‘শহরগুলো পরিকল্পনার অভিধান মেনে চলে না’

নিউজ ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

‘বরণীয় গুণীজন: জীবনকথা ও কর্মকৃতি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে স্থপতি জেরিনা হোসেনসহ অন্যরা

walton

চট্টগ্রাম: ‘যেভাবে আমাদের শহরগুলো গড়ে উঠছে তা কোনো পরিকল্পনার অভিধান মেনে চলে না।’ এমন হতাশার কথাই জানালেন স্থপতি ও নগরপরিকল্পনাবিদ সৈয়দা জেরিনা হোসাইন।

php glass

নগরের কদম মোবারকে বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল)  নারীকণ্ঠ আয়োজিত ‘বরণীয় গুণীজন: জীবনকথা ও কর্মকৃতি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এ হতাশার কথা জানান।

মাহবুব উল আলম বাবলুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক ও বিস্তার’র প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি আলম খোরশেদ।

সৈয়দা জেরিনা হোসাইনের জীবন ও কর্মের নানা দিক তুলে ধরে  তিনি বলেন, স্থপতি ও নগরপরিকল্পনাবিদ হিসেবে সৈয়দা জেরিনা হোসাইন সুপরিচিত, কিন্তু এই পরিচয়ের বাইরেও তার আরেকটি বড় পরিচয় রয়েছে—তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে তিনি কলকাতায় প্রখ্যাত সাহিত্যিক মৈত্রেয়ী দেবীর সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করেছেন। ‘শুকতারা’নামের অসাধারণ একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি যুক্ত আছেন; তিনি তো নিজেই একজন শুকতারা। তরুণ স্থপতিদের সঙ্গে তিনি ‘স্বাপ্নিক’ নামের অন্য একটি স্বপ্নদ্রষ্টা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও সম্পৃক্ত।

নিজের শৈশব-কৈশোর, প্রাথমিক শিক্ষা, উচ্চতর শিক্ষা এবং স্থপতি ও নগরপরিকল্পনাবিদ হিসেবে অর্জিত নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সৈয়দা জেরিনা হোসাইন বলেন, ‘আর দশজন মানুষের চেয়ে আমার শৈশব একটু আলাদা। আমি বেড়ে উঠেছি সিলেটের চা-বাগানে। আমার বাবা ছিলেন চা-বাগানের টি-প্ল্যান্টার। কাজের প্রশিক্ষণ, পরিবেশ যে-কারণেই হোক আমার বাবার মধ্যে ধর্মীয় গোঁড়ামি বা রক্ষণশীলতা ছিল না। আমরা চার বোনকেই তিনি পড়ালেখার জন্য বোর্ডিং স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিয়েছিলেন।’

মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ আমরা সরাসরি শুনেছি, যদিও কোনো দলে আমি যুক্ত ছিলাম না। মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতায় কথাসাহিত্যিক মৈত্রেয়ী দেবীর সঙ্গে আমরা কাজ করেছি। তাকে কাছ থেকে দেখে বুঝতে পেরেছি কত কম দিয়ে মানুষ কত সাধারণভাবে বাঁচতে পারে! সেখানে গৈরী আইয়ুব ও আবু সয়ীদ আইয়ুবকে দেখেছি, মাত্র দু-কামরার বাসায় কতজনকে আশ্রয় দিয়েছেন তারা। মৈত্রেয়ী দেবী ও গৌরী আইযুব মিলে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সমিতি করেছিলেন। গৌরী আইয়ুবদের বাসার উপরের তলায় থাকতেন সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলী।’

উচ্চতর শিক্ষালাভের ব্যাপারে সৈয়দা জেরিনা হোসাইনের শ্বশুরালয়ের সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন। স্থাপত্য ও নগরপরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যেভাবে আমাদের শহরগুলো গড়ে উঠছে তা কোনও পরিকল্পনার অভিধান মেনে চলে না। আমরা শহরের মধ্যে সবুজ ভূমি বা পার্কের জায়গা ধ্বংস করছি অতিরিক্ত মুনাফার চিন্তায়। ফুটপাথে মানুষের হাঁটার জায়গা গেছে কমে।’

সংস্কৃতিচর্চা ও শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সংগীত মেডিটেশনের কাজ করে, এমনকী ধর্মীয় সংগীতও। আমাদের ছেলেমেয়েরা বইবিমুখ হয়ে পড়েছে। স্কুল-কলেজে মুখস্থ করার প্রবণতা বাড়ছে, কারণ নিজের মতো করে লিখলে কোথাও-কোথাও নম্বর কম দেওয়া হচ্ছে, ফলে নষ্ট হচ্ছে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা।’

নবীন প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নিজের জন্যও যদি ভালো কোনো কাজ করা যায় তাহলে সে-কাজ ব্যর্থ হয় না, সময়ের স্রোতে হারিয়ে যায় না।’

সভাপতির বক্তব্যে লেখিকা ড. আনোয়ারা আলম বলেন, ‘আগ্রাবাদ মহিলা কলেজের প্রতিটি দেয়ালের ইট যার অবদানের কথা বলবে তিনি হচ্ছেন সৈয়দা জেরিনা হোসাইন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সূচনালগ্ন থেকেই তিনি নানাভাবে আমাদের পাশে থেকেছেন।’

শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন লেখিকা জিনাত আজম, সাহিত্যিক ফেরদৌস আরা আলীম, অধ্যক্ষ তহুরীন সবুর ডালিয়া ও অধ্যাপক সালমা রহমান।

নারীকণ্ঠ সম্পাদক শাহরিয়ার ফারজানা বলেন, ‘সৈয়দা জেরিনা হোসাইনের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ও অভিজ্ঞতা আমাদের প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করবে, শহরকে নিয়ে আরও গভীর ভাবনার অবকাশ তৈরি করবে।’

বাংলাদেশ সময়: ২০৪৪ ঘণ্টা, এপ্রিল ২৬, ২০১৯
এআর/টিসি

 

 

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: চট্টগ্রাম
ভূমধ্যসাগর থেকে ১৪ বাংলাদেশিসহ ২৯০ অভিবাসী উদ্ধার
পিকআপের নিচে চাপা পড়া সেই চালকের মৃত্যু
গ্রিন বন্ডে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে
পেস বোলারদের ভালো করতেই হবে: রুবেল
পুলিশি অভিযানে মৃত্যু, এসআইসহ ৬ পুলিশ প্রত্যাহার


মহাখালীতে ৬ তলা ভবনে আগুন 
টেলিভিশন বিস্ফোরণে স্বামীর পর মারা গেলেন স্ত্রীও
বেকারত্বের কারণে শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমছে
আম পাড়া নিয়ে ঝগড়া, বড় ভাইকে কোপালো ছোট ভাই
কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম
ইতিহাসের এই দিনে

কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম