পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের ‘সাতে সাত’

ওয়ার্ল্ড কাপ ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

পাকিস্তানকে হারিয়ে দিয়েছে ভারত-ছবি: সংগৃহীত

walton

ম্যাচের আগে ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ পাকিস্তানকে নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা বলেছিলেন সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলীসহ অনেক সাবেক ভারতীয় ক্রিকেট তারকা। কিন্তু মাঠের খেলায় সব দুশ্চিন্তা স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছে ভারত। বরং বৃষ্টি আইনে ৮৯ রানের বিশাল জয় নিয়ে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের অজেয় থাকার রেকর্ডটা আরও এক ধাপ বাড়িয়ে নিল। ফলে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের জয় এখন ‘সাতে সাত’।

৩৫তম ওভারে যখন বৃষ্টি নামে তখন ১৬৬ রানেই পাকিস্তান হারিয়েছে ৬ উইকেট। খেলা সেখানেই শেষ হলে ৮৬ রানে জিতে যেত ভারত। কিন্তু মিনিট ত্রিশেক পর ফের খেলা শুরু হলে পাকিস্তানের লক্ষ্য কমে দাঁড়ায় ৩০২ রানে। খেলা নেমে আসে ৪০ ওভারে। অর্থাৎ, ৩০ বলে তখন ১৩৬ রান করতে হতো। কিন্তু পাকিস্তান যোগ করতে পারে মাত্র ৪৫ রান। ফলে ৪ উইকেট হাতে রেখে ৮৯ রানে হারে পাকিস্তান। 

এই নিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে সাতবারের দেখায় প্রতিবারই জয়ের দেখা পেল ভারত। আর চলতি বিশ্বকাপেও টানা ৪ ম্যাচ জিতে নিজেদের ফেভারিট তকমা আরও সুসংহত করলো কোহলিবাহিনী। এই জয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ভারত পয়েন্ট তালিকার তিনে জায়গা করে নিয়েছে। সমান পয়েন্ট নিয়েও নেট রান রেটের ব্যবধানে দুইয়ে আছে নিউজিল্যান্ড। ৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া। যদিও বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা এক ম্যাচ বেশি খেলেছে।

৩৩৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে মাত্র ১৩ রান তুলতেই ওপেনার ইমাম-উল-হকের উইকেট হারায় পাকিস্তান। বোলিং করতে গিয়ে দলীয় পঞ্চম ওভারে ভুবেনশ্বর কুমার চার বল করে ইনজুরিতে পড়েন। তার পরিবর্তে শেষ দুই বল করতে আসেন বিজয় শঙ্কর। আর এসেই বাজিমাত করেন, এলবির ফাঁদে ফেলে বিদায় করেন ৭ রানে থাকা ইমাম-উল-হককে। 

ইমামের উইকেট নিয়ে একটি কীর্তিতে নাম লিখিয়েছেন ভারতীয় স্পিনার বিজয় শঙ্কর। নিজের বিশ্বকাপ অভিষেক ওভারেই উইকেট পাওয়াদের এলিট ক্লাবের সদস্য হয়ে গেছেন তিনি। এরপর ১০৪ রানের জুটি গড়ে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন ফখর জামান ও বাবর আজম। ফিফটির দেখা পান ফখর। কিন্তু দলকে ১১৭ রানে রেখে ভারতীয় স্পিনার কুলদীপ যাদবের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান বাবর (৪৮)। নিজের পরের ওভারেই ফখরকেও (৬২) তুলে নেন কুলদীপ।

পাকিস্তানের বিপদ বাড়িয়ে নিজের প্রথম ওভারেই মোহাম্মদ হাফিজকে (৯) বিজয় শঙ্করের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান হার্দিক পান্ডিয়া। ঠিক পরের বলেই সদ্যই ক্রিজে আসা শোয়েব মালিককে বোল্ড করে হ্যাটট্রিকের আশাও জাগিয়েছিলেন এই ভারতীয় পেস-অলরাউন্ডার। পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদও (১২) টিকতে ব্যর্থ হন। এরপর বৃষ্টির হানায় সাময়িক বিরতি। খেলা শুরু হলেও ইমাদ ওয়াসিম (৪৬*) ও শাদাব খানের (২০*) ছোট দুই ঝড়ো ইনিংস জয় পেতে মোটেও যথেষ্ট ছিল না।

বল হাতে ২টি উইকেট নিয়েছেন ভারতের বিজয় শঙ্কর, পান্ডিয়া ও কুলদীপ যাদব।

এর আগে ব্যাটিং তাণ্ডব চালিয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩৩৬ রান সংগ্রহ করেছে ভারত। 

বিশ্বকাপের ২২তম ম্যাচে রবিবার (১৬ জুন) ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ড ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ।

শুরু থেকে পাকিস্তানি বোলারদের ওপর চওড়া হয়ে খেলতে থাকেন দুই ওপেনার রোহিত শর্মা এবং লোকেশ রাহুল। ৩৪ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন রোহিত। অন্য পাশে সুযোগ পেয়ে বিশ্বকাপের প্রথম হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন রাহুল। দু’জনে করেছেন ১৩৬ রানের জুটি। যা বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে যে কোনো উইকেটে জুটিতে সর্বেোচ্চ রানের রেকর্ড।

রোহিত-রাহুলের জুটি ভাঙেন ওহাব রিয়াজ। ৫৭ রানে বাবর আজমের হাতে বন্দী হয়ে সাজঘরে ফেরেন রাহুল। তবে রানের চাকা সচল রাখেন রোহিত। ৪৩তম ফিফটিকে ক্যারিয়ারের ২৪তম সেঞ্চুরি বানান তিনি। ৮৫ বলে পৌঁছান ১০০ রানের ঘরে। ২০১৯ বিশ্বকাপে রোহিতের এটি দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১২২ রানে অপরাজিত ছিলেন রোহিত। 

রোহিতকে সঙ্গ দেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি। দলীয় ২৩৪ রানে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে দু’জনে করেন ৯৮ রানের জুটি। ১১৩ বলে ১৪০ রান করা রোহিতকে সাজঘরে ফেরান হাসান আলী। তার ইনিংসটি সাজানো ছিল ১৪ চার ও ছক্কায়। 

হার্দিক পাণ্ডিয়াকে নিয়ে ভারতকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যান কোহলি। দলীয় ২৮৫ রানের মাথায় মোহাম্মদ আমিরের বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ২৬ রানে পাণ্ডিয়া তালু বন্দী হোন বাবরের হাতে। এর পরপরই মহেন্দ্র সিং ধোনিকে (১) ফেরান আমির।

প্রথম দিকে না পারলেও শেষ দিকে বল হাতে জ্বলে ওঠার চেষ্টা করে পাকিস্তান। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ভারত পেরিয়ে যায় ৩০০ রান। তবে ৪৬.৪ ওভারের সময় বৃষ্টি আসায় সাময়িক বন্ধ ছিল ম্যাচ। পরে পুনরায় ব্যাটিংয়ে নামা কোহলিকে নিজের তৃতীয় শিকার বানান আমির। ভারত অধিনায়ক ৭ চারে ৬৫ বলে করেছেন ৭৭ রান। শেষদিকে অপরাজিত ছিলেন বিজয় শঙ্কর (১৫) ও কেদার যাদব (৯)

সাজঘের ফেরার আগে কোহলি ভেঙে দিয়েছেন কিংবদন্তি ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকারের একটি রেকর্ড। ওয়ানডেতে দ্রুততম সময়ে ১১ হাজার রানের মালিক এখন তিনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে এই মাইলফলক থেকে ৫৭ রান দূরে ছিলেন কোহলি। ওয়ানডেতে ৫১তম হাফসেঞ্চুরি করে পরে রেকর্ডটি গড়েন কোহলি। 

কোহলির এই রেকর্ড গড়তে লেগেছে ২২৩ ইনিংস ও ২৩০ ম্যাচ। শচীনের লেগেছিল ২৭৬ ইনিংস।  সেটিই ছিল এতদিন পর্যন্ত রেকর্ড। দারুণ ছন্দে থাকা কোহলির সামনে স্বদেশী সৌরভ গাঙ্গুলীর ওয়ানডে রেকর্ড ১১ হাজার ৩৬৩ রান পেছনে ফেলার সুযোগও রয়েছে এই বিশ্বকাপেই।

দুর্দান্ত সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হয়েছেন ভারতীয় ওপেনার রোহিত শর্মা।

বাংলাদেশ সময়: ০০৪৩ ঘণ্টা, জুন ১৬, ২০১৯
এমএইচএম

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯ CWC19
কাস্টম হাউসে করোনার থাবা, শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিতের দাবি
করোনায় দিশেহারা বোয়িং, ১২ হাজার কর্মী ছাঁটাই
কাঁঠালবাড়ী ঘাটে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় 
কমেছে মাছ-মুরগি-সবজির দাম
সোশ্যাল মিডিয়ার বিরুদ্ধে নির্বাহী আদেশে ট্রাম্পের স্বাক্ষর


চিকিৎসাধীন চট্টগ্রামের শীর্ষ তিন করোনাযোদ্ধা
শনির দশা কাটছে না রাজশাহীর আমের
লিবিয়ায় বেঁচে যাওয়া বাংলাদেশি যে লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন
স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা
পত্নীতলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২ ভাইয়ের মৃত্যু