বিশ্বকাপ কিছুটা প্রাপ্তির, কিছুটা আক্ষেপের

শরীফুল ইসলাম অপু, অতিথি লেখক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল। ছবি: সংগৃহীত

walton

সেমিফাইনালে যাওয়ার বড় পরিকল্পনা নিয়েই দেশ ছেড়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। দলের পক্ষ থেকে সেমিফাইনাল খেলার কথা ওভাবে জোর দিয়ে না বললেও, সমর্থক বা ক্রিকেট বিশ্লেষকদের এই ভাবনার প্রতি মৌন সমর্থন ছিল প্রায় সব খেলোয়াড়েরই। অধিনায়ক, কোচ কিংবা অন্যান্য খেলোয়াড়দের কথায় সেটি ফুটেও উঠেছে বেশ। আয়ারল্যান্ডে ত্রি-দেশীয় সিরিজ মূলত এই প্রত্যাশাকে শক্ত করেছে টাইগার সমর্থকদের মনে।

দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ-মিশন শুরু করা মাশরাফিবাহিনী পাকিস্তানের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ শেষ করায় প্রত্যাশা আর প্রাপ্তিতে বেশ অসামঞ্জস্য খুঁজে পাচ্ছে এদেশের ক্রিকেটভক্তরা। কিন্তু যদি আপনি একটু গভীরে গিয়ে ভাবেন অথবা পাকিস্তানের ম্যাচটি বাদে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্সে চোখ বুলিয়ে নেন, তবে এই বিশ্বকাপ অনেক প্রাপ্তিরও বটে। আক্ষেপ যে নেই তাও নয় । দু’টোকে মুল্যায়ন করতে হবে বাস্তবতা ও সামর্থ্যের নিরিখেই।

.প্রাপ্তি যেখানে...
জয়ের সংখ্যার দিক থেকে যদিও এর আগের দুই বিশ্বকাপেও আমরা তিনটি করে জয় পেয়েছি, সেই হিসেবে এবারও সমান সংখ্যক জয় নিয়েই ফিরেছে টিম বাংলাদেশ। তবে এবারের জয়ের পরিসরটি কিছুটা অনন্য ও ব্যপ্তিসম্পন্ন। নয়টি ম্যাচের মধ্যে আমরা ৫টিতে জয়ের পরিকল্পনা এঁকেছিলাম, যার মধ্যে জয় পাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচটি ছিলো না হয়তো। ছিলো সম্ভবত নিউজিল্যান্ড, শ্রীলংকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচগুলো। হিসেব মেলাতে গেলে প্রত্যাশিত দুইটি জয় আমরা পেয়েছি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তানের সঙ্গে।

,নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচটিতে জয়ের দ্বারপ্রান্তেই ছিলাম। আর শ্রীলংকার সঙ্গে ম্যাচটি বৃষ্টিতে বাতিল হয়েছে। এরমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে জয়টি নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে হারানো পয়েন্টের ব্যাকআপ হিসেবে ধরে নিলে আমরা মূলত হতাশ হয়েছি পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচটির পারফরম্যান্সে। অর্থাৎ যদি শ্রীলংকার সঙ্গে ম্যাচটি হতো এবং আমরা যদি জিততাম, পাশাপাশি পাকিস্তানকে হারাতে পারতাম—তাহলে আমাদের পাঁচ জয়ের লক্ষ্য পূরণের পাশাপাশি সেমিফাইনালও হয়তো নিশ্চিত হয়ে যেত। এমন অনেক যদি নিয়েই প্রাপ্তি ও আক্ষেপের বিশ্বকাপ ২০১৯। এর মধ্যে একটু যদি ভেবে দেখা যায়, তবে সাদা চোখেই বোঝা সম্ভব, দল হিসেবে বাংলাদেশ কোন পর্যায়ে আছে।

.ক্রিকেটে ভালো দিন এলে হয়তো সবই সম্ভব। তবে আমরা যে অভিজ্ঞ পঞ্চপাণ্ডব কথা বলছি বারবার, তারা আসলে কতটা সামর্থ্য রাখে সেটাও বিবেচনায় রাখা উচিত। তাই আক্ষেপের সমীকরণে ঢোকার আগে আমি ভাবতে চাই- এই পাঁচ অভিজ্ঞদের পারফরম্যান্স কেমন ছিলো।

.অধিনায়ক মাশরাফি ব্যতীত বাকি চারজনের জন্যে এই বিশ্বকাপ একেবারেই খারাপ কিছু বলা যাবেনা। তামিম ও মুশফিক নিজেদের জায়গায় ভালো কিছুই করেছেন, পরিসংখ্যানও তাই বলে। ৮ ইনিংসে ২৯.৩৭ গড়ে ২৩৫ রান করেছেন দেশের সেরা ওপেনার তামিম। এর আগে এক বিশ্বকাপে তিনি এতো রান করতে পারেনি।

.৮ ইনিংসে ৫২.৪২ গড়ে ৩৬৭ রান করে উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মুশফিকই সেরা। টাইগারদের মধ্যে বিশ্বকাপের যেকোনো আসরে তার থেকে বেশি রান কেবল সাকিবেরই, তাও চলতি আসরেই। ছয় নম্বরে ব্যাট করা মাহমুদুল্লাহ ৬ ইনিংসে ৪৩.৮ গড়ে করেছেন ২১৯ রান; শেষ দিকে যদিও সুযোগ ছিলো নিজের ভাণ্ডারে আরো কিছু রান যোগ করার। এই তিনজনের ‘খারাপও না, আবার খুব ভালোও না’—এ ধরনের পারফরম্যান্সই মূলত আফসোস বাড়িয়েছে অনেক।

.

সাকিবকে নিয়ে আলাদা করেই বলতে হয়, এই একজনের লড়াই পুরো বিশ্বের কাছে এদেশের ক্রিকেটের বিজ্ঞাপন পৌঁছে গেছে বেশ ইতিবাচকভাবে। ঈর্ষণীয় একটি টুর্নামেন্ট কাটিয়েছেন তিনি। ৮ ইনিংসে ৮৬.৫৭ গড়ে ৬০৬ রান এবং বল হাতে ৩৬.২৭ গড়ে ১১ উইকেট। দলেরতো বটেই, ব্যাটে-বলে এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের সেরাদের সেরা স্থানে রয়েছেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।

.আবার বলতে হয়, আমাদের সামর্থ্যের জায়গাটায় আমরা কতদূর পারবো- সেটাও বিবেচনায় রাখতে হবে। সাকিব সামর্থ্যের শতভাগ অথবা বেশিই প্রমাণ রাখলেন, যা অন্যরা পারেননি। এরকম আসরে নিজেকে কিংবদন্তির কাতারে নিতে হলে সবার আগে ছাড়িয়ে যেতে হয় নিজের সামর্থ্যকে, সাকিব সেটিই করে দেখালেন। আমাদের প্রাপ্তির খাতায় এটিই সবচেয়ে উজ্জ্বল উপাদান।

.আরেকটি সমুজ্জ্বল নাম সম্ভবত মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ৭ ম্যাচে বল হাতে ৩২.০৭ গড়ে ১৩ উইকেটের পাশাপাশি ব্যাট হাতে পাঁচ ইনিংসে ২৯ গড়ে করেছেন ৮৭ রান। সাকিবের পর দলের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে সাইফই নতুন প্রাপ্তি। যদিও ব্যাট হাতে তার সিরিয়াল নিজের ঝুলিতে আরো রান থাকার জন্যে যথেষ্ট নয়। তবে সুযোগ পেয়ে সেটি কাজে লাগানোর দক্ষতা সাইফ দেখিয়েছেন নিউজিল্যান্ড ও ভারতের সঙ্গে। বড় আসরে সৌম্য, লিটন, মিরাজ ও মোসাদ্দেকের মাঝামাঝি ধরনের ফলাফল মনে আশার আলো ফোটাতে পারে। কারণ এরাই আগামীর পাল উড়াবে টাইগারদের।

.প্রায় সব মিডিয়াই দলের প্রত্যেকের পারফরম্যান্স এর চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছে, এটিতে তাই একি বিশ্লেষণ বারবার তুলে আনলাম না। উইকেটের সংখ্যার সঙ্গে মেলালে মোস্তাফিজকেও আপনি দশে দশ দিতে চাইবেন, ৮ ম্যাচে ২৪.২ গড়ে ২০ উইকেট নিয়ে এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্ট এর ২য় সেরা উইকেট সংগ্রাহকও তিনি।

.কিছুটা হলেও আক্ষেপ...
যদি আক্ষেপের ব্যাখ্যায় যেতে হয় তবে সেখানে দলের সর্ব কালের সেরা অধিনায়ক মাশরাফির নামই আসবে সবার আগে, টানা এতোটা অনুজ্জ্বল বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেয়া কোনো অধিনায়কই ছিলেন না সম্ভবত। বল হাতে দলের সেরা পেসার ৮ ম্যাচে ৩৬১ গড়ে পেয়েছেন মাত্র ১ টি উইকেট। তার নিয়মিত ১০ ওভারের কোটা শেষ করতে না পারা নিয়েও রয়েছে বেশ আক্ষেপ।

.আমরা প্রায় সকলেই জানি শতভাগ ফিট তিনি বেশ কিছুদিন ধরেই নেই। তবে মনোবলের দিক থেকে সবচেয়ে ফিট ছিলেন তিনিই, কিন্তু এবার সেটিতেও সেই মাশরাফিকে খুঁজে পেতে কষ্ট হয়েছে। বিশ্বকাপ মিশনের শুরুতে কিছুটা আত্মবিশ্বাসী দেখালেও দিন গড়াতেই সেটিতে আর ছিলেন না আমাদের ‘ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিক’।

.আক্ষেপের জায়গা জুড়ে আছে, নানা আফসোস ও ভাগ্যের মুখ ফিরিয়ে নেয়াও। ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রানআউট হয়ে মুশফিকের ফিরে যাওয়ায় দলের বড় পার্টনারশিপে বাধা হয়। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে উইলিয়ামসনকে মুশফিকের নিশ্চিত রান আউট মিস করাটাও ভুলতে পারছে না ক্রিকেটপ্রেমীরা।

.দলের বোলিংয়ের সেরা অস্ত্র মোস্তাফিজের নামের পাশে ২০ উইকেট দেখলেও নতুন বলে এই ‘কাটার মাস্টার’কে অনেকটা অকার্যকর দেখা গেছে। শুরুর দিকে তার উইকেট না পাওয়াও কম আক্ষেপের নয়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাব্বিরের ক্যাচ মিস, অথবা ভারতের বিপক্ষে রোহিত শর্মার একেবারে সহজ ক্যাচটি ছেড়ে দিয়ে তামিমও আক্ষেপ কুড়িয়েছেন।

.অন্যদিকে তামিমের স্লো ব্যাটিংও তার সহজাত খেলার বিপরীত বার্তা দিয়েছে বিশ্বকাপ জুড়ে। বিশ্বের সেরা ওপেনারদের একজন হয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা এই টাইগার ওপেনারকে বেশ চাপ নিয়ে খেলতে দেখা গেছে। ইনিংস শুরুর প্রথম দিকে তার ডট বলগুলো পরবর্তী ব্যাটসম্যানদের চাপে ফেলে দিয়েছিল। ফিল্ডিংয়ে আক্ষেপ সবচেয়ে বেশি, প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই ২০-৩০ রান আমরা বেশি দিয়েছি ফিল্ডিংয়ের দুর্বলতায়। ফিটনেসের ব্যাপারটিও ভেবে দেখা জরুরি, টানা এতগুলো ম্যাচ খেলার মতো সামর্থ্য ছিলো কিনা সেটিও লক্ষ্যণীয়। শেষ দুইটি ম্যাচে দলের শরীরীভাষা কিন্তু সেটিরই ইঙ্গিত দিয়েছে বলে মনি করি।

.এমন অল্প-স্বল্প ‘মিসটেক’ অথবা ‘মনোযোগ হারানোটা’ খেলা শেষে ম্যাচ জয় হাতছাড়া হওয়ার কারণে পরিণত হয়েছে। দিন শেষে মেনে নিতে হবে এসবই খেলার অংশ, কেউই ইচ্ছে করে খারাপ খেলতে চায় না কখনোই। তবে আক্ষেপ বেড়েছে, টাইগারদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারার তাড়নার অভাব দেখে। তাই বিভিন্ন মিডিয়ায় সতীর্থদের উজাড় করে না খেলার প্রতি হতাশা ব্যক্ত করেছে স্বয়ং সাকিবই।

.দূর থেকে দেখে সঠিক অনুমান করা কঠিন, তবে শেষ কয়েকটি খেলায় দলের মধ্যে বোঝাপড়ার একটু অভাব অনুভূত হয়েছে। মিডিয়াকে দারুণভাবে সামলে নেওয়া মাশরাফিকেও কখনো কখনো মনোযোগবিচ্যুত মনে হয়েছে। পেশাদারিত্ব সত্ত্বেও নিজের নিরুত্তাপ পারফরম্যান্স যে সমালোচিত হচ্ছে, সেটি হয়তো মাশরাফির অধিনায়কত্বেও প্রভাব ফেলেছে।

.ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ম্যাচ সেরা সাকিবকে নিয়ে সাংবাদিকরা মাশরাফিকে বলে ছিলেন, সাকিব কি ‘ওয়ান ম্যান আর্মি’ হিসেবে দলকে এগিয়ে নিচ্ছেন? জবাবে মাশরাফি তখন দ্বিমত পোষণ করে বলেছিলেন, দলে আসলে নির্দিষ্ট একজন কিছু করতে পারে না। সেই মাশরাফিই পাকিস্তানের কাছে হেরে বিশ্বকাপ শেষ করে সাংবাদিক মুখোমুখি হয়ে সাকিবের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন, আক্ষেপ করেছেন সাকিবের যে পারফরম্যান্স তাতে তার দল সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা রাখে, কিন্তু আমরা সাকিবকে সঠিক সমর্থন দিতে পারিনি। তিনি আফসোসের জায়গায় আরো বলেন, বিভিন্ন দেশের সাবেক খেলোয়াড়রা যেভাবে প্রশংসায় ভাসিয়েছে টাইগারদের, সেটি রক্ষা করা যেতো সেমিফাইনালে গিয়ে।

.মাশরাফির এই কথাতেই পুরো দেশের ক্রিকেটভক্তদের মূল আক্ষেপ ফুটে ওঠে। ভালো খেলে প্রত্যাশার পারদ বাড়িয়ে দিয়েছিল মূলত টাইগাররাই, তাই শেষের দিকে এসে নখদন্তহীন বাঘ দেখে কষ্ট পেয়েছে সমর্থকরা। ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ প্রত্যাশা অনেকটুকু ছাড়িয়ে গেলেও বোলিং-ফিল্ডিংয়ে কাজ করার অনেক জায়গা তৈরি হয়েছে বলে আমি মনে করি।

.বিশ্বকাপ মিশন শেষে সামনে শ্রীলংকা সিরিজ মাথায় রেখে নিশ্চয়ই নতুন করেই ভাববে বিসিবি। ভালো-খারাপ দুটোরই শেষ আছে। পেশাদারিত্বের দিক থেকে বললে এটি চলমান প্রক্রিয়া; বেলা শেষে একজন খেলোয়াড়ের বড় পরিচয় তার পারফরম্যান্স। সেটি থেকে দূরে সরে গেলে তার বিকল্প নিয়ে কাজ করাই বোর্ডের কাজ, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে এতোটুকু পেশাদার ভাবতে অসুবিধে নেই বলে মনে করি।

.লেখক:
সার্টিফায়েড ক্রিকেট আম্পায়ার, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড
সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ক্রিকেট আম্পায়ার অ্যান্ড স্কোরার অ্যাসোসিয়েশনে, ফেনী জেলা

বাংলাদেশ সময়: ১৯৫৪ ঘণ্টা, জুলাই ১০, ২০১৯

এমএমইউ/এমএইচএম

নরসিংদীতে বাসচাপায় কাঠমিস্ত্রি নিহত 
উদ্যোক্তা হয়ে অন্যকে চাকরি দিন: ইউজিসি চেয়ারম্যান
খুলনা বিভাগীয় সমাবেশের অনুমতি পেলো বিএনপি
বগুড়ায় স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ
নুসরাত হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিতে আদালতে ৪ সাক্ষী


আগৈলঝাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবক নিহত
হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজে নিয়োগ
‘থর’র হাতুড়ি যাচ্ছে নাতালি পোর্টমানের হাতে
শাবিপ্রবিতে ৯০ গার্বেজ বিন উদ্বোধন
‘ছেলেধরা সন্দেহভাজনদের মারধর না করে পুলিশে দিন’