ঢাকা, রবিবার, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭, ০৯ আগস্ট ২০২০, ১৮ জিলহজ ১৪৪১

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

২৬ তরুণের স্বেচ্ছাশ্রমে ঘরে বসেই মিলছে নমুনা প্রতিবেদন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫১৯ ঘণ্টা, জুলাই ১৫, ২০২০
২৬ তরুণের স্বেচ্ছাশ্রমে ঘরে বসেই মিলছে নমুনা প্রতিবেদন ২৬ তরুণের স্বেচ্ছাশ্রমে ঘরে বসেই মিলছে নমুনা প্রতিবেদন

চট্টগ্রাম: তারা সবাই মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী। কেউ তৃতীয় বর্ষ, কেউ চতুর্থ, কেউ শেষ বর্ষে পড়ছেন। করোনাকালে বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। করোনার প্রভাবে বিপর্যস্ত দেশ। নাজুক অবস্থা স্বাস্থ্যসেবারও। করোনা শনাক্তে নমুনা পরীক্ষার সঙ্গী এখন চরম ভোগান্তি। দুর্ভোগ মাড়িয়ে পরীক্ষা করার পর রিপোর্ট প্রাপ্তিতেও উঠছে নাভিশ্বাস।

দুর্বিষহ এই পরিস্থিতিতে মেডিক্যাল শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইয়াং সোশ্যাল এক্টিভিজম বোর্ড- ওয়াইস্যাব’র ২৬ জন তরুণ-তরুণীর স্বেচ্ছাশ্রমে ঘরে বসেই মিলছে নমুনার রিপোর্ট। ww.ysab.info/Coronactg লিংকে ক্লিক করলেই পাওয়া যাচ্ছে চট্টগ্রাম ও আশপাশের জেলা থেকে নমুনা দেওয়াদের রিপোর্ট।

         

সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বির নির্দেশনা ও ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আসিফ খানের সার্বিক তত্ত্বাবধান ওয়াইস্যাব’র কারিগরি ও স্বেচ্ছাসেবী সহায়তায় করোনার রিপোর্ট পেতে তৈরিকৃত ওয়েবসাইটটি গত ২১ জুন আনুষ্ঠাকিভাবে উদ্বোধন করা হয়। এর ফলে এখন কাউকে রিপোর্ট পেতে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ফোন দিতে হচ্ছে না।

ওয়াইস্যাব’র ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট ডা. হামিদ হোছাইন আজাদের তত্ত্বাবধানে ওয়েবসাইটটি তৈরি করেন সংগঠনের আইটি হেড মো. কাইছার হামিদ। প্রজেক্ট কোরডিনেটরের দায়িত্বপালন করছেন এমবিবিএস শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ধ্রব ধর। দলনেতার দায়িত্ব পালন করছেন ডা. অনিক পালিত, ডা. সায়মা সাদিয়া ও ডা. অদিতি ব্যানার্জি।

এ টিমের অন্য সদস্যদের মধ্যে আছেন ইমাম হোসাইন, ডা. ইশরাত শাহরিন আরাফাত ও ডা. হাসান রাব্বি। টিমের সদস্যরা চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ, ইউএসটিসি, চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল ডেন্টাল কলেজ ও সাউদার্ন মেডিক্যাল কলেজের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থী।

ওয়াইস্যাব’র ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট ডা. হামিদ হোছাইন আজাদ বাংলানিউজকে বলেন, ‘নির্দিষ্ট ছয়টি ল্যাব থেকে প্রতিদিনের রিপোর্টগুলো সিভিল সার্জন (সিএস) কার্যালয়ে পাঠানো হয়। এরপর সিএস অফিস থেকে ওয়াইস্যাবের তিনজন টিম লিডারের কাছে পাঠানো হয়।

‘দলনেতারা রিপোর্টগুলো টিমের সদ্যস্যদের মধ্যে বিতরণ করেন। এরপর সদস্যরা রিপোর্ট তৈরি করে দলনেতার কাছে পাঠিয়ে দেন। দলনেতারা তা চেক করে প্রজেক্ট কো অর্ডিনেটরের কাছে পাঠান। তিনি চূড়ান্তভাবে রিপোর্টগুলো ওয়েবসাইটে আপলোড করেন। ’ 

অনলাইনে রিপোর্ট পাওয়া ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুল মোমিন বাংলানিউজেক বলেন ‘আমি দুইবার নমুনা দিয়েছি। প্রথমবার ১৫দিন পর রিপোর্ট পেয়েছি। দ্বিতীয়বার ওয়াইস্যাবের ওয়েবসাইটে কোনো ভোগান্তি ছাড়াই রিপোর্ট পেয়েছি। ’

টিমের সদস্য ইউএসটিসি এমবিবিএস শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী রাইসা তাবাসসুম বাংলানিউজকে বলেন, ‘করোনার রিপোর্ট প্রাপ্তি নিয়ে সবাই যখন দুর্ভোগের মুখে পড়ছেন, তখন ওয়াইস্যাব অনলাইনে রিপোর্ট তৈরির উদ্যোগ নেয়। এটি একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। ’

টিমের সদস্য শিক্ষানবিশ চিকিৎসক ডা. নিশাত আঞ্জুম নওরীন বাংলানিউজকে বলেন, ‘করোনাকালে যুগান্তকারী একটি উদ্যোগের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থেকে কাজ করছি। রোগীরা এখন কোনো দুর্ভোগ ছাড়াই মোবাইল নম্বর দিয়ে রিপোর্ট পাচ্ছেন। ’    

বাংলাদেশ সময়: ১৫১৫ ঘণ্টা, জুলাই ১৫, ২০২০
এমআর/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

চট্টগ্রাম প্রতিদিন এর সর্বশেষ

Alexa