ফেলে দেওয়া পত্রিকার দাম ৪৫ কোটি টাকা!

ইকরাম-উদ দৌলা, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

সব আম বাক্সে ভরতে তাদের প্রয়োজন হয় ৪৫ কোটি টাকার পুরনো পত্রিকা। ছবি: বাংলানিউজ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে: শুনে বিশ্বাস হওয়ার কথা নয়। কিন্তু এটাই ঠিক। ফেলে দেওয়া খবরের কাগজের দাম আসলেই ৪৫ কোটি টাকা। আর এটা সম্ভব হয়েছে কেবল সঠিক ব্যবহারের কারণে।

আমের রাজধানীখ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুরো অর্থনীতিই আবর্তিত হচ্ছে ফলের রাজাকে কেন্দ্র করে। যে কারণে এখানে যেন কিছুই ফেলনা নয়। জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর, পুরো বছরই এখানে আমচাষকে কেন্দ্র করে সবকিছু নির্ধারণ হয়।

বলা হয়ে থাকে, শিশু এবং বয়সের ভারে নুয়ে পড়া ব্যক্তি ছাড়া সকলেই কোনো না কোনোভাবে আমের সঙ্গে সম্পৃক্ত। যে কারণে এখানের মানুষ স্বাভাবিকভাবেই এর ওপর নির্ভরশীল। কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বলছে, এ জেলার ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ মানুষ আমচাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

বাগান প্রস্তুত থেকে শুরু করে আম বিপণন কিংবা আমের কারণে সৃষ্ট আবর্জনা পরিস্কার পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। কেউ হয়তো কায়িক শ্রম দিচ্ছেন, কেউবা দড়ি, কেউ সুতা, থলের ব্যবসা করছেন। কিংবা সার, বিষ বা কীটনাশক বিক্রি করছেন। এমনকি ফেলনা কাগজও কাজে লাগছে এ আম বিপণনে। এক্ষেত্রে প্রতিটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠেছে ব্যবসা।

সরেজমিন ঘুরে আম ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তা শুনে চক্ষু চড়ক গাছ। কেবল পুরনো ফেলনা পত্রিকা বিক্রি করেই এখানে অনেকে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এ জেলায় ২ দশমিক ৫ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়। আর এসব আম বাজারজাত করার জন্যই কোটি কোটি টাকার পুরনো পত্রিকার প্রয়োজন হয়। আর তা যোগান দেন এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা।সব আম বাক্সে ভরতে তাদের প্রয়োজন হয় ৪৫ কোটি টাকার পুরনো পত্রিকা। ছবি: বাংলানিউজআমচাষী ও রফতানিকারক ইসমাইল খান শামীম বাংলানিউজকে জানান, প্রতি ২৫ কেজি আম বাক্সে ভরতে প্রয়োজন হয় দেড় কেজি পত্রিকা। আমরা হিসেব করে দেখেছি সর্বমোট দেড় কোটি কেজি কাগজের প্রয়োজন পড়ে। আর প্রতি কেজি পুরনো কাগজ কিনতে হয় গড়ে ৩০ টাকা কেজি দরে। এক্ষেত্রে সব আম বাক্সে ভরতে তাদের প্রয়োজন হয় ৪৫ কোটি টাকার পুরনো পত্রিকা (কাগজ)।

শামীম খান বলেন, বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী আছেন যারা ঢাকা থেকে পুরনো পত্রিকা নিয়ে এসে আমাদের কাছে বিক্রি করেন। আর পত্রিকার কদরও বেশ। কেননা, এটা সাশ্রয়ী এবং ভালভাবে কাজ করে।

তিনি বলেন, আমরা নিজেরই সাত থেকে আট লাখ টাকার পত্রিকার প্রয়োজন পড়ে। শুধু দেশে বিভিন্ন স্থানে নয়, আম বিদেশে রফতানি করার ক্ষেত্রেও পুরনো পত্রিকাই ব্যবহার করা হয়।

শুধু কি পুরনো পত্রিকা, অনেকে সুতা বিক্রি করেও কোটি টাকা আয় করছেন। ফ্রুট ব্যাগিং (আম যাতে গাছে থাকতে নষ্ট না হয়, সেজন্য বিশেষ এক ধরণের থলে) বিক্রি করেও কোটি আয় করছেন অনেকে। কোটি কোটি টাকার কীটনাশক বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয়রা বলছেন, এখানে তো আমচাষ বছরের শুরু থেকেই। কেননা, তখন বাগান প্রস্তুত, পরিস্কার করা হয়। সে সময়ও শ্রমিকসহ নানা উপকরণের প্রয়োজন পড়ে। তাই অন্য ফসলের আবাদ হলেও মূলত এদের অর্থনীতি সমৃদ্ধ আমে।

চাঁপাই সদরের আমচাষী মো. মতিন বলেন, ঘুরে ফিরে যে যা কিছুই করুক। সকলেই কোনো না কোনোভাবে আমচাষের সঙ্গেই সম্পৃক্ত। তাই আমরা আম নির্ভর।

 চাঁপাইনবাবগঞ্জের আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের (আম গবেষণা কেন্দ্র) মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো হামিম রেজা জানান, এখানে ২ দশমিক ৫ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়। যারমূল্য এই বাজার সব মিলিয়ে দেড় হাজার কোটি টাকা। আর এ অর্থ ঘুরে ফিরে এখানেই সবার কাছে যায়।

...বাংলাদেশ সময়: ২০৫০ ঘণ্টা, জুন ০১, ২০১৮
ইইউডি/ওএইচ/

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: আম
সাকিবের সেরা বোলিং-ব্যাটিং-এও শেষ রক্ষা হলো না 
ছাত্রলীগের হাতে মারধরের শিকার ঢাবির দুই শিক্ষার্থী 
১২৯ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজি প্যাকেট, ব্যাটিং-এ বাংলাদেশ
বিরামপুরে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
সিলেটে ভাইয়ের হাতে বৃদ্ধ খুন
আরিফ ব্যবসায়ীদের বন্ধু
 ১৮ বছরে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ইংল্যান্ডের দাপুটে জয়ে সিরিজে সমতা  
রাত-দিন গণসংযোগে বদর উদ্দিন কামরান
 চাঁদপুরে রথযাত্রায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিক্ষকের মৃত্যু