করোনা: দেশীয় স্টার্টআপদের জন্য ভিসিপিয়াবের ৬ প্রস্তাব

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ভিসিপিয়াব

walton

ঢাকা: করোনা ভাইরাসের প্রভাবে দেশের স্টার্টআপ ব্যবসাসমূহ মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন। স্থানীয় বাজারে বিক্রয় ও সেবা গ্রহণ বন্ধ থাকার কারণে দেশের প্রায় ৩০০ স্টার্টআপের প্রায় ৪৫০ কোটি টাকার ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে। এমনই প্রেক্ষাপটে দেশিয় স্টার্টাপদের সাহায্যার্থে ছয়টি প্রস্তাবনা দিয়েছে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অ্যান্ড প্রাইভেট ইকুইটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ভিসিপিয়াব)।

বুধবার (৮ এপ্রিল) সংগঠনটির পক্ষ থেকে এসব প্রস্তাবনা সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

সংগঠনটির এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশীয় স্টার্টআপগুলোতে প্রত্যক্ষভাবে কর্মরত প্রায় দেড় লাখ কর্মীর চাকরি হুমকির সম্মুখীন। এছাড়াও স্টার্টআপগুলোর সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় সাত লাখ সেবাদানকারী তাদের সেবা দিতে পারছে না। অনেক স্টার্টআপের রপ্তানি আয় আছে যা অন্ততপক্ষে ৮০ শতাংশ কমে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ভিসিপিয়াব একটি জরুরি সভার আয়োজন করে যেখানে ভিসিপিয়াবের সদস্য ও পোর্টফোলিও কোম্পানিগুলোকে রক্ষার্থে ছয়টি প্রস্তাব সরকারের কাছে উত্থাপন করা হয়। এগুলো- আগামী ৬ মাস (এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর) কর্মীদের বেতনের একটি অংশ সরকারি অনুদান হিসাবে দেওয়া, একই সময়ে আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন স্টার্টআপগুলোর অফিস ভাড়া সরকারি অনুদান হিসাবে দেওয়া, সরকার যেহেতু এ ধরনের দূর্যোগকালীন অনলাইন ক্লাসরুম, ডিজিটাল শিক্ষণের বিষয়বস্তু, স্বাস্থ্যবিষয়ক অনলাইন কন্টেন্ট, বিনোদনমূলক কন্টেন্ট ইত্যাদি তৈরির কথা ভাবছে, এই কাজগুলো দেশীয় স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে করা, সরকারি কাজে স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া যাতে স্টার্টআপগুলোর ব্যবসা সচল থাকে এবং তাদের স্থানীয় বাজার সম্প্রসারিত হয়, ভিসিপিয়াবের সদস্য এবং পোর্টফোলিও কোম্পানিগুলোর জন্য ন্যূনতম সুদে (২ শতাংশ) জামানতবিহীন ঋণ দেওয়ার মাধ্যমে কোম্পানিগুলো তাদের ওয়ার্কিং মূলধনের ঘাটতি পূরণ করতে পারে এবং সরকারের স্টার্টআপ বাংলাদেশের আইডিয়া প্রকল্পের তহবিল থেকে অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড কোম্পানিগুলোর তহবিলে অর্থ (ফান্ড অব ফান্ড হিসাবে) প্রদান।

এ বিষয়ে ভিসিপিয়াব সভাপতি শামীম আহসান বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২০০৮ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশের যে ভিশন দেন এবং  প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা যে ভিশন বাস্তবায়নের পরিকল্পনা দেন, সেই ভিশনে অনুপ্রাণিত হয়ে হাজার হাজার তরুণ উদ্যোক্তা তাদের স্বল্প পুঁজি, বাবা-মায়ের পেনশনের টাকা এবং কিছু এঞ্জেল বিনিয়োগকারী ও ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টের বিনিয়োগকৃত অর্থ নিয়ে তাদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে ব্যবসায় রূপ দেওয়ার মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশের অংশ হওয়ার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে। গত ১২ বছরে এই উদ্যোক্তাদের রক্ত, ঘাম এবং ত্যাগের ফলে আমাদের দেশে অনেকগুলো উদ্ভাবনী স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু আজ এই করোনা মহামারির প্রকম্পনে আমাদের তিলে তিলে গড়ে তোলা স্টার্টআপ ও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ইকোসিস্টেমটি নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে যা সরকারের প্রণোদনা ও আশু পদক্ষেপ ছাড়া মুখ থুবড়ে পড়বে।

ভিসিপিয়াব মহাসচিব শওকত হোসেন বলেন, এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে ভিসিপিয়াবের সদস্য ও পোর্টফোলিও কোম্পানিগুলোর আয় ও নগদ প্রবাহ অব্যাহত থাকবে এবং ব্যবসার উপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও প্রাইভেট ইক্যুটি ফার্মগুলো দেশ ও বিদেশ থেকে তহবিল সংগ্রহ করে স্টার্টআপদের অর্থায়ন বা পুনঃঅর্থায়নের মাধ্যমে সচল করে তুলতে পারবে।

বাংলাদেশ সময়: ২২০১ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৮, ২০২০
এসএইচএস/এএটি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: করোনা ভাইরাস
এবার সাবেক মেয়র কামরান করোনা আক্রান্ত
লিবিয়ায় মানবপাচার, এবার বনানী থানায় মামলা সিআইডির
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড
চলন্ত অটোরিকশার উপর ভেঙে পড়ল গাছ, নিহত ১
কলকাতায় সব রাজনৈতিক দলের বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন


অবসর নিয়ে বিসিবি’র চাপে ‘কষ্ট’ পেয়েছেন মাশরাফি
ফতুল্লায় পরিবহনে চাঁদাবাজিকালে আটক ২
‘পরিবেশ সংরক্ষণ করলে রোগ থেকে মানুষের সুরক্ষা সহজ হতো’
চমেকে'র সেবা তত্ত্বাবধায়ক ইনসাফি হান্না করোনা আক্রান্ত
সঙ্গীত শিল্পীর আইডি হ‌্যাকড, ইভান রিমা‌ন্ডে