ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২২ জিলহজ ১৪৪১

অর্থনীতি-ব্যবসা

‘ফাস্ট-ট্র্যাক’ প্রকল্পে মেট্রোরেল রুট ১ ও ৫

55 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৯৫৪ ঘণ্টা, জুলাই ১৫, ২০২০
‘ফাস্ট-ট্র্যাক’ প্রকল্পে মেট্রোরেল রুট ১ ও ৫

ঢাকা: মেট্রোরেল লাইন-৬ এর আওতায় আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত মেট্রোরেলের অগ্রগতি ৪৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন বর্ষ ২০২১ সালের বিজয় দিবসে মেট্রোরেল উদ্বোধনের পরিকল্পনা আছে। 

২০১২ সালে গৃহীত হয় মেট্রোরেল প্রকল্প। এ প্রকল্পের দৈর্ঘ্য উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ দশমিক ১ কিলোমিটার।

প্রকল্পের মোট ব্যয় ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকার মধ্যে প্রকল্প সাহায্য হিসেবে জাপান সরকারের উন্নয়ন সংস্থা জাইকা ঋণ দিচ্ছে ১৬ হাজার ৫৯৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। ব্যয় ও গুরুত্ব বিবেচনায় মেট্রোরেল-৬ প্রকল্পটি বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে এবং ‘ফাস্ট-ট্র্যাক প্রকল্পে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যয় বিবেচনা করে আরো দুটি মেট্রোরেল লাইন ১ ও ৫ ফাস্ট-ট্র্যাক প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভূক্ত করেছে সরকার।  

মেট্রোরেল লাইন-১
ঢাকাবাসীর জন্য আরো একটা মেট্রোরেল প্রকল্প এমআরটি-১ এর রুট নির্মিত হচ্ছে। প্রকল্পটি ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে অনুমোদন করা হয়েছে। । এর আওতায় এয়ারপোর্ট থেকে কমলাপুর আর নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত মোট ২৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এলাইনমেন্ট ঠিক করা হয়।

এমআরটি লাইন-০১ এ এয়ারপোর্ট-খিলক্ষেত-যমুনা ফিউচার পার্ক-নতুনবাজার-বারিধারা-উত্তর বাড্ডা-হাতিরঝিল-রামপুরা-মৌচাক হয়ে কমলাপুর পর্যন্ত ১৬ দশমিক ২ কিলোমিটার আর অন্যটি নতুনবাজার-যমুনা ফিউচার পার্ক-বসুন্ধরা-পুলিশ অফিসার হাউজিং সোসাইটি-মাস্তুল-পূর্বাচল পশ্চিম-পূর্বাচল সেন্ট্রাল-পূর্বাচল সেক্টর-৭-পূর্বাচল ডিপো পর্যন্ত ১১ দশমিক ৩ কিলোমিটার রুট নির্মিত হবে। এই প্রকল্পে জাইকা ঋণ দেবে ৩৩ হাজার ৯১৪ কোটি ১১ লাখ টাকা। প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদ চলতি সময় থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। ব্যয় বিবেচনায় প্রকল্পটি ফাস্ট-ট্র্যাক প্রকল্পের অন্তর্ভূক্ত হলো। ২০২০-২১ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে প্রকল্পের আওতায় ৫৯১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

মেট্রোরেল লাইন-৫
মেট্রোরেল লাইন-৫ প্রকল্পের মোট ব্যয় ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা। নতুন এই মেট্রোরেলের এলাইনমেন্ট হলো- হেমায়েতপুর-বালিয়ারপুর-মধুমতি-আমিনবাজার-গাবতলী-দারুসসালাম-মিরপুর ১-মিরপুর ১০-মিরপুর ১৪-কচুক্ষেত-বনানী-গুলশান ২-নতুনবাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত। মোট ব্যয়ের মধ্যে জাইকা দেবে ৩০ হাজার ৭৫৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ এর ডিসেম্বর মেয়াদে প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন হবে। হেমায়েতপুর থেকে গাবতলী হয়ে ভাটারা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘের এ লাইনটির ১৪ কিলোমিটার হবে পাতাল রুট; বাকি ছয় কিলোমিটার এলিভেটেড রুট। ফলে একই রুটে পাতাল ও উড়াল ব্যবস্থার সমন্বয়ে মেট্রোরেল হবে। প্রস্তাবিত এমআরটি রুট-৫ (নর্দান রুট) এ ১৪টি স্টেশন থাকবে। এর মধ্যে নয়টি স্টেশন হবে আন্ডারগ্রাউন্ডে অর্থাৎ মাটির নিচে। আর বাকি পাঁচটি স্টেশন থাকবে মাটির ওপরে।

প্রস্তাবিত পাতাল স্টেশনগুলো হচ্ছে- হেমায়েতপুর, বালিয়াপুর, মধুমতি, আমিনবাজার, গাবতলী, দারুসসালাম, মিরপুর-১, মিরপুর-১০, মিরপুর-১৪। অন্যদিকে কচুক্ষেত, বনানী, গুলশান-২, নতুনবাজার, ভাটারা স্টেশনগুলো হবে উড়াল। চলতি অর্থবছরে এডিপিতে প্রকল্পের আওতায় ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ফলে তিনটি মেট্রোরেল লাইনসহ ফাস্ট-ট্র্যাক প্রকল্পের আওতায় মোট ১১টি প্রকল্প অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।

ফাস্ট-ট্র্যাক প্রকল্প প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, আগে ফাস্ট-ট্র্যাক প্রকল্পে মাত্র একটি মেট্রোরেল লাইন-৬ অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছিল। নতুন করে আমরা আরো দুটি মেট্রোরেল লাইন ১ ও ৫ অন্তর্ভূক্ত করেছি। এর ফলে প্রকল্পের তদারকি বাড়বে। প্রকল্পের তদারকি বাড়লে বাস্তবায়ন অগ্রগতিও বাড়বে। তাছাড়া মোট ব্যয়ের দিক থেকেও প্রকল্প দুটি বিশাল।

নবম জাতীয় সংসদে জয় পেয়ে ক্ষমতায় আসার পর থেকে আওয়ামী লীগ সরকার গত ১১ বছরে বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে ১১টি প্রকল্পকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। প্রকল্পগুলোর মধ্যে কেবল মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পটির কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া পদ্মাসেতু ও মেট্রোরেলের মতো প্রকল্পগুলো এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। বাকি প্রকল্পগুলোও কমবেশি গতি নিয়ে এগিয়ে চলেছে।

মেগা প্রকল্পের মধ্যে দোহাজারী হতে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু হতে মিয়ানমারের নিকটে ঘুমধুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্পে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি ২০১০ সালে শুরু হয়েছে। সমাপ্ত হবে ২০২২ সালে। বর্তমানে প্রকল্পের অগ্রগতি ৩৮ শতাংশ। প্রকল্পের মোট ব্যয় ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকা।

ফাস্ট-ট্র্যাক প্রকল্পে আগে থেকেই রয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় এখন সরকারি হিসাবে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি ৯১ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) দলিলে এই ব্যয়ের অংক উল্লেখ করা হয়েছে।

পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ প্রকল্পও মেগা প্রকল্পের আওতায়। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নে এগিয়ে চলেছে দক্ষিণবঙ্গের স্বপ্নের প্রকল্প পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ কাজ। পায়রা বন্দর বাস্তবায়িত হলে বদলে যাবে এখানকার চিত্র। স্বল্প পরিসরে পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দরের কার্যক্রম চালু করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলেছে। এর মধ্যে অন্যতম চ্যালেঞ্জ টার্মিনাল নির্মাণ।

পদ্মাসেতু প্রকল্পও ফাস্ট-ট্র্যাক প্রকল্পের আওতায়। করোনা সংকটের মধ্যেই চলমান পদ্মাসেতু প্রকল্পের কাজ। সেতুর ৪ হাজার ৩৫০ মিটার দৃশ্যমান। এই প্রকল্পে ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫ হাজার কোটি টাজা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা।
 
পদ্মাসেতুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে পদ্মাসেতু রেল লিংক প্রকল্প। এই প্রকল্পে মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। রাজধানীর কমলাপুর থেকে গেণ্ডারিয়া-কেরাণীগঞ্জ-শ্রীনগর থেকে মাওয়ায় পদ্মা সেতু হয়ে ফরিদপুরের ভাঙা থেকে নড়াইল হয়ে যশোর পর্যন্ত ১৬৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ডুয়েল গেজ রেলপথ নির্মাণ করা হবে। জানুয়ারি ২০১৬ সালে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়, শেষ হবে ২০২৪ সালের জুনে। আগের পরিকল্পনায় কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০২২ সালের ৩০ জুন। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের ঠিকাদার চায়না রেলওয়ে গ্রুপ। প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে বাজেটে ৩ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বাজেটে কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়িতে নির্মাণাধীন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে এই কেন্দ্র থেকে। ২০২৪ সালে এ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে বাজেটে ৩ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।  

এডিপি বরাদ্দ না থাকলেও ১৩২০ মেগাওয়াট মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট (রামপাল), এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প ও গ্যাস পাইপ লাইন নির্মাণ প্রকল্পও ফাস্ট-ট্র্যাক প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভূক্ত করা হলো।

এই প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বাংলানিউজকে বলেন, আমরা যে সব বড় বড় প্রকল্পে এডিপি বরাদ্দ দিচ্ছি না সেগুলোও তদারকি করবো। আমরা বরাদ্দ না দিলেও আমাদের লোকজন তো সেখানে কাজ করছে। সুতরাং কিভাবে প্রকল্পগুলোর কাজ হচ্ছে তা আইএমইডি (বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ) দিয়ে তদারকি করানো হবে।

বাংলাদেশ সময়: ০৯৫০ ঘণ্টা, জুলাই ১৫, ২০২০
এমআইএস/এজে

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

অর্থনীতি-ব্যবসা এর সর্বশেষ

Alexa