মাঠ ছাপিয়ে দর্শক উচ্ছ্বাস চন্দনা মজুমদার আর জুনুনে

হোসাইন মোহাম্মদ সাগর, ফিচার রিপোর্টার | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

দর্শক উচ্ছ্বাসে গাইছেন লোকসংগীত শিল্পী চন্দনা মজুমদার, ছবি: রাজীন চৌধুরী

walton

ঢাকা: দোতরা, ঢোলক আর বাঁশি- বাংলার লোকজ বাদ্যযন্ত্রের অপূর্ব ধুনে শিল্পী যখন সুর তুললেন, তখন উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে আর্মি স্টেডিয়ামের মাঠভর্তি দর্শকের মধ্যে। তাদের সে উচ্ছ্বাস ছড়ায় স্টেডিয়াম ছাড়িয়ে মাঠের বাইরেও।

শনিবার (১৬ নভেম্বর) ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোকফেস্টের তৃতীয় এবং সমাপনী দিনে মঞ্চে আসেন বাংলার অন্যতম লোকসংগীত শিল্পী চন্দনা মজুমদার। মঞ্চে এসেই তিনি গাইলেন সাধক লালন সাঁইজির ‘জগত মুক্তিতে ভোলালেন সাঁই’।

আয়োজনের শেষ রাত হওয়ায় মাঠে দর্শক অন্যদিনের তুলনায় একটু বেশিই। সেই দর্শকেরও যেন লালনের এই গানের প্রতিটি কলিই জানা! শিল্পীর সঙ্গে সমস্বরে গেয়ে বাংলার লোকসংগীতের এই সাধককে স্বাগত জানান তারা। এরপর তিনি গান আরেকটি লালন সংগীত ‘ধন্য ধন্য বলি তারে’।

গীতিকবি বিজয় সরকারের ‘তুমি জানো নারে প্রিয়’ গানটি চন্দনা মজুমদার কণ্ঠে তুলতেই সুর জাগে স্টেডিয়ামের প্রতিটি কোণে। এরপরে তিনি শোনান ফকির কালা শাহর ‘লোহারে বানাইল কাঞ্চা সোনা’। এর আগে চন্দনা মজুমদার পরিবেশন করেন লালনসংগীত ‘ সে কী চেনে মানুষ রতন’। আর্মি স্টেডিয়ামের গ্যালারির সব দর্শকই তখন কণ্ঠ মেলান এ গানে।

শেষে তিনি শোনান ‘মনপুরা’ সিনেমার ‘যাও পাখি বলো তারে’। এই গানের পরিবেশনা শেষে তিনি বলেন, বাংলার আসল লোকজ যে গান, আপনারা সে গান শুনবেন। এমনটাই প্রত্যাশা।
পারফর্ম করছেন জুনুনের লিড ভোকাল আলী আজমত, ছবি: রাজীন চৌধুরীউৎসবের শেষ পরিবেশনা পাকিস্তানের সুফি ঘরানার ব্যান্ড জুনুনের। ১৯৯৭ এর চতুর্থ অ্যালবাম ‘আজাদি’র ‘সাইওনি’ দিয়ে উপমহাদেশের শ্রোতাদের মন জয় করে নেয় ব্যান্ডটি। ব্যান্ডের লিড ভোকাল আলী আজমত ঢাকার মঞ্চে বাংলার লোকসংগীত সাধকদের সঙ্গে পারফর্ম করতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, চমৎকার মানুষ আপনারা! এখানে আসতে পেরে সত্যিই অন্যরকম লাগছে। লোকগানের প্রতি আপনাদের এতটা নিবেদন, সত্যিই ভালো লাগছে অনেক। এই মঞ্চে গাইতে পারাও সৌভাগ্যের ব্যাপার। আপনারা সম্মান জানবেন আমার।

এই ব্যান্ডটি শোনায় বলিউডি সিনেমা ‘হাফ গার্লফ্রেন্ড’র ‘তু হি হ্যায়’ গানটি। এরপর তারা শোনায় ‘ইয়ে দিল হ্যায় তোমহারা’। দুটি গানের পর তারা শোনায় তাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় ‘সাইওনি’ গানটি। ১৯৯৭ সালে নিজেদের চতুর্থ অ্যালবাম ‘আজাদি’-র প্রথম ট্র্যাক ছিল গানটি। এই এক গানেই উপমহাদেশে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়ে যায় পাকিস্তানের ফোক গানের এই ব্যান্ডদল।

ব্যান্ড দলটির পারফর্মের মধ্য দিয়েই রাতে পর্দা নামে আন্তর্জাতিক লোকসংগীত উৎসবের পঞ্চম আসরের। এ আসরে এবার পারফর্ম করেন জর্জিয়ার লোকগানের দল ‘শেভেনেবুরেবি, বাংলাদেশের বাউল শিল্পী শাহ আলম সরকার, ভারতীয় সংগীতশিল্পী দালের মেহেন্দি। ছিলেন বাংলাদেশের লোকশিল্পী কাজল দেওয়ান, ফকির শাহাবুদ্দিন, ম্যাজিক বাউলিয়ানার কামরুজ্জামান রাব্বি ও শফিকুল ইসলাম, মালির হাবিব কইটে অ্যান্ড বামাদা এবং পাকিস্তানের সুফি গায়িকা হিনা নাসরুল্লাহ্।

প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হয়ে উৎসব চলেছিল রাত ১২টা পর্যন্ত। বাংলাদেশসহ ছয় দেশের দুই শতাধিক শিল্পী অংশ নিয়েছেন এবারের উৎসবে।

বাংলাদেশ সময়: ০৩০৮ ঘণ্টা, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
এইচএমএস/টিএ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: বিনোদন শিল্প-সাহিত্য
শেবাগের মাথার চুলের চেয়ে বেশি টাকার মালিক শোয়েব!
খুলনা প্রেসক্লাবে পিঠা উৎসব শুরু শুক্রবার
পুলিশভ্যানে বসে বুকে গুলি চালান কুদ্দুস
৫৪ ওয়া‌র্ডের ৩২৫ কি.মি পথ হেঁটে ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন তাবিথ
ফুলবাড়ীতে নৈশপ্রহরীকে গলা কেটে হত্যা


ভবিষ্যৎ মেয়রদের কাছে দরিদ্রদের সেবা নিশ্চিত করার দাবি
ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আইটি ফেয়ার ২৫-২৭ জানুয়ারি
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে জুলিও সিজারের শ্রদ্ধা
ইশরাকই ঢাকাকে আধুনিক নগর হিসেবে গড়তে পারবেন: ফখরুল
রিজার্ভ চুরির প্রতিবেদন দাখিলের সময় ফের পেছালো