আমের রোগ ‘এমবিবিএস’

জনি সাহা, অ্যাসিস্ট্যান্ট আউটপুট এডিটর | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

গাছে ঝুলন্ত আমে পড়েছে কালো কালো দাগ, যাকে বলা হচ্ছে ‘ম্যাঙ্গো ব্যাকটেরিয়াল ব্ল্যাক স্পট’ রোগ। ছবি: বাংলানিউজ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে: মেডিকেল শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ডিগ্রি এমবিবিএস। স্বপ্নের পথে পা বাড়াতে এ ডিগ্রি তাদের সোপান তৈরি করে দেয়। তবে ‘এমবিবিএস’ (সংক্ষিপ্ত নাম) নামে আমের এক রোগ চাষিদের দুঃস্বপ্নের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞ মতামত নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষেধক ছিটিয়েও প্রতিকার করতে পারছেন না ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা।

‘ম্যাঙ্গো ব্যাকটেরিয়াল ব্ল্যাক স্পট’ (Mango Bactrial Black Spot-MBBS) নামে রোগের আক্রমণে গাছেই নষ্ট হচ্ছে চাষির আম। একপর্যায়ে শুকিয়ে ঝরে পড়ছে। তাতে পুঁজি ঝুঁকিতে দুঃশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে চাষির কপালে।
 
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের আম চাষি মো. রবিউল আউয়াল। দুই যুগের বেশি সময় ধরে আম চাষের সঙ্গে জড়িত এ চাষি এবার ৩০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির ১০ থেকে ১২টি আমের চাষ করেছেন। ইউনিয়নের বালুগ্রামে প্রবেশ করতেই রাস্তার দুইপাশে চোখে পড়ে তার আম বাগান। হাতের নাগালে গাছে গাছে থোকায় থোকায় ঝুলতে থাকা এসব আমের একটির সঙ্গে আরেকটির পার্থক্য বোঝাতেই চোখে পড়লে আমের গায়ে কালো দাগ। জানতে চাইলে এ চাষিই এটিকে ‘এমবিবিএস’ রোগ বলে পরিচয় করালেন।
 
তিনি বলেন, ‘ম্যাঙ্গো ব্যাকটেরিয়াল ব্ল্যাক স্পট’ (এমবিবিএস) রোগে গাছের আম নষ্ট হচ্ছে। গায়ে কালো কালো ফোঁটার মতো এ অবস্থা শুরু হয় আমে বীজ আসার পর। একপর্যায়ে পুরো আমই কালো দাগে ঢাকা পড়ে যায়। এতে আম কালো হয়ে শুকিয়ে ঝরে পড়ে। আম রক্ষায় ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহার করেও রক্ষা হচ্ছে না।
 
সফল এ চাষি বলেন, ২০০১-২০০২ সাল থেকেই এ রোগ দেখা যাচ্ছে। জাত আম বিশেষ করে হিমসাগর, ল্যাংড়া, আশ্বিনা, গুটি জাতে এ রোগ বেশি হচ্ছে। তবে বিশ্বজুড়েই আমের এ রোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।
 
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোশাররফ হোসেন (রোগতত্ত্ব) তাদেরকে কপার হাইড্রোঅক্সাইড, কপার অক্সিক্লোরাইড ৭ দিন পরপর একমাস ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। এতে কিছুটা উপকার পেলেও তা প্রতিরোধ না হওয়ায় হতাশাই শোনা গেলো রবিউল আলমের গলায়। কারণ জাত আমে এ রোগ মুনাফা হুমকির শঙ্কা।
 
তবে বসে নেই শিক্ষিত এ চাষি। নিয়মিতই অংশ নেন বিভিন্ন কর্মশালায়। শুধু তাই নয় আস্থা রাখছেন প্রযুক্তির উপর। যখনই কোনো রোগ চোখে পড়ছে তখন গুগলে সার্চ দিয়ে তা মিলিয়ে নিয়ে প্রতিষেধক খুঁজছেন। ‘এমবিবিএস’ রোগের প্রতিকার নিয়েও অনলাইনে নিয়মিত পড়াশোনা করছেন প্রযুক্তিবান্ধব এ চাষি।
 
তবে এ কাজে তাকে সদা সাহায্য করছেন তার বড় ছেলে, নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া মাহাদী। এ বয়সেই আম নিয়ে মাহাদীর মধ্যে বেশ আগ্রহও দেখা গেলো। সে জানায়, রোজার মাসে স্কুল বন্ধ থাকায় মৌসুম সামনে রেখে বাবাকে নিয়মিত সময় দিচ্ছে। তাতে আম নিয়ে অনেক জানাশোনা হচ্ছে। অন্যদের কর্মকাণ্ডও নিয়মিত খেয়াল করতে হচ্ছে।
 
পাশাপাশি কানসাটের আম ব্র্যান্ডিং করতে এরইমধ্যে খুলেছে ফেসবুক পেজ। তাতে সাড়াও পাওয়া যাচ্ছে।  আর পরিচিতদের জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থায় বাগানের ফরমালিনমুক্ত আম পাঠানোর সুযোগ।
 
বাংলাদেশ সময়: ২০৩৩ ঘণ্টা, জুন ০১, ২০১৮
জেডএস

.

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: আম
বর্ণিল আলোকসজ্জায় সজ্জিত বাকৃবি
সবুজের ডাকে সাড়া
নিখোঁজের দু’দিনপর সোনারগাঁওয়ে স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার
ওয়ানডে দিয়ে সম্মান পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা
তৃতীয় লিঙ্গকে সমাজের মূল ধারায় ফেরাতে ‘সুন্দর বাজুক’
অতিরিক্ত ৪ শতাংশ হজযাত্রী প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত
মেয়র হজ কাফেলার প্রশিক্ষণ কর্মশালা
ভোলায় অটোরিকশার চাপায় শিশুর মৃত্যু
পরিচালনায় নাম লেখালেন ইমরান খান
নকল ও প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধের কারণে পাসের হার কমেছে