সাকিবের আকাশ ছোঁয়া সাফল্যে কোনো ‘ফ্লুক’ ছিল না

ওয়ার্ল্ড কাপ ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরির পর সাকিব। ছবি:সংগৃহীত

walton

বিশ্বকাপ ও আয়ারল্যান্ড সফরের আগে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি হিসেবে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ কার্যকরী ভূমিকা রেখেছে। তবে সেসময় দলের সবচেয়ে বড় তারকা সাকিব আল হাসান আইপিএল খেলার কারণে পড়ে ছিলেন ভারতে। এনিয়ে এক শ্রেণির সমর্থকদের সমালোচনার শেষ ছিল না। সমালোচনার যৌক্তিক কারণও আছে, কেননা বিশ্বকাপ হবে ওয়ানডে ফরম্যাটে আর আইপিএল তো টি-টোয়েন্টি।

অন্যদিকে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের হয়ে বিদেশি কোটায় খেলতে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়েছে সাকিবকে। যেখানে তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আফগানিস্তানের দুই তারকা মোহাম্মদ নবী ও রশিদ খান। ফলে মাত্র তিনটি ম্যাচই ভাগ্যে জোটে সাকিবের।

দল থেকে ক্রমাগত বাদ পড়া সাকিব অবশ্য অন্য খেলোয়াড়দের মতো শুধু টিম অনুশীলন ও ঘোরাফেরাতে নিজেকে ব্যস্ত রাখেননি। এঁটেছেন অন্যরকম এক পরিকল্পনা। বিশ্বকাপের সপ্তাহখানেক আগে সাকিব তার পরামর্শক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনকে ভারতে ডেকে পাঠান। যেখানে মুম্বাইতে তাকে নিয়ে আলাদাভাবে ব্যাটিংয়ের অনুশলীন চালান। কাজ করেন ফিটনেস নিয়ে, ওজন কমান ও খেলার অন্যদিকগুলোতে মনোযোগ বাড়ান।

সেই কঠোর অনুশীলনই সাকিবকে ইংল্যান্ডে নায়ক বানিয়ে দিয়েছে। ফলে নিজ দলের বিশ্বকাপ মিশন শেষে মাথা উঁচু করেই ইতি টেনেছেন তিনি। নামের পাশে রেখেছেন ৬০০ রান ও ১১ উইকেট। বিশ্বকাপের এক আসরের ইতিহাসে যা প্রথম। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের নেইল জনসন ৩৬৭ রান ও ১২ উইকেট নিয়ে সাকিবের সবচেয়ে কাছাকাছি রয়েছেন। যেখানে এই আসরে সাকিবের রয়েছে দুটি সেঞ্চুরি, পাঁচটি ফিফটি ও একটি পাঁচ উইকেট নেওয়া ইনিংস।

শনিবার (০৭ জুলাই) নিজের সন্তুষ্টি জানিয়ে সাকিব এ ব্যাপারে বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে এটা আমার জন্য দারুণ একটি বিশ্বকাপ ছিল। আমি খুবই খুশি। আমি যেভাবে চেয়েছিলাম, সেভাবে অর্জন করতে পারায় আমি সন্তুষ্ট। বিশেষ করে টুর্নামেন্টের আগে যেভাবে আমি প্রস্তুতি নিয়েছিলাম।’সাকিব। ছবি:সংগৃহীতসাকিব যখন বলেছিলেন, তিনি জানতেন শুরু থেকেই তিনি বিশ্বকাপে ভালো খেলবেন, এটা ছিল বিশ্বাসযোগ্য। শুধু তার প্রস্তুতির জন্য নয়, প্রথম ম্যাচেই তার ব্যাটে ফিফটি আসায় আলোচনাটা বেশি হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টাইগারদের প্রথম ম্যাচে অন্যবদ্য এক হাফসেঞ্চুরি করে দলকে জেতান সাকিব।

সাকিবের পরিকল্পনা আরও একবার স্পষ্ট হয়, যখন তিনি ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টানা সেঞ্চুরি হাঁকান। দেখিয়ে দেন শর্ট ও বাউন্সি বলে তিনি কতোটা পারদর্শী। তিনি টনটনে ক্যারিবীয় ভয়ঙ্কর পেসারদের শর্ট বলের বিরুদ্ধে ৪৩ বলে ৬৭ রান করেন। অপরদিকে ইংলিশ ফাস্ট বোলারদের বিরুদ্ধে কার্ডিফে একইরকম ডেলিভারিতে ৭০ বলে ৭২ রান তোলেন।

বিগত দিনে বাউন্সি বলে সাকিবের দুর্বলতা দেখা গেছে। যেখানে হুক শট খেলতে গিয়ে প্রায় তাকে উইকেট বিলিয়ে আসতে হয়েছে। তবে ইংল্যান্ডে জোফরা আর্চার, মার্ক উড ও শেলডন কোটরেলদের বিরুদ্ধে বেশ আক্রমণাত্মক ব্যাটিংই করেছেন তিনি। প্রতিটি ওভারের শুরুতেই তাকে বাউন্ডারি হাঁকাতে দেখা গেছে। লেগসাইডে সিঙ্গেল ও দুই রান তুলেছেন ধীরে সুস্থে।

উইন্ডিজদের বিপক্ষে ম্যাচের আগে অবশ্য সাকিব ও দলের অন্য ব্যাটসম্যানরা বাউন্স নিয়ে আলাদাভাবে নেট সেশন করেছেন। এর ফলেই কোটরেল ও তার সতীর্থ বোলারদের ভালোভাবেই মোকাবিলা করা গেছে।

আসরে সাকিবের সত্যি অর্থে অলরাউন্ড পারফরম্যান্স এসেছিল আফগানিস্তানের বিপক্ষে। সে ম্যাচে সাকিব ফিফটির পাশাপাশি পেয়েছিলেন পাঁচটি উইকেট। তার পারফরম্যান্সেই বাংলাদেশ দাপুটে জয় পায়। সেদিন মনে হয়েছিল টাইগাররা রোজ বোলে নয়, খেলছে মিরপুরে।

সাকিব আফগানদের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে নিজেকে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে খুব ঠাণ্ডা মেজাজেরও পরিচয় দিয়েছেন। প্রতিপক্ষের কঠিন স্পিনের বিপক্ষে অপ্রয়োজনীয় কোনো শটই খেলেননি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তান বোলারদের সামলানো একটা চ্যালেঞ্জ। আর বিশেষ করে এমন পিচে যখন তাদের বেশ কয়েকজন উঁচুমানের স্পিনার বল করে।’সাকিব। ছবি:সংগৃহীতশেষ দুই ম্যাচে সাকিব কিছুটা ক্লান্ত ছিলেন। তবে ভারত ও পাকিস্তানের মতো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেও তুলে নেন ফিফটি। তিনি বলেন, ‘মানসিকভাবে শেষ দুই ম্যাচে আমি ক্লান্ত ছিলাম, তবে আমি মনে করি আমার ফিটনেস এক্ষেত্রে আমাকে এগিয়ে রেখেছে।’

এদিকে সাকিবের এমন সাফল্যের পেছনে বলাই যেতে পারে আইপিএলের শেষদিকের সেই প্রস্তুতির কথা। তবে ব্যাটিংয়ে তিন নাম্বার পজিশনে উঠে আসাটাই তার জন্য বড় টার্নিং পয়েন্ট ছিল। যেখানে ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময়ই তিনি পাঁচ নাম্বারে ব্যাটিং করেছেন। সাবেক কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহেই নাকি তাকে ওপরে উঠতে দেননি।

এমনকি হাথুরু চলে যাওয়ার পরও তিন নাম্বার পজিশন পেতে টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে তার যুদ্ধ করতে হয়েছে। অথচ এই পজিশনে ১৫ ইনিংসে তার গড় ৪৩.৯২।

সাকিব বিকেএসপিতে পড়া অবস্থাতেই বেশ আত্মবিশ্বাসী ও বিচক্ষণ ছিলেন। গল্প আছে, তিনি ও মুশফিকুর রহিম যখন সেখানে ব্যাটিংয়ে নামতেন, তখণ কোচেরা বলতেন তারা একদিন বাংলাদেশের হয়ে খেলবেন।

ফলে, এমন রান মেশিন হওয়ার পেছনে হঠাৎ করেই সাকিবের মাঝে পরিবর্তন হয়নি বা আকস্মিক সাফল্য আসেনি। নিজের প্রতি বরাবরই অত্মবিশ্বাসী ছিলেন তিনি। আর এই বিশ্বকাপই দেখিয়েছে তিনি কতটুকু সফলতার চূড়ায় উঠতে পারেন।

বাংলাদেশ সময়: ১১০৫ ঘণ্টা, জুলাই ০৮, ২০১৯
এমএমএস

নরসিংদীতে বাসচাপায় কাঠমিস্ত্রি নিহত 
উদ্যোক্তা হয়ে অন্যকে চাকরি দিন: ইউজিসি চেয়ারম্যান
খুলনা বিভাগীয় সমাবেশের অনুমতি পেলো বিএনপি
বগুড়ায় স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ
নুসরাত হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিতে আদালতে ৪ সাক্ষী


আগৈলঝাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবক নিহত
হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজে নিয়োগ
‘থর’র হাতুড়ি যাচ্ছে নাতালি পোর্টমানের হাতে
শাবিপ্রবিতে ৯০ গার্বেজ বিন উদ্বোধন
‘ছেলেধরা সন্দেহভাজনদের মারধর না করে পুলিশে দিন’