বাবাজী বললেন, ‘এক ইঞ্চ আন্দার আন্দার বোম্বিং কারো’

ইকরাম-উদ দৌলা, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি ও ভিডিও: শাকিল আহমেদ

নভেম্বরের শুরুর দিকে একদিন কামালপুর পাকবাহিনীর ক্যাম্প থেকে মর্টার শেল এসে পড়ল মহেন্দ্রগঞ্জ মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পে। একজন ভারতীয় সেনা মারা গেলেন। এ খবর পেয়ে নালিতাবাড়ীর ওপাড়ে ডালু ক্যাম্প থেকে ছুটে এলেন ব্রিগেডিয়ার সানসিং বাবাজী।

বকশীগঞ্জ, জামালপুর: নভেম্বরের শুরুর দিকে একদিন কামালপুর পাকবাহিনীর ক্যাম্প থেকে মর্টার শেল এসে পড়ল মহেন্দ্রগঞ্জ মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পে। একজন ভারতীয় সেনা মারা গেলেন। এ খবর পেয়ে নালিতাবাড়ীর ওপাড়ে ডালু ক্যাম্প থেকে ছুটে এলেন ব্রিগেডিয়ার সানসিং বাবাজী।

মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীকে নিয়ে মাটিতে বাঁশের খুঁটি পুঁতে ধানুয়া কামালপুরের পাকিবাহিনীর ক্যাম্পের ম্যাপ করলেন তিনি। এরপর নির্দিষ্ট স্থানে উপর্যুপরি বোম্বিংয়ের নির্দেশ দিলেন। বললেন, ‘এক ইঞ্চ আন্দার আন্দার বোম্বিং করো’।

ওই পাহাড়টাই মহেন্দ্রগঞ্জ। যেখানে ছিল ১১ নম্বর সেক্টরের হেড কোয়ার্টার। এখান থেকেই যুদ্ধের নির্দেশনা দিতেন মেজর তাহের।

সে মোতাবেক ভারতীয় গোলন্দাজ বাহিনী একের পর এক গোলা ছুড়তে  লাগলো। এভাবেই একেক দিন একেক স্থানকে টার্গেট করা হলো। এতেই কাবু হয়ে পড়ল পাকবাহিনী।

মহেন্দ্রগঞ্জ ভারতের মেঘালয় রাজ্যের তোরা জেলায় বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী একটি এলাকা। যা জামালপুরের বকশীগঞ্জের ধানুয়া কামালপুরের ঠিক উত্তরে। মুক্তিবাহিনীর এ ক্যাম্পটিই ছিল ১১ নম্বর সেক্টরের হেড কোয়ার্টার্স। এটা সাব সেক্টরও ছিল। মেঘালয় থেকে ঢাকা পৌঁছাতে উত্তরের সীমান্তবর্তী দুইটি পথ ছিল মুক্তিবাহিনীর জন্য সহজ। একটি হচ্ছে বকশীগঞ্জ-জামালপুর-টাঙ্গাইল হয়ে ঢাকা। অন্যটি হালুয়াঘাট-ময়মনসিংহ হয়ে ঢাকা। তবে দ্বিতীয় পথ অপেক্ষাকৃত অনুন্নত থাকায় প্রথম পথটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে এ পথেই বেশি আক্রমণের আশা করেছিল পাকবাহিনী। ফলে তারাও মহেন্দ্রগঞ্জের নিচেই কামালপুরে বেশ শক্ত ঘাঁটি করেছিল।

ধানুয়া কামালপুরের ঐতিহাসিক সম্মুখ সমর।

আগস্টের মাঝামাঝি ১১ নম্বর সেক্টর গঠনের পর মহেন্দ্রগঞ্জ ক্যাম্পের দায়িত্ব নেন মেজর তাহের (পরে কর্নেল হন)। এর আগেও এখানে যুদ্ধ হয়েছে। তখন সার্বিক নির্দেশনা দিয়েছেন ব্রিগেডিয়ার হরদেব সিং ক্লের (Hardev Sing kler)। আর ডালু ক্যাম্পের দিকে নেতৃত্বে ছিলেন ব্রিগেডিয়ার সানসিং বাবাজী। এই সেক্টরটি কুড়িগ্রামের রৌমারী থেকে বকশীগঞ্জ-নালিতাবাড়ী, হালুয়াঘাট হয়ে দূর্গাপুর-বিরিশিরি পর্যন্ত বিস্তৃত।

মেজর তাহের সেক্টরের দায়িত্ব নেওয়ার আগে হরদেব সিং ক্লেরই সব নির্দেশনা দিতেন। কিন্তু দায়িত্ব নিয়ে তাহের বললেন, ‘যেহেতু যুদ্ধটা আমাদের এবং শক্র ও পথ আমাদের পরিচিত, তাই এখন থেকে নির্দেশনা আমিই দেব।’

তাহেরের পরিচালনায় গেরিলা আক্রমণ করে মুক্তিযোদ্ধারা জামালপুর থেকে বকশীগঞ্জ এবং বকশীগঞ্জ থেকে কামালপুরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে সফল হন। কিন্তু ১৪ নভেম্বরের এক হামলায় পা হারান তাহের। সেদিন তার আশেপাশেই ছিলেন বশীর আহমেদ (পরে বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত)।

ধানুয়া কামালপুরের ঐতিহাসিক সম্মুখ সমর।

১৩ নভেম্বর তাহের সিদ্ধান্ত দেন কামালপুর ক্যাম্প আক্রমণ করা হবে। রাতেই পজিশন নেওয়া হলো ক্যাম্পের অদূরে। যেটা যুদ্ধের আগে ছিল সীমান্ত ফাঁড়ি। তাহেরের একটা অভ্যাস ছিল, সমরে অনুসারীদের সাহস যোগাতে সবার আগে থাকতেন। সেদিনও তিনি কামালপুর বাজারের পার্শ্বেই সবার আগে ছিলেন। পেছন থেকে মুক্তিযোদ্ধারা বারবার অ্যাটাক করার অনুমতি চাইছিলেন। কিন্তু তিনি বললেন, ‘না। ওদের ধরতে হবে।’ এ সময় ১৮০ মিলিমিটার মর্টারের শেল এসে পড়ল তার পায়ের কাছে। সঙ্গে সঙ্গে গুরুতর আহত হয়ে পা হারালেন তিনি। মহেন্দ্রগঞ্জ ক্যাম্পে তাহেরের ভাই ড. আনোয়ার হোসেন, বোন ডলিসহ অন্য ভাইবোনও যুদ্ধ করেছেন। ডলিও ট্রেনিং নিয়েছিলেন। তার কাঁধে সব সময় চাইনিজ এসএমজি (শর্ট মেশিন গান) থাকত। তবে তিনি সব সময় লড়াই করতেন না।

তাহের আহত হওয়ার পর যৌথবাহিনীর আক্রমণ পুরোপুরি শুরু হয়ে যায়। যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্ব পুনরায় নেন ব্রিগেডিয়ার হরদেব সিং ক্লের। তাহেরের পরিকল্পনাকে আরো এগিয়ে নিতে তিনি সব পথ রুদ্ধ করে দেন। এতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় মনোবল হারিয়ে ফেলে পাকবাহিনী। কেননা, তাদের তখন গোলাবারুদ, খাদ্য ও রসদ একেবারে শেষে পথে। তবে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকবাহিনীর ক্যাম্প দখলে মিত্রবাহিনীর তিনটি আক্রমণ ব্যর্থ হয়। এ সময় অনেক ভারতীয় সেনা মৃত্যুবরণ করেন।

ধানুয়া কামালপুরের ঐতিহাসিক সম্মুখ সমর।

মিত্রবাহিনীর অংশের ব্রিগেড ‘১০১ কমিউনিকেশন জোন’ এর প্রধান মেজর জেনারেল গুরবক্স ‍সিং গিল ব্যর্থতার কারণে ক্লের-এর ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেন। ফলে ৩ ডিসেম্বর তিনিই পরিকল্পনা করে চূড়ান্ত যুদ্ধের নির্দেশনা দেন। ধয়াশায়ী হয়ে পড়ে পাকবাহিনী। রাতেই পরিকল্পনা হয় ৪ ডিসেম্বর সাদা পাতাকাসহ আত্মসমর্পণপত্র দেওয়া হবে কামালপুর কোম্পানি কমান্ডারকে। সে মোতাবেক ‘কে যাবে পত্র নিয়ে’--এমন আহ্বানে পাওয়া গেল না কারো সাড়া।

সময়টা ৪ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে সাতটা হবে। আত্মসমর্পণপত্র নিয়ে যেতে মুক্তিযোদ্ধাদের এহেন অনীহায় ব্রিগেডিয়ার ক্লের একটু রাগান্বিত হন। তখনই রাজী হন বকশীগঞ্জের বশীর আহমেদ। ’৭১ সালে তিনি কামালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন।

বশীরের সাহসিকতার প্রশংসা করেন ক্লের। তাকে তিনি বললেন, ‘তুমি ক্যাম্পের উত্তরে রাস্তার নিচে এমনভাবে দাঁড়িয়ে সাদা পতাকা তুলবে, যেন তোমাকে দেখা যায় কিন্তু গুলি করা না যায়।’

কামালপুর যুদ্ধে শহীদদের নামফলক।

বশীর নির্দেশনা মোতাবেক যথারীতি গিয়ে পৌঁছলেন চেক পোস্টের সামনে। বশীরকে দেখেই পাকিস্তানিরা বাংকারে পজিশন নেয়। মৃত্যুভয়কে উপেক্ষা করে আরো এগিয়ে ক্যাম্পের দেড়শ গজের মধ্যে চলে যান তিনি। পতাকা নাড়ছেন কিন্তু কেউ কাছে আসছে না। অবশেষে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে একজন কর্মকর্তা তাকে ডাকলেন। ভেতরে না গেলে যদি গুলি করে, তাই রওনা দেন বশির।

ক্যাম্পের উত্তর-পশ্চিম কোণায় গেলে ওই কর্মকর্তা তার কাছ থেকে চিঠি ও পতাকা নেন। এরপর বাংকারে নিয়ে গিয়ে বলেন,‘ঘাবড়াও মাত’।

এরপর ক্যাপ্টেন আহসান মালিক এলেন। ওই অফিসারকে বললেন, ‘বশীরের কাছে যেন কোনো সৈনিক না আসে। কেউ যেন অন্যায় আচরণ না করে।’

মুক্তিযোদ্ধা একেএম সিরাজুল ইসলাম।

কিছুক্ষণ পর পাকিস্তানি এক হাবিলদার এসে রুটি, পানি আর ডাল খেতে দিলেন। একটা রুটি খেলেনও বশীর। সাড়ে নয়টার দিকে হঠাৎ ভারতের দিক থেকে জঙ্গী বিমান এসে ক্যাম্পের পাশে বোমা ফেলে।

যদিও ভারতীয় বাহিনীর বোমা বর্ষণের উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানিদের হত্যা করা নয় বরং আত্মসমর্পণে বাধ্য করা। সেকথা তো আর বশীরের জানার কথা নয়। তাই ক্যাম্পের পাশে বোমা পড়ায় ভয়ে-আতঙ্কে দিশেহারা বশীর। বিমান হামলা হওয়ায় ভাবলেন মৃত্য অনিবার্য। ভয়ে গায়ে জ্বর এসে গেল তার।

হাবিলদারকে তিনি অসুস্থ বোধ করার কথা জানালেন। হাবিলদার কম্বল এনে দিলেন। পাশেই ছিল এক ব্যাগভর্তি রমনা সিগারেট। একটার পর একটা সিগারেট ফুঁকতে লাগলেন।

পাকবাহিনী আত্মসমর্পণ না করায় এবং বশীরও ফেরত না আসায় সোয়া তিনটার দিকে নান্দাইলের রঞ্জু নামের আরেকজন মুক্তিযোদ্ধাকে আবারো চিঠি ও সাদা পতাকা দিয়ে পাঠাল মিত্রবাহিনী। একইসঙ্গে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে সাড়ে তিনটার দিকে আবরো বোমা ফেলে ভারতীয় বিমানবাহিনী। তবে এবার বোমা ক্যাম্পের খুব কাছেই ফেলেন তারা।

মুক্তিযোদ্ধা বশীর আহমেদ বীর প্রতীক

অবস্থা বেগতিক দেখে বশীর ও রঞ্জুকে চিঠির উত্তর দিয়ে মহেন্দ্রগঞ্জ ক্যাম্পে পাঠালেন পাকসেনাদের কোম্পানি কমান্ডার আহসান মালিক। চিঠি পড়ে মহেন্দ্রগঞ্জ থেকে আত্মসমর্পণের শেষ সুযোগ দিয়ে আবারও বশীরকে পাকবাহিনীর ক্যাম্পে পাঠান মেজর জেনারেল গুরবক্স ‍সিং গিল।

বশীর ফের চিঠি নিয়ে এসে তা তুলে দেন আহসান মালিকের হাতে। এরপর বশীরের কাছে মিত্রবাহিনীর সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। ততক্ষণে গুরবক্স ‍সিং গিলের নির্দেশনায় হরদের সিং ক্লের তার সৈন্য নিয়ে পাকবাহিনীর কামালপুর ক্যাম্পের সামনে চলে এসেছেন। তাদের দেখে আহসান মালিক এগিয়ে যান। প্রায় একঘন্টা মাঠে দাঁড়িয়েই ক্লের-এর সঙ্গে কথা বলেন আহসান মালিক। এরপর আহসান ক্যাম্পে ফিরে আসার সময় বশীরকেও তার সঙ্গে পাঠান ক্লের। বশীরের সামনেই কামালপুর ক্যাম্পের সবাইকে ডেকে এনে আত্মসমর্পণ করবেন বলে জানান আহসান মালিক।

আহসান মালিক সবাইকে তার সিদ্ধান্তের কথা জানানোর পর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ১৬২ জন পাকসেনা ও রাজাকার আত্মসমর্পণ করে। এরপর মহেন্দ্রগঞ্জ থেকে ট্রাক এনে অস্ত্রসহ পাকবাহিনীর সদস্য এবং রাজাকারদের বন্দি করে নিয়ে যায় মিত্রবাহিনী। স্বাধীন হয় কামালপুর।

মুক্তিযোদ্ধা হুরমুজ আলী

কামালপুর শত্রুমুক্ত হওয়ার পর আশেপাশের এলাকাগুলো থেকে অন্যসব ঘাঁটি গুটিয়ে নিয়ে পাকসেনারা চলে যায় জামালপুর ও ময়মনসিংহে। ১১ নম্বর সেক্টরের মুক্তিবাহিনী এবং মিত্রবাহিনী মার্চ করতে করতে জামালপুর মুক্ত করে ১১ ডিসেম্বর। এরপর টাঙ্গাইল হয়ে সর্বপ্রথম ঢাকায় প্রবেশ করেন তারা।

মহেন্দ্রগঞ্জ সাব সেক্টরের গেরিলাদের একটি অংশ এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত অপারেশন চালাতেন বকশীগঞ্জ, দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর এবং সরিষাবাড়ীতেও।

মুক্তিযুদ্ধের আগে থেকেই ‘বখাটে’ হুরমুজ আলী ছিলেন নাপিত। তিনিও ওই গেরিলাদেরই একজন। ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়াশোনার পর ব্যাপক বাউন্ডুলেপনা শুরু করেন। এতে অতিষ্ট হয়ে তার পিতা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। তিনিও বকশীগঞ্জ বাজারেই শুরু করেন নরসুন্দরের পেশা।

সেই বাজারে ছিল মফিজল তালুকদারের (পরে চেয়ারম্যান) কাপড়ের বিশাল ব্যবসা। মুসলিম লীগের রাজনীতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল। একদিন তার দোকানের সকল কর্মচারির চুল কাটিয়ে নিয়ে পয়সা না দিয়ে হুরমুজকে তাড়িয়ে দেন তিনি।

এ ঘটনার কিছুদিন পরেই চলে আসে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। আর সে বছরই নতুন ভোটার হন হুরমুজ আলী। ভোটকেন্দ্রে দেখা হলে মফিজল তালুকদার তার কাছে ভোট চান। জবাবে পয়সা না দেওয়ার বিষয়টি তাকে মনে করিয়ে দিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ ঝাড়েন হুরমুজ আলী। এতে অপমানিত হন মফিজল।


মুক্তিযোদ্ধারা বাংলানিউজের সঙ্গে কথা বলছেন।

এদিকে নির্বাচনে তালুকদার জয়ী হওয়ার কিছুদিন পরই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। তিনি হয়ে যান শান্তি কমিটির সদস্য। খুঁজতে থাকেন হুরমুজকে। ভয়ে ১৯৭১ সালের ৮ মে হুরমুজ চলে যান সীমান্তের ওপারে বিএসএফ ক্যাম্পে। সেখান থেকে রিক্রুটিং সেন্টারে নাম লিখিয়ে চলে যান তোরার রংনাবার্গ প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে। এখানে প্রশিক্ষক হিসেবে পান ভারতীয় সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন কৌশিককে। তার কাছে অস্ত্র চালনা ও জঙ্গল ট্রেনিং নিয়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে এপারে এসে গেরিলা হামলায় অংশ নেন।

সামসুল আলম কোম্পানির হয়ে হুরমুজ ও তার সহযোদ্ধারা নদীপথেই ছদ্মবেশে আক্রমণ চালাতেন। এছাড়া রেকি করে মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পে খবর দেওয়ার কাজও করতেন হুরমুজরা। জুলাইয়ের শেষের দিকে একদিন কলার কাঁদি নিয়ে জগন্নাথগঞ্জ ঘাটে যান রেকি করতে। সেখানে গিয়ে বিষ মেশানো কলা বিক্রি করেন পাকসেনাদের কাছে। সে কলা খেয়ে ১৮ পাকসেনার মৃত্যু হয়। এভাবে বাহাদুরাবাদ ঘাটেও তিনি কলা বিক্রি করে বেশ কয়েকজন পাকসেনাকে হত্যা করেন।

১১ নম্বর সেক্টরে মহেন্দ্রগঞ্জ ক্যাম্প থেকেই বেশিরভাগ সময় গেরিলা‍যুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে। আর এই যোদ্ধাদের তৈরি করেছিলেন বিএসএফ এর হাবিলদার ধন বাহাদুর শাস্ত্রী ও মহেন্দ্রগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি কামন্ডার ক্যাপ্টেন নিয়োগী। দুইজনই যেমন আন্তরিক, তেমন চৌকস ছিলেন। এখানে প্রশিক্ষণের পর কাউকে যোগ্য মনে হলে তাদের উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য রংনাবার্গেও পাঠাতেন তারা।

বশীর আহমেদ (বীর প্রতীক), বকশীগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সিরাজুল ইসলামসহ হাজারো মুক্তিযোদ্ধা এখানেই প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তবে জঙ্গল ট্রেনিং এর জন্য পরে সিরাজুল ইসলামকে তোরায় পাঠানো হয়েছিল। যদিও দু-একটি যুদ্ধে অংশ নেওয়ার পরই তাকে মহেন্দ্রগঞ্জ ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের পে-বিল তৈরি ও রেশন বণ্টনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের মাসে ৫০ টাকা করে দেওয়া হতো।

যারা ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন:
বকশীগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা বশীর আহমেদ (বীর প্রতীক), মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম ও হুরমুজ আলী।


সহযোগিতায়:

** ভোগাই নদীর ওপাড় থেকে তেলিখালী, চেলাখালী
** আমীর ডাকাতের বাড়িতে থেকে চরাঞ্চলে গেরিলা আক্রমণ
** তোরা, তেলডালা থেকে মুজিব ক্যাম্প
** পাকবাহিনীর ওপর গারো-হাজংদের প্রতিশোধের আগুন


বাংলাদেশ সময়: ০৮০০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৯, ২০১৬
ইইউডি/জেএম/

পিলখানা ট্রাজেডির ৯ বছর
সাতক্ষীরায় দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে হেলপার নিহত
রাজনৈতিক বৈরিতা ভুলে মিনুর পাশে লিটন
বরিশালে আলু বোঝাই ট্রাক উল্টে খাদে
আশুলিয়ায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার
সৈয়দপুরে আবাদি জমিতে গড়ে উঠছে ইটভাটা
বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু হ্যারিসনের জন্ম
প্রেমে ভুল বোঝাবুঝি মিথুনের, রাগ সামলান সিংহ
যতো ভালোবাসা গম্ভীরায়
ট্রেনের ছাদে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত




Alexa