নেদারল্যান্ডসকে নিয়ে সতর্ক দুঙ্গা

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাকা: ‘ফাইনালের মহড়া’। কোয়ার্টার ফাইনালকে এতটাই গুরুত্ব দিচ্ছে ব্রাজিল। প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডসের ওপর থেকে এক মুহূর্তের জন্যও মনোযোগ সরাতে চাইছে না। জয়যাত্রা অব্যাহত রাখতে সাম্বাদের ধ্যানজ্ঞানে শুধুই শুক্রবারের ম্যাচ।


নেদারল্যান্ডসকে পিছিয়ে রাখার কোন কারণ নেই। তারাও একই পথের পথিক। জয়ের ুধা মেটাতে তৈরি ডাচরা।


কোচ দুঙ্গার কাছে অন্য মর্যাদায় টোটাল ফুটবলের জনকরা। প্রতিপক্ষ হিসেবে যথেষ্ট সমীহ করছেন। তার দৃষ্টিতে নেদারল্যান্ডস খুবই শক্ত প্রতিপক্ষ। বলেন,“দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলের সঙ্গে তাদের (নেদারল্যান্ডস) খেলায় খুব মিল। লং পাসে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে। কৌশলের দিক থেকেও ভাল। বলতে হয় নিখুঁত একটি দল। এসবের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে আমাদেরকে।”


কমলা বাহিনীর বিপরীতে খেলার অভিজ্ঞতা আছে দুঙ্গার। ১৯৯৪’র বিশ্বকাপে ডাচদের আক্রমণ থামাতে ডিফেন্সিভ এ মিডফিল্ডারকে ঘাম ঝড়াতে হয়েছে। যদিও কোয়ার্টার ফাইনালে তাদেরকে হারিয়েই শিরোপার পথে এগিয়েছে ব্রাজিল। পরের বিশ্বকাপে (১৯৯৮) আবার দেখা হয়েছিলো সেমিফাইনালে। সেখানেও দুঙ্গার জয়।


আবারো ব্রাজিলের সামনে নেদারল্যান্ডস। এবার দুঙ্গা খেলছেন না। খেলাচ্ছেন একদল ফুটবল জাদু শিল্পীদের। ফুটবলের চারণভূমি থেকে তাদেরকে ছেঁকে নিয়েছেন কোচ। উদ্দেশ্য ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জেতা। কাকা, রবিনহো, ফ্যাবিয়ানো, মাইকন, বাস্তোস ও লুসিওরা সেই স্বপ্নের রূপকার।  


সত্যি বলতে কী, বিশ্বকাপে এখনো খুব একটা কঠিন প্রতিপক্ষকে মোকাবেলা করতে হয়নি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।  গ্রুপ পর্ব পেরিয়েছে উত্তর কোরিয়াকে ২-১, আইভরিকোস্টকে ৩-১ এবং পর্তুগালের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে। এরপর শীর্ষ ১৬’র লড়াইয়ে চিলিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ব্রাজিল এখন দুর্বার।


অধিনায়ক লুসিও’র বিচারে ঐতিহাসিক এক ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে ব্রাজিল-নেদারল্যান্ডস। বলেন,“ম্যাচটি হবে ঐতিহাসিক। যেখানে খেলবে বেশ কিছু বিখ্যাত খেলোয়াড়।”


রবিনহো ম্যাচটিকে দেখছেন একটু অন্যভাবে। তার মতে,“কাসিক ফুটবল খেলা হবে। অনেকটা ফাইনালের আমেজ থাকবে দুই দলের এ ম্যাচে।”


ওদিকে নেদারল্যান্ডসের শিরোপা সাফল্য খুব বেশি না থাকলেও এই বিশ্বকাপে দুর্বার গতিতে এগিয়েছে। ডেনমার্ককে ২-০, জাপানকে ১-০, ক্যামেরুনকে ২-১ ও নকআউট ম্যাচে স্লোভাকিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলছে। টানা ২৩ ম্যাচ অপরাজিত ডাচরা।


ব্রাজিলের সঙ্গে এ নিয়ে চতুর্থবার দেখা হচ্ছে। একবারই জিতেছে ১৯৭৪ সালে। এরপর লাতিনদের আধিপত্যের সঙ্গে পেরে ওঠেনি। কোচ বার্ট ফন মারউইক এ অভিযাত্রায় পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদেরই এগিয়ে রাখছেন। তার দৃষ্টিতে,“ ব্রাজিলের বিপক্ষে আমরা হয়তো আন্ডার-ডগ। কিন্তু আমরা এখনে এসেছি শিরোপা জিততে।”


প্রতিপক্ষকে সমীহ করার সঙ্গে পরোক্ষ হুমকিও দিয়ে রাখলেন ডাচ কোচ। বোঝাই যাচ্ছে হাইভোল্টেজ ম্যাচে ছন্দময় ফুটবল দেখবে বিশ্ব।


মারউইকের প্রতি সম্মান রেখেই ব্রাজিল অধিনায়ক বলেন,“আমরা জানি নেদারল্যান্ডস বরাবরই বিশ্বকাপে ভাল খেলে। ১৯৭৪ এবং ১৯৭৮ সালের রানার্সআপ দল তারা।”
কিন্তু ব্রাজিলিয়দের মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা সুপ্ত বাসনা ঠিকই বেরিয়ে এসেছে লুইস ফ্যাবিয়ানোর কথায়। সাম্বাদের গোল মেশিন ফ্যাবিয়ানো প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বুদ্ধি এঁটে ফেলেছেন। সুযোগ সন্ধানী এই স্ট্রাইকার অপেক্ষায় থাকবেন কখন ডাচ রক্ষণভাগ ফাঁকা হয়। সে সুযোগটাই নিতে চান ফ্যাবিয়ানো। বলেন,“আমার মনে হয় তারা আক্রমণাত্মক খেলতে যাবে। সেক্ষেত্রে কিছু সময় তো তারা ঝুঁকি নেবেই। সুযোগটা আমরা কাজে লাগাতে চাই।”


ব্রাজিল-নেদারল্যান্ড ম্যাচ নিয়ে বিশ্বময় যখন টানটান উত্তেজনা। কোচ দুঙ্গার তখন ঘুম হারাম হওয়ার উপক্রম। একাদশ সাজাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। মিডফিল্ডার এলানো এবং ফেলিপ মেলোকে এ ম্যাচেও পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। 

গোড়ালির চোট সারাতে বিশ্রামে আছেন তারা। ব্যথার কারণে সোমবার অনুশীলন থেকে বেরিয়ে গেছেন এলানো। বলা যায় এলানো খেলছেন না কোয়ার্টার ফাইনাল। উল্টো তার বিশ্বকাপ অভিযান শেষ বলেই ধরে নিয়েছে ব্রাজিল শিবির।


চোট সমস্যার পাশাপাশি কার্ডও প্রতিবন্ধক হিসেবে দল থেকে বের করে দিয়েছে রামিরেসকে। পর পর দুই ম্যাচে হলুদ কার্ড থাকায় রামিরেস খেলতে পারবেন না কোয়ার্টার ফাইনালে।


কাকা এরই মধ্যে লাল কার্ড দেখায় পর্তুগালের বিপক্ষে খেলতে পারেননি। কোয়ার্টার ফাইনালে দেখেছেন একটি হলুদ কার্ড। চিলির বিপক্ষে শেষ দিকে নিজেকে বাঁচিয়ে খেলার চেষ্টা করেছেন এই প্লে-মেকার। দলের জন্য সমস্যাই বটে। কাকা কিছুতেই চাইবেন না সেমিফাইনাল মিস করতে। তেমনটা হলে খোলস বন্দী হয়ে যেতে পারেন তিনি।


ডাচরাও সহিসালামতে নেই। চোট সমস্যা না থাকলেও কার্ড তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে কমলা শিবিরকে। হলুদ কার্ড শঙ্কা ঘিরে ধরেছে ওলন্দাজদের। তাদের অনেকেই হলুদ কার্ড দেখেছেন। দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের শঙ্কায় কিছুটা হলেও ভয়ে থাকবে ব্রাজিলের বিপক্ষে।


পোর্ট এলিজাবেথের নেলসন ম্যান্ডেলা বে স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত আটটায় মুখোমুখি হবে দুই দল।


ব্রাজিল সম্ভাব্য একাদশ: হুলিও সিজার, মাইকন, লুসিও (অধিনায়ক), হুয়ান, মাইকেল বাস্তোস, দানি আলভেস, ফেলিপ মেলো, গিলবার্তো সিলভা, কাকা, রবিনহো, লুইস ফ্যাবিয়ানো।


নেদারল্যান্ড সম্ভাব্য একাদশ: মার্টেন স্টেকেনবার্গ (গোলরক্ষক), গ্রেগোরি ফন ডার উইয়েল, জন হেইটিঙ্গা, জিওভান্নি ফন ব্রঙ্কহর্স্ট (অধিনায়ক), মার্ক ফন বোমেল, নাইজেল ডি জং, আরিয়ান রোবেন, রাফায়েল ফন দার ভার্ট, ওয়েসলে স্নাইডার, ডির্ক কুইট ও রবিন ফন পার্সি।

বাংলাদেশ সময়: ১২০০ ঘন্টা, জুলাই ০১, ২০১০

বিনা টিকিটে রেল ভ্রমণ, ১১১৮ যাত্রীর জরিমানা
আড়াইহাজারে দুই পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থীর নাম ঘোষণা
খেলোয়াড়দের যত কুসংস্কার!
নাটোরে ট্রাক চাপায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩
পাবনায় পুলিশ হত্যা মামলার পলাতক আসামী নিহত 
ইনজুরিতে ব্রাজিলের ডগলাস কস্তা
বাপ্পা-তানিয়ার বিয়ে
ক্রুসে রক্ষা জার্মানির
নেইমারের হলুদ কার্ড নিয়ে উদ্বিগ্ন ব্রাজিল
নারায়ণগঞ্জে ট্রেনের ইঞ্জিনে প্রাণ গেলো অজ্ঞাত ব্যক্তির