
 
এর আগে বালিশকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের পাবনা জেলা সমন্বিত কার্যালয়ে এসব মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ৩১ কোটি ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
 
এর মধ্যে তিনটি মামলায় ১৩ জনকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী উপ-পরিচালক মো. শাজাহান মিরাজ এবং অপরটির তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন।
 
অপরদিকে আসামিপক্ষে জামিন আবেদন করেন গোলাম সারোয়ার মনিসহ কয়েকজন আইনজীবী। গোলাম সারোয়ার মনি মজিদ অ্যান্ড সন্স ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার আসিফ হোসেনের পক্ষে মূলত শুনানি করেন। 

তিনি বলেন, মূল্যায়ন কমিটি যে সুনির্দিষ্ট কাজ দিয়েছিল আসিফ হোসেন সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ওই কাজ পেয়েছিলেন এবং সঠিকভাবে করেছিলেন। মালামাল সঠিকভাবে সরবরাহ করেছিলেন। কাজ সম্পন্ন করে তিনি সরকারের তিনটি দফতর ঘুরে তা যথা নিয়মে গ্রহণ করিয়েছিলেন। দুই বছর পর এখন বলা হচ্ছে এই প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে। 

অপরদিকে দুদকের পক্ষে মীর আহমেদ আলী সালাম ও মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর শুনানিতে বলেন, গ্রেফতারকৃতরা অপরাধ করেছে। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় এসব প্রকল্প হয়। এসব প্রকল্প থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে তারা অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে। তাই তাদের জামিন আবেদন নাকচ করা হোক।
 
শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
 
এর আগে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে দুর্নীতির কারণে সরকারের ৩১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে। অনুসন্ধান চলছে। সেটি শেষ হলে সঠিক টাকার পরিমাণ বলা যাবে।
 
চলতি বছর ১৬ মে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। যেখানে বলা হয়, এই প্রকল্পের স্টাফ কোয়ার্টারের জন্য কেনা একটি বালিশের পেছনে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ৭১৭ টাকা। এর মধ্যে বালিশের দাম ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা, আর আর সেই বালিশ ফ্ল্যাটে ওঠানোর খরচ ৭৬০ টাকা দেখানো হয়েছে।

এ ঘটনায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দুই কমিটির তদন্তেই ৬২ কোটি ২০ লাখ ৮৯ হাজার টাকার অনিয়মের কথা উঠে আসে। হাইকোর্টের নির্দেশে গত জুলাই মাসে আদালতে জমা দেওয়া ওই তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্নীতির জন্য ৩৪ জন প্রকৌশলীকে দায়ী করা হয়। 

এই প্রকল্পে দুর্নীতির অনুসন্ধানে গত ১৭ অক্টোবর উপ-পরিচালক নাসির উদ্দিন নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি করে দুদক। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন- দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আতিকুর রহমান ও উপ-সহকারী পরিচালক শাহজাহান মিরাজ। গত নভেম্বর মাসে প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের ধারাবাহিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে অনুসন্ধান কমিটি।
 
বাংলাদেশ সময়: ১৯৩৫ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
কেআই/আরবি/

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: আদালত
‘পদ্মভূষণ’ ও ‘পদ্ম শ্রী’ পুরস্কার পেলেন মোয়াজ্জেম-এনামুল
'নিষ্প্রভ' মেসি, ভ্যালেন্সিয়ার মাঠে হারলো বার্সা
বিঅ্যান্ডজি এলিভেটরের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
চাকরিদাতা ও প্রত্যাশীদের মিলনমেলা ইস্ট ডেল্টায়
‘কর্ণফুলী টানেল দেশের প্রবৃদ্ধিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে’


‘মেয়র-সিডিএ চেয়ারম্যান নেই কেন’ প্রশ্ন মন্ত্রী তাজুলের
বিজ্ঞান কলেজে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতা
সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে জাবি ছাত্রের অনশন
ইংলিশ বোলারদের সামনে ধুঁকছে দক্ষিণ আফ্রিকা
‘পরিবেশের উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে’