ভোগাই নদীর ওপাড় থেকে তেলিখালী, চেলাখালী

ইকরাম-উদ দৌলা, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: শাকিল আহমেদ, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

১৯৭১ সালের ২ নভেম্বর। এদিন সন্ধ্যার পর থেকেই মেঘালয়ের ডালু ক্যাম্প হয়ে বাঘমারার যাত্রকোণা বর্ডার দিয়ে নামতে শুরু করেন গেরিলারা।

গারো পাহাড়ের পাদদেশ: ১৯৭১ সালের ২ নভেম্বর। এদিন সন্ধ্যার পর থেকেই মেঘালয়ের ডালু ক্যাম্প হয়ে বাঘমারার যাত্রকোণা বর্ডার দিয়ে নামতে শুরু করেন গেরিলারা। তাদের কভারিং ফায়ারের জন্য ডালুর উত্তরে মাচাংপানিতে প্রস্তুত ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর আর্টিলারি ডিপো। উদ্দেশ্য হালুয়াঘাটের পশ্চিম দিকের শেষ সীমানায় পাকবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ক্যাম্প ‘তেলিখালী সীমান্ত ফাঁড়ি’ আক্রমণ।

সন্ধ্যার পরপরই গেরিলাদের দুটি দল ফাঁড়ির দুই দিকে অর্থাৎ একটি বাঘাইতলা, আরেকটি কড়াইতলীতে অবস্থান নেয়। আর মধ্যরাতের আগেই তারা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে তেলিখালী পাক বাহিনীর ক্যাম্প ঘিরে অবস্থান নেন। ক্যাম্পের সামনেই রাস্তা, পুব থেকে পশ্চিম দিকে চলে গেছে। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে মেঘালয় থেকে নেমে আসা তেলিখালী নদী। মূলত: রাস্তা ও নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত সীমান্ত ফাঁড়ি।

ক্যাম্পের পূর্বপাশে এসএমজি (শর্ট মেশিন গান) নিয়ে নদীর পাড় ধরেই অবস্থান নেন নালিতাবাড়ীর তারানী গ্রামের হায়দার আলী। ১১ নম্বর সেক্টরে তারা ১৬০ জন সিরাজ কোম্পানির হয়ে যুদ্ধে অংশ নেন। হায়দারের পাশেই ছিল তন্তরের আব্বাস সরকারের ছেলে ইদ্রিস আর ফুলপুরের মেজবাহ।
মেঘালয় থেকে নেমে আসা ভোগাই নদীর এপাড়ে বাংলাদেশ। ওপাড়েই মুক্তিযুদ্ধের সময় সাধারণ মানুষ আশ্রয় নিতেন। মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা চলাচল করতেন এ পথ ধরে।

এ যুদ্ধের নেতৃত্ব দেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার সানসিং বাবাজী। সারারাত ধরে প্রস্তুতি নিয়ে শেষ রাতে আক্রমণে যান গেরিলারা। শুরু হয় দু’পক্ষে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ।

ভারতীয় বাহিনী ও পাকবাহিনী পাল্টাপাল্টি মর্টারের শেল ছোঁড়ে। সঙ্গে চলতে থাকে সম্মুখযুদ্ধও। এক সময় ইদ্রিস আর ফুলপুরের মেজবাহ আহত হন। নিহতও হন অনেকে। সকাল আটটা পর্যন্ত টানা যুদ্ধ চলে। আচকিপাড়ার প্রদীপ কুমার চিশিমও ফায়ার করতে করতে এক সময় ক্যাম্পের কাছে চলে আসেন। তাদের সঙ্গে বিএসএফের (ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর) সদস্যরাও লুঙ্গি, গামছা পরে গেরিলা সেজেই আসেন। যুদ্ধের প্রচণ্ডতায় পাকবাহিনী এক সময় ময়মনসিংহের দিকে পালিয়ে যায়।

সেদিন মিত্রবাহিনীর ২২ জন এবং ৭ গেরিলাযোদ্ধা নিহত হন। আর দুই শতাধিক পাকসেনা ও রাজাকার মারা যায়। ফাঁড়ির বাংকারে পাওয়া যায় ৬ যুবতীর মরদেহ।

এই ফাঁড়ি দখলের পর প্রায় বিনা বাধায় হালুয়াঘাটের ভেতরে ঢুকে পড়েন গেরিলারা। প্রায় ১ মাস যুদ্ধের পর ৭ ডিসেম্বর মিত্রবাহিনীর সহায়তায় হালুয়াঘাট শত্রুমুক্ত হয়।

২৬ মার্চ রাতেই এক বাঙালি ইপিআর সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে রামচন্দ্রকুড়া ক্যাম্পের কমাণ্ডার পাকিস্তানি লালা হাবিলদারকে এবং ১ জন সিপাহীকে হত্যা করেন হায়দার আলী। ওইরাতেই হাতিপাগার সীমান্ত ফাঁড়িতে দুই সিপাহীকে হত্যা করেন। এরপর সীমান্ত পেরিয়ে তোরায় গিয়ে ২৬ দিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে চলে আসেন ডালু ক্যাম্পে। সেখান থেকে সিরাজ কোম্পানির হয়ে যুদ্ধ করেন তন্তর, পানিহাতা, সোহাগপুর, বারমারী, তেলিখালী ও ধানুয়া কামালপুরে।

বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের সীমান্তবর্তী মেঘালয় রাজ্যের পাহাড় ও তা থেকে নেমে আসা ঢাল এবং এর সন্নিহিত সমতল এলাকা গারো পাহাড়ের পাদদেশ নামেই পরিচিত। যা বাংলাদেশ অংশে নেত্রকোণার দুর্গাপুর-বিরিশিরি থেকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, শেরপুরের নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতি হয়ে জামালাপুরের বকশিগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত। মুক্তিযুদ্ধের সময় অঞ্চলটি ১১ নম্বর সেক্টরের অধীন ছিল।

গারো পাহাড়ের ঠিক ওপরেই ভারতের ডালু নামক স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প ছিল। ডালুর পাশ দিয়েই বয়ে গেছে মেঘালয়ের উত্তরাংশ থেকে নেমে আসা ভোগাই নদী। যা শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে তন্তরের গা ঘেঁষে নাকুগাঁও হয়ে বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকেছে। কিছুদুর গিয়ে যা কংস নামে ফুলপুর হয়ে চলে গেছে নেত্রকোণার দিকে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় মাইন বিস্ফোরিত হয়ে নিহত বারমারী মিশনের সিস্টার ইম্মান্যুয়েলস এর কবর।

এ অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধারা মেঘালয়ের তোরা জেলায় রংনাবার্গে গেরিলাযুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়ে ডালু ক্যাম্পে অবস্থান নিতেন। সেখান থেকে ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় বিভিন্ন কোম্পানির হয়ে খন্দকপাড়া, যাত্রাকোণা হয়ে ভোগাই নদীর এপাড়ে নেমে আসতেন।

তন্তরের গা ঘেঁষে চলা ভোগাই নদীর ওপাড়েই মুক্তিবাহিনীদের খন্দকপাড়া ক্যাম্প। তার এপাড়ে তন্তর ও আশেপাশের এলাকার ফাঁড়িগুলোতে ব্যাপক লোকবল নিয়ে এপ্রিলের শেষেই চলে আসে পাকসেনারা।

চার্চ অব বাংলাদেশ, সেইন্ট অ্যানন্ড্রুজ পানিহাতা মিশনটির অবস্থান খন্দকপাড়ার ঠিক নাক বরাবর ভোগাইয়ের এপাড়ে, প্রায় আড়াই হাজার ফুট উঁচু পাহাড়জুড়ে। এখানেই মুক্তিযুদ্ধের সময় কর্মরত ছিলেন ব্রাদার নৃপেনচন্দ্র সরকার। তার বাড়ি বরিশালে।

মিশনের অল্প দূরেই রামচন্দ্রকুড়া সীমান্তফাঁড়িতে ঘাঁটি করে এপ্রিলেই হত্যাযজ্ঞ শুরু করে পাকবাহিনী। মুক্তিবাহিনী খন্দকপাড়া থেকে এসে মিশনের উপরে, পেছনে আশ্রয় নেয়।

আবু সাঈদ আবুল মাস্টার মিশনের স্কুলেই তখন পঞ্চম শ্রেণীতে পড়তেন। সেদিন ছিল মে মাসের প্রথম বা দ্বিতীয় দিন। গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। পাকবাহিনীর হত্যাযজ্ঞ থেকে বাঁচতে মিশনের পেছনে ভোগাই নদীর পাড়ে লুকিয়ে ছিলেন। একটু পরই কিছু সাধারণ মানুষ মিশনের উপর থেকে হাঁপাতে হাঁপাতে পাহাড় বেয়ে নিচে নামেন। তারাই তাকে জানান, মিশনের ব্রাদারকে পাহাড়ের উপরে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করেছে পাকবাহিনী। পুরো যুদ্ধের সময় তার মরদেহ বাসভবনের সামনেই পড়ে ছিল। যুদ্ধ শেষ হলে মিশনের পাদদেশেই তাকে কবর দেওয়া হয়।
পাকবাহিনীর হাতে নিহত নালিতাবাড়ীর সেইন্ট অ্যানন্ড্রুজ পানিহাতা মিশনের ব্রাদার নৃপেন চন্দ্র সরকারকে এখানেই কবর দেওয়া হয়। কবরের জায়গা দেখাচ্ছেন মিশনের শিক্ষক আবু সাঈদ আবুল মাস্টার।

মে মাসেই তারানী ও পানিহাতা সীমানায় একটি বেল গাছের নীচে একসঙ্গে ১১ জনকে ব্রাশ ফায়ারও করে পাকসেনারা। এর মধ্যে নয়জন মারা যায়। দুইজন বেঁচে যান। যাদের একজন সাঈদ আবুল মাস্টারের চাচা আবুল হোসেন। অন্যজন বাবা সফির উদ্দীন। এরপর তারা আমপাতি শরণার্থী শিবিরে চলে যান। সেখান থেকে ১৯৭২ সালের জানুয়ারিতে দেশে ফিরে আসেন।

এ এলাকায় পাকিস্তানিদের শক্ত ঘাঁটি থাকায় নভেম্বর পর্যন্ত গেরিলা যুদ্ধ চলে। আর মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করায় স্থানীয়দের ওপর চলে নির্মম অত্যাচার-নির্যাতন আর হত্যাযজ্ঞ।

২৫ জুলাই সকালে তন্তরের অদূরে কাকরকান্দি ইউনিয়নের সোহাগপুর গ্রামে নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ শুরু করে হানাদার সেনারা। এতে প্রাণ হারায় শিশুসহ ১৮৭ জন। ওইদিন বিধবা হন ৪০ নারী। এর আগে ২৫ মে পাকসেনারা নাকুগাঁও সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢুকে পড়ে ৯ জন ভারতীয়সহ কয়েকশ বাঙালিকে হত্যা করে।
আমবাগানের মুক্তিযোদ্ধারা বাংলানিউজের সঙ্গে কথা বলছেন।

এদিকে বারমারী সীমান্ত ফাঁড়ি থেকে পাকবাহিনীর টেলিফোনের তার পাহারা দেওয়ার কাজ নিয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের সোর্স মোহাম্মদ আকবর আলী। ৭ জুন রাতে খবর দিলেন পরের দিন পাকআর্মি অফিসার ক্যাম্পে আসবে। এ তথ্যের ভিত্তিতেই গেরিলারা আকবরকে সাথে নিয়ে মাইন পাতলেন। মাহমুদ মেম্বারের (ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য) বাড়িতে লজিং থাকতেন আজিম উদ্দীন। তিনি ও কিশোরগঞ্জের এক তরুণ মাইন পাতেন বেকিকুড়া ব্রিজের উত্তর পাশে। পলাশীকুড়া স্কুলের একটু সামনে।

৮ জুন সকালে পাক আর্মি অফিসারের গাড়ি স্কুলের সামনে আসতেই নষ্ট হয়ে যায়। তিনি হেঁটেই বারমারি ক্যাম্পে যান। কিন্তু ওষুধ শেষ হওয়ায় দুপুরের দিকে বারমারী ক্যাথলিক মিশনের সিস্টার ডা. ইম্মানুয়েলস তার সাদা গাড়ি নিয়ে রওনা হন জামালপুরে উদ্দেশ্যে। গাড়ি ক্যাম্পের কাছে আসতেই তাতে ওঠে ওই পাক সেনা কর্মকর্তা ও কয়েকজন সৈন্য। পলাশীকুড়া স্কুল পেরিয়ে গাড়ি ব্রিজের কাছে আসতেই বিকট শব্দে মাইন বিস্ফোরিত হয়। সঙ্গে সঙ্গেই মারা যান সিস্টার ইম্মানুয়েলস, যিনি ড্রাইভার টমাস চিশিমের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের ওষুধ দিয়ে, খাবার দিয়ে সহায়তা করতেন। ইম্মানুয়েলসকে পরে মিশনের ওপরেই কবর দেওয়া হয়। তিনি ছিলেন ফ্রান্সের নাগরিক।
মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন (মাঝে) ও তাদের সোর্স আকবর আলী (ডানে)।

এরপর গেরিলারা মাইন পেতে রাখত কি না পরখ করতেই, রাতে বারমারী ক্যাম্প থেকে চেলাখালী ব্রিজ পর্যন্ত টহলের ব্যবস্থা করে পাকিস্তানি আর্মিরা। সোর্সের খবরে একদিন রেকি করা হয়। সে অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষের অ্যামবুশ করার সিদ্ধান্ত নেন গেরিলারা।
এক্ষেত্রে আমবাগান বাজারের পশ্চিম পাশে আদম আলীর বাড়ীতে অবস্থান নেবেন মকবুল হোসেন ও ২০ সহযোদ্ধা গেরিলা । তাদের কভারিং ফায়ার দেবে ভারতীয় আর্টিলারী বাহিনীর ১০ জোয়ান। একরাতে মকবুল হোসেনরা এসএলআর, এসএমজি নিয়ে প্রস্তুত। তখন ভোর রাত। ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে পাক আর্মির খোলা জিপ গাড়ি। তাতে আনন্দ-উল্লাস করছিল ১০ পাকিস্তানি সেনা। জিপ গাড়ি আদম আলীর বাড়ি ক্রস করবে, এমন সময় শুরু হল এলএমজি’র এলোপাতাড়ি গুলি। সঙ্গে সঙ্গে মারা যায় ৮ পাকসেনা। আর আহত অবস্থায় পালিয়ে যায় দুই জন। এরপর তাদের অস্ত্র নিয়ে ভারতের ডালু ক্যাম্পে ফিরে যান গেরিলারা।

বারমারীতে মকবুল হোসেনদের এটাই ছিল সবচেয়ে বড় যুদ্ধ। এরপর ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের কাজ ছিল ব্রিজ ভাঙ্গা, রাস্তা ভাঙ্গা বা অচল করা আর পাকসেনাদের  ব্যতিব্যস্ত রাখা। ৪ ডিসেম্বর থেকে মিত্রবাহিনী আক্রমণ করলে ৭ ডিসেম্বর শত্রুমুক্ত হয় নালিতাবাড়ী। এদিনই সীমান্তবর্তী শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতি মুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে শেরপুরও মুক্ত হয়।

যারা বর্ণনা করেছেন:
মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন, সোর্স আকবর আলী, বারমারী মিশনের ড্রাইভার টমাস চিশিমের ছেলে প্রদীপ, মিশনের বর্তমান ব্রাদার ভেরিওয়েল চিশিম, পানিহাতা মিশনের মাস্টার আবু সাঈদ, তারানী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আলী ও হালুয়াঘাটের আচকিপাড়ার মুক্তিযোদ্ধা প্রদীপ কুমার চিশিম।


সহযোগিতায়:

** আমীর ডাকাতের বাড়িতে থেকে চরাঞ্চলে গেরিলা আক্রমণ
** তোরা, তেলডালা থেকে মুজিব ক্যাম্প
** পাকবাহিনীর ওপর গারো-হাজংদের প্রতিশোধের আগুন

বাংলাদেশ সময়: ০০০১ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৬
ইইউডি/জেএম/

পিলখানা ট্রাজেডির ৯ বছর
সাতক্ষীরায় দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে হেলপার নিহত
রাজনৈতিক বৈরিতা ভুলে মিনুর পাশে লিটন
বরিশালে আলু বোঝাই ট্রাক উল্টে খাদে
আশুলিয়ায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার
সৈয়দপুরে আবাদি জমিতে গড়ে উঠছে ইটভাটা
বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু হ্যারিসনের জন্ম
প্রেমে ভুল বোঝাবুঝি মিথুনের, রাগ সামলান সিংহ
যতো ভালোবাসা গম্ভীরায়
ট্রেনের ছাদে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত




Alexa