বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্রুততম সেঞ্চুরিগুলো

ওয়ার্ল্ড কাপ ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: সংগৃহীত

walton

ক্রিকেট বিশ্বকাপের বিগত ১১ আসরে অনেক ক্রিকেটাররাই সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন। লঙ্কান কিংবদন্তি কুমার সাঙ্গাকারা এক আসরেই চারটি সেঞ্চুরি করেন। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চ আর বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সেঞ্চুরি সহজ নয়। তারপরও বিশ্বকাপ দেখেছে বেশ কিছু দ্রুততম শতক। কিন্তু এত এত সেঞ্চুরির তালিকায় কোন সেঞ্চুরিগুলো সবচেয়ে দ্রুত হয়েছে এমন ১০টির তালিকা নিয়েই আজকের এই আয়োজন। 

১০. ব্র্যাড হজ (৮২ বল)

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে ব্র্যাড হজের সেঞ্চুরিটি জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বকাপের দ্রুততম সেঞ্চুরির তালিকায়। সেন্ট কিটসে গ্রুপপর্বে মুখোমুখি হয় অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডস। প্রথমে ব্যাট হাতে হজের অতিমানবীয় ইনিংসে অজিরা দাঁড় করায় ৩৫৮ রানের সংগ্রহ। লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে নেদারল্যান্ডস মাত্র ১২৯ রানেই গুটিয়ে যায়। দ্রুততম সেঞ্চুরির পথে ৮২ বলেই তিন অংকে পৌঁছান। যেখানে তিনি খেলেন ৭টি ছয় আর ৬টি চার। 

৯. ক্লাইভ লয়েড (৮২ বল)

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৯৭৫ বিশ্বকাপে ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি ক্লাইভ লয়েড সেঞ্চুরি করেন। যা উঠে এসেছে দ্রুততম সেঞ্চুরির তালিকায়। তবে ব্র্যাড হজের মতো তিনিও ৮২ বলে সেঞ্চুরি করেন। বোলারদের জন্য রীতিমতো ত্রাশ ছিলেন এই ক্যারিবিয়ান। 

প্রথম বিশ্বকাপে অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়ে তার পূর্ণ মর্যাদা রাখেন লয়েড। ফাইনালে খেলেন 'অধিনায়কোচিত' এক ইনিংস। তার ৮২ বলে ১০০ এর উপর ভর করেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সংগ্রহ করে ২৯১ রান। অস্ট্রেলিয়াও কম যায়নি। শেষ পর্যন্ত ২৭৪ রান করে হেরে যায় মাত্র ১৭ রানে। দুর্দান্ত শতকের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতলেন লয়েড। 

বিশ্বকাপের ফাইনালে করা দ্রুততম শতকের এই রেকর্ডটি টিকে ছিল ৩২ বছর। ২০০৭ বিশ্বকাপ ফাইনালে এসে তা ভাঙেন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট।

ক্লাইভ লয়েড। ছবি: সংগৃহীত

৮. বীরেন্দর শেবাগ (৮১ বল)

২০০৭ সালের বিশ্বকাপে বারমুডার বিপক্ষে ৮১ বলে সেঞ্চুরি করেন বীরেন্দর শেবাগ। যা স্থান পেয়েছে দ্রুততম সেঞ্চুরির ৮ নম্বরে। যদিও সে বিশ্বকাপ বেশ বাজে কেটেছে ভারতের জন্য। বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হেরে গ্রুপপর্ব থেকেই বাদ পড়ে যায় দলটি। তবে বারমুডার বিপক্ষে শেবাগের ৮১ বলের শতকটি এখনও উজ্জ্বল। 

সে ম্যাচে ভারত সংগ্রহ করে ৪১৪ রান, যা এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করার রেকর্ড। ২৫৭ রানের বিশাল ব্যবধানে ম্যাচটি জিতে নেয় ভারত।

৭. অ্যাডাম গিলক্রিস্ট (৭২ বল)

২০০৭ সালের বিশ্বকাপে সবাইকে চমকে মাত্র ৭২ বলে সেঞ্চুরি করেন অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। বিশ্বকাপ ফাইনালে ক্লাইভ লয়েডের করা ৮২ বলের শতকের রেকর্ড ৩২ বছর পরে এসে ভাঙেন অস্ট্রেলিয়ান হার্ডহিটার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। 

২০০৭ বিশ্বকাপ ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে নাস্তানাবুদ করে দেয় অস্ট্রেলিয়া। শেষ পর্যন্ত ১০১ বলে ১৪৯ রান করে থামেন গিলি, যা এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ ফাইনালে করা সর্বোচ্চ ইনিংস। শেষ পর্যন্ত ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ৫১ রানে হারে শ্রীলঙ্কা। অস্ট্রেলিয়া ঘরে তোলে টানা তিন বিশ্বকাপ শিরোপা।

৬. কপিল দেব (৭২ বল)

দ্রুততম বিশ্বকাপ সেঞ্চুরির তালিকায় সবচেয়ে অভাগা বলতে হয় ভারতের কপিল দেবকে। ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপের জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে কপিলেরর করা সে ৭২ বলের সেঞ্চুরির কোনো ভিডিও নেই। কারণ কপিলের হাঁকানো বলেই আহত হন তখনকার একমাত্র ক্যামেরাম্যান।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই ম্যাচে শুধু ৭২ বলে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েই ক্ষান্ত হননি কপিল। শেষ পর্যন্ত করেন ১৭৫ রান। শুরুতেই ১৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলা ভারতকে অধিনায়ক কপিলই কিনারায় পৌঁছান। ৬টি ছয় ও ১৬টি চারের সাহায্যে ১৭৫ রান সংগ্রহ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়েকে ৩১ রানে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ভারত। সে বিশ্বকাপের শিরোপাও ওঠে ভারতের হাতে।

৫. জন ডেভিসন (৬৭ বল)

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে মাত্র ৬৭ বলে সেঞ্চুরি হাঁকান জন ডেভিলস। কানাডিয়ান এই ব্যাটসম্যান তৎকালীন সময়ে বিশ্বকাপের সবচেয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে তাক লাগিয়ে দেন বিশ্বকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তার করা ১১১ রানের ইনিংসে ছিল ৬টি ছয় ও ৮ টি চার। তবে বাকি কেউই আর রান তুলতে না পারায় মাত্র ২০২ রানেই গুটিয়ে যায় দল। ম্যাচ জিতে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

৪. ম্যাথু হেইডেন (৬৬ বল)

২০০৭ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয় অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। শুরুর দিক থেকেই আফ্রিকান বোলারদের উপর চড়াও হন ম্যাথু হেইডেন। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। শন পোলকের উপর ঝড়টা যেনো একটু বেশিই যায়।
শেষ পর্যন্ত ৬৬ বলে শতক তুলে নেন হেইডেন। 

তৎকালীন সময়ের দ্রুততম বিশ্বকাপ শতক হাঁকান এই অজি ওপেনার। অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহেও দাঁড়ায় ৩৭৭ রানের বিশাল রান। তাড়া করতে নেমে ৮৩ রানের হার বরণ করে নিতে হয় প্রোটিয়াদের।

অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। ছবি: সংগৃহীত

৩. এবি ডি ভিলিয়ার্স (৫৫ বল)

২০১৫ সালের বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই ম্যাচে দর্শকদের হতভম্ব করে দিয়ে মাত্র ৫৫ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স। 

তবে সেঞ্চুরি করেই থামেননি। তার ব্যাট থেকে আসে ২৪৫ স্ট্রাইকরেটে ৬৬ বলে ১৬২ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। ১৭টি চার ও ৮টি ছয় মারার পথে মাত্র সাতটি ডট বল খেলেন '৩৬০ ডিগ্রি'খ্যাত এই প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান। এবি'র দানবীয় ইনিংসের উপর ভর করেই ৪০৮ রানের সংগ্রহ পায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

২. গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (৫১ বল)

দ্রুততম সেঞ্চুরির তালিকায় দুই নম্বরে আছেন অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম শতক পান এই অজি ব্যাটসম্যান। ১০টি চার ও ৪ ছয়ের সাহায্যে ৫১ বলে শতক তুলে নেন তিনি।

১. কেভিন ও'ব্রায়েন (৫০ বল)

বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কম বলে সেঞ্চুরির মালিক কেভিন ও’ব্রায়েন। ২০১১ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ৫০ বলে সেঞ্চুরি করেন আয়ারল্যান্ডের এই ব্যাটসম্যান। 

ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ইংল্যান্ড ৩২৭ রান সংগ্রহ করে। লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে আইরিশ এ ব্যাটসম্যান যখন ক্রিজে এলেন, তখন ২৪ ওভার শেষে ১১১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে আয়ারল্যান্ড। পরবর্তী ১০ ওভারেই খেলার মোড় একাই ঘুরিয়ে দেন কেভিন। মাত্র ৫০ বলে ১০০ রান করেন তিনি। ১৩টি চার ও ৬টি ছয়ের মারে শেষ পর্যন্ত ১১৩ রানে থামেন তিনি। হয়ে যান বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম শতকের মালিক।

বাংলাদেশ সময়: ১৬২৩ ঘণ্টা, মে ২৪, ২০১৯
এমকেএম

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯
বড়পুকুরিয়া সাবেক এক এমডিসহ ৩ কর্মকর্তা জেল হাজতে
‘রাজধানীতে প্রতিদিন ৫ হাজার টন খাদ্য অপচয় হয়’
সন্ত্রাস দমনে গণশপথ নিলেন বুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
আবরারের নামে হলের নাম!
দিল্লিতে জেল খেটেছিলেন নোবেলজয়ী অভিজিৎ


ছেঁউড়িয়ায় বসেছে সাধুর হাট, সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
হাইকোর্টে ওসি মোয়াজ্জেমের জামিন আবেদন: আদেশ ৩ নভেম্বর
সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে মার্কিন প্রস্তাবে তুরস্কের ‘না’
শিশু তুহিন-আলিফা হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন
কিমের ঘোড়াপ্রেম!