বিশ্বকাপ ২০১৯

’৯২ বিশ্বকাপে খরা কাটাল পাকিস্তান

ওয়ার্ল্ড কাপ ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

১৯৯২ বিশ্বকাপ জয়ের পর পাকিস্তানী ক্রিকেটারদের উল্লাস-সংগৃহীত

৩০ মে পর্দা উঠবে ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ লড়াই বিশ্বকাপের ১২তম আসরের। সে উপলক্ষ্যে গত আসরগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরা হচ্ছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ের অাগে। এবারের আয়োজনে থাকছে ১৯৯২ বেনসন অ্যান্ড হেজেস বিশ্বকাপ। 

ভূমিকাপর্ব:  চার বছরের ব্যবধানে ১৯৯১ সালে হওয়ার কথা ছিল বিশ্বকাপের পঞ্চম সংস্করণ। কিন্তু এক বছর পিছিয়ে তা হয় ১৯৯২ সালে অস্ট্রেলিয়া-নিউজি্ল্যান্ডের মাটিতে। ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের কারণে টুর্নামেন্টের নাম হয় ১৯৯২ বেনসন অ্যান্ড হেজেস বিশ্বকাপ। এবারই প্রথম সাদা জার্সি ছেড়ে রঙিন জার্সিতে খেলতে নামে দেশগুলো।

আয়োজক: বিশ্বকাপের পঞ্চম আসর আয়োজন করে ওশেনীয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। এর আগে প্রথম তিন আসর (১৯৭৫, ১৯৭৯ ও ১৯৮৩) আয়োজন করে ইংল্যান্ড। ১৯৮৭ বিশ্বকাপ আয়োজিত হয় ভারত-পাকিস্তানের মাটিতে।

অংশগ্রহণকারী দেশ: আগের আসরগুলোতে ৮ দল থাকলেও প্রথমবারের মতো ৯ দল অংশগ্রহণ এবার। আইসিসির টেস্ট স্ট্যাটাস প্রাপ্ত দেশ ছাড়াও সহযোগী সদস্য হিসেবে ছিল জিম্বাবুয়ে। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফিরে আসে আইসিসির আরেক পূর্ণকালীন সদস্য দক্ষিণ আফ্রিকা। 

ভেন্যু:  অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপ আয়োজিত হয় ১৮টি ভেন্যুতে। তার মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার ১১ এবং বাকি ৭ ভেন্যু ছিল কিউইদের। দুই সেমিফাইনালের একটি হয় নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডের ইডেন গার্ডেনে। অন্যটি হয় অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। ফাইনাল হয় অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। 

গ্রুপ পর্ব: গত আসরে আট দলকে দুই গ্রুপে ভাগ করা হলেও ১৯৯২ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো সরাসরি রাউন্ড রবিনে লড়াই শুরু হয়। অংশগ্রহণকারী দল মুখোমুখি হয় প্রত্যেকের। মোট ম্যাচ হয় ৩৯টি। 

মূল লড়াই শুরু: বেনসন অ্যান্ড হেজেস বিশ্বকাপের শুরুটা হয় চমক দিয়ে। আগের বিশ্বকাপ জুনের বদলে শুরু হয়েছিল অক্টোবরে। এবার তা এগিয়ে আনা হয় ফেব্রুয়ারিতে। উদ্বোধনী ম্যাচে (২২ ফেব্রুয়ারি) মুখোমুখি হয় দুই অাযোজক নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। অকল্যান্ডের সেই ম্যাচে অজিদের হারিয়ে মিশন শুরু করে কিউইরা। একই দিনে ইংল্যান্ড হারায় ভারতকে।

সেমিফাইনালের পথে: গ্রুপ পর্বের শীর্ষ চার দল উঠে সেমিফাইনালে। শীর্ষ দল হিসেবে শেষ চারে উঠে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড।বাকি তিন দল ছিল ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তান।সমান চার জয় পেলেও পাকদের চেয়ে নেট রান রেটে পিছিয়ে থাকায় গ্রুপ পর্বেই মিশন শেষ করে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। 

শিরোপা উৎসব: ভাগ্যগুণে সেমিতে এসে আমূল পাল্টে যায় পাকিস্তান। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের হৃদয় ভেঙে দেয় ইমরান খানের দল। আরেক ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠে ইংল্যান্ড। 

কিন্তু ক্রিকেট বিধাতা সবসময় বিরূপ অাচরণ করেছে ইংল্যান্ডের সঙ্গে। প্রথম টানা তিনবার বিশ্বকাপ আয়োজন এবং ১৯৮৭ বিশ্বকাপে ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিতেনি তারা। ১৯৯২ বিশ্বকাপেও ব্যতিক্রম হলো না। ২৫ মার্চ, মেলবোর্নের ফাইনালে ইংলিশদের কাঁদিয়ে শিরোপা খরা ঘোচায় পাকিস্তান। তিন তিনবার ফাইনালে হারের ক্ষত এখনো বয়ে বেড়ায় ইংলিশ সমর্থকরা। 
    
ম্যান অব দ্য সিরিজ: অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো দেয়া হয় ‘ম্যান দ্য সিরিজ’ পুরস্কার। অনবদ্য ও কৌশলগত সৃজনশীলতার জন্য এই পুরস্কার জেতেন কিউই তারকা মার্টিন ক্রো। আগের আসরগুলোতে বোলিং শুরু হতো পেসারদের দিয়ে। সে জায়গায় কিউই অধিনায়ক প্রথম ওভারে স্পিনার নিয়ে আসেন বোলিংয়ে। এছাড়া ব্যাটিং লাইন আপেও নিয়ে আসেন পরিবর্তন। দলের প্রয়োজনে ওপেনিংয়ে নামিয়ে দেন ‘পিঞ্চ হিটার।’ শুরুতেই ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে তারা নাস্তানাবুদ করে ফেলত প্রতিপক্ষের বোলারদের। 

পরিসংখ্যান: আসরে ৯ ম্যাচে সর্বোচ্চ ৪৫৬ রান সংগ্রহ করেন মার্টিন ক্রো। ১০ ম্যাচে সর্বোচ্চ ১৮ উইকেট শিকার করেন পাকিস্তানের ওয়াসিম আকরাম। 

বাংলাদেশ সময়: ১৭৫৭ ঘন্টা, মে ২৪, ২০১৯ 
ইউবি/এমএইচএম

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯
বয়স্ক ভাতা জোটে না প্রায় শতবর্ষী বাছিরনের
ফুলপুরে নিখোঁজ সেই যমজ তিন বোনের একজন উদ্ধার
পূর্বধলায় বাবা হত্যার অভিযোগে ছেলে আটক
বেনাপোলে হুন্ডির টাকাসহ আটক ১, প্রত্যাহার ৩ কনস্টেবল
বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারে জাহিদের করণীয় বলে দিলেন ফখরুল


পরিবারের সুসম্পর্ক গঠনে সিনেমা সহায়তা করে: শাকিব খান
উইন্ডিজের সঙ্গে জয়ে টাইগারদের অভিনন্দন কাদেরের
সাকিব-লিটনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ক্রিকেট বিশ্ব 
সাকিব-লিটনের ব্যাটে জয়ে উচ্ছ্বসিত মোসাদ্দেকের মা
সমর্থকরা পাশেই থাকবেন, প্রত্যাশা সাকিবের