‘পাকিস্তান বাগান’: একাত্তরের অরক্ষিত বধ্যভূমি

আসিফ আজিজ, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: মানজারুল ইসলাম-বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

এখনও মাটি খুঁড়লে কেঁদে ওঠেন একাত্তরে বাংলার সূর্যসন্তানরা।পাকিস্তান আমল থেকেই জঙ্গলাকীর্ণ সেই জায়গায় কিছু ঘর উঠলেও জংলি ভাব রয়েই গেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: এখনও মাটি খুঁড়লে কেঁদে ওঠেন একাত্তরে বাংলার সূর্যসন্তানরা।পাকিস্তান আমল থেকেই জঙ্গলাকীর্ণ সেই জায়গায় কিছু ঘর উঠলেও জংলি ভাব রয়েই গেছে। ৭ নম্বর সেক্টরের তিন নম্বর সাব-সেক্টর মেহেদিপুরের আওতাধীন শিবগঞ্জ উপজেলায় এর অবস্থান। উপজেলা চত্বরেই ছিল পাকিস্তানিদের ক্যাম্প। আর ক্যাম্প থেকে এ বাগানের দূরত্ব কিলোমিটারখানেক। নাম ‘পাকিস্তান বাগান’।
শিবগঞ্জ মহিলা কলেজের ঠিক উল্টো পাশে পূর্বদিকের সেই পাকিস্তান বাগান এখন আবাসিক এলাকা। সবটাই এখন ব্যক্তি মালিকানাধীন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহ সীমান্তের এপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ । ভারত থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকা পাগলা নদের একটি শাখা (‘খাল’) ছুঁয়ে গেছে পাকিস্তান বাগানকে। বাগান এখনও আছে, আছে সেই বাঁশঝাড়, ডোবা।

 

শিবগঞ্জ পাকিস্তানি ক্যাম্পের পূর্বে ছিল আরও একটি রাজাকার ক্যাম্প কলাবাড়ি। মুক্তিযোদ্ধাদের সাব-সেক্টর সোনা মসজিদ ছিল মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প। শিবগঞ্জ ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পক্ষের মানুষদের এনে হত্যা করে ফেলে দেওয়া হতো পাকিস্তান বাগানে। কখনও আবার এখানে এনেই করা হতো হত্যা।

খালপাড়, বাগান, বাগানের পাশের ডোবা যুদ্ধের পুরোটা সময়জুড়েই থাকতো রক্তাক্ত অথবা পচা লাশের উৎকট দুর্গন্ধে ভরপুর। পাকিস্তানিরা এতো বেশি মানুষ এখানে এনে হত্যা করতো যে, আশপাশের মানুষজন আতঙ্কে এলাকাছাড়া হয়। ৩০-৪০ কাঠা জায়গাজুড়ে ছিল তাদের বর্বরতার চিহ্ন ছড়ানো।

 

স্বাধীনতার পর কেটে গেছে বহু-বহু  বছর। আজও শিবগঞ্জ উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্রের সেই বধ্যভূমি এলাকার নাম রয়ে গেছে ‘পাকিস্তান বাগান’। ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির উপর উঠেছে বড় বড় বিল্ডিং। কিছু জায়গা আজও রয়ে গেছে তেমনই জঙ্গলাকীর্ণ। সেই ডোবা বুজে হয়ে গেছে কিছুটা ছোট। খালটি স্রোতহীন, মরা।

যারা এখানে বাড়ি করেছেন প্রত্যেকেই পেয়েছেন অসংখ্য বাঙালির হাড়গোড়, মাথার খুলি।

বধ্যভূমিটি পুরোপুরি অরক্ষিত। নামও সবাই জানে না। জানে না এখানে সেদিন কি হয়েছিলো। এমন তথ্যই জানাচ্ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান, ইসহাক মিয়া,’পাকিস্তান বাগান’বাসী মো. রাহাতুজ্জামান।

আমবাগান বধ্যভূমি
আম ছাড়া অন্য কোনো গাছ খুঁজে পাওয়া মুশকিল চাঁপাইনবাবগঞ্জে! পাকিস্তান বাগান থেকে অর্ধকিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে আরও একটি অরক্ষিত বধ্যভূমি। সেটা ইসলামি একাডেমি মসজিদ সংলগ্ন আমবাগানে।
স্থানীয়দের ভাষ্যে কয়েকশো বছর ধরেই এ এলাকায় এমন আমবাগান রয়েছে। যুদ্ধের সময় আমবাগান ছিলো শিবগঞ্জ ক্যাম্পের পাকসেনাদের আরেকটি বধ্যভূমি। পাকিস্তান বাগানের পর সবচেয়ে বেশি মানুষকে হত্যা করা হয় এ আমবাগানে।

সহযোগিতায়:

আরও পড়ুন:

** জকিগঞ্জ মুক্ত করতে জীবন দিলেন চমনলাল
** শরণার্থীদের মধ্যে তৈরি হলো ভৌতিক কলেরা মিথ
** পীরবাবা সেজে রেকি করে শিকারপুর-কাজিপুর সীমান্তে যুদ্ধ
** মুক্তিযোদ্ধাদের ঢাল ছিলো সীমান্ত-নদী বেতনা
** সুন্দরবন সীমান্তঘেঁষে হরিনগর-কৈখালীর নৌযুদ্ধ
** দেয়ালে গুলির ক্ষত, এখনও আছে সেই শিয়ালের ভাগাড়
** পারিবারিক গণকবরের সীমান্তগ্রাম
** মল্লযুদ্ধেই মুক্ত সীমান্তগ্রাম মুক্তিনগর
** আস্তাকুঁড়ে পড়ে আছে যুদ্ধস্মৃতির ভক্সেল ভিভার


বাংলাদেশ সময়: ০৮০০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৯, ২০১৬
এএ/জেএম/

শিল্পাঞ্চল ও বিভাগীয় শহরে নতুন শিল্পকারখানা নয়
সোনার বাংলা গড়তে হলে আলোকিত মানুষ হতে হবে
এডিনবরায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত 
শ্রীদেবীর শেষকৃত্য সোমবার
উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের দুঃখগাঁথা শুনলেন তিন নোবেলজয়ী
কারাগারে খালেদাকে দেখে এলেন বোনসহ চার স্বজন
মহাখালীতে অজ্ঞাত ব্যক্তির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ উদ্ধার
নরসিংদীতে ২ মরদেহ উদ্ধার
তালতলী ২০ শয্যা হাসপাতালে আন্ত ও বহির্বিভাগ চালু
বইমেলায় বাড়ছে ডিজিটাল বই




Alexa