আমীর ডাকাতের বাড়িতে থেকে চরাঞ্চলে গেরিলা আক্রমণ

ইকরাম-উদ দৌলা, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ফটো: শাকিল আহমেদ- বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ। চারদিকে থমথমে পরিস্থিতি। এদিন সকালেই সুবেদার হাকিম বাড়িতে এসে জামালপুরে নিয়ে যান ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে পালিয়ে আসা হাবিলদার মোয়াজ্জেম হোসেনকে।

গারো পাহাড়ের পাদদেশ: ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ। চারদিকে থমথমে পরিস্থিতি। এদিন সকালেই সুবেদার হাকিম বাড়িতে এসে জামালপুরে নিয়ে যান ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে পালিয়ে আসা হাবিলদার মোয়াজ্জেম হোসেনকে। পাক সেনাদের আক্রমণ শুরু হওয়ায় স্থানীয় ছাত্র-শিক্ষক-জনতাকে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়াই লক্ষ্য। শহরের চাপাতলায় সাত দিনে ১ হাজার ছেলেকে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দেন তারা। এরপর নন্দীর বাজারে এসেও ১ হাজার জনকে প্রশিক্ষণ দেন।

পাকি বাহিনী জামালপুরে হত্যাযজ্ঞ শুরু করলেও ফয়েজুর কোম্পানির সঙ্গে এক হয়ে মোয়াজ্জেম হোসেনরা মে মাসের মাঝামাঝিতে ফেরিঘাটের পাওয়ার হাউজে হামলা চালান। ওটাই মুক্তিযুদ্ধে তাদের প্রথম সশস্ত্র আক্রমণ।
 ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলে গেরিলা আক্রমণ করতেন মুক্তিযোদ্ধারা
এরপরই তারা চলে যান কামারের চরে। সেখানে থেকে মে মাসের শেষদিকে সরকারি পাট গুদাম জ্বালিয়ে দেন তারা। সেটা প্রায় একমাস ধরে জ্বলতে থাকে। অবস্থা সুবিধার না হওয়ায় সেখান থেকে জুন মাসের শুরুতেই সোজা চলে যান ইসলামপুরের ডিগ্রির চরে। তারা আমীর ডাকাতের কাছে আশ্রয় নেন। খুব ভয়ঙ্কর লোক, তবে মুক্তিযোদ্ধা। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের অবস্থান টের পেয়ে একদিন চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। দেওয়ানগঞ্জ, বকশিগঞ্জ আর ইসলামপুর থেকে সৈন্য নিয়ে এসে আক্রমণ চালায়। ফলে ওখান থেকে পিছু হটে আবার সাত নম্বর চরে আসেন। সাত নম্বর চর শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কামারের চর ইউনিয়নের একটি এলাকা। সেখানে চেয়ারম্যান বাড়িতে আশ্রয় নিলে পরের দিন রাতেই সেটাও পুড়িয়ে দেয় পাকিস্তানি বাহিনী। তখন ফুলকার চর ব্রিজ উড়িয়ে দেন মোয়াজ্জেমরা। হানাদার বাহিনীর যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস করতেই এটা করেছিলেন তারা।
 ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলে গেরিলা আক্রমণ করতেন মুক্তিযোদ্ধারা
পাকবাহিনী প্রথম থেকেই বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তে ব্যাপক শক্তি নিয়োজিত করেছিল। সে সময় গারো পাহাড়ের পাদদেশ বলে খ্যাত নেত্রকোণার দূর্গাপুর-বিরিশিরি থেকে শুরু করে হালুয়াঘাট, নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতি হয়ে শ্রীবরদী, বক্সীগঞ্জ পর্যন্ত সীমান্ত ফাঁড়িগুলোতে (বিওপি) ছিল তাদের ক্যাম্প।

বকশীগঞ্জের কামালপুরের ওপারেই হচ্ছে ভারতের মহেন্দ্রগঞ্জ। সেই পথ দিয়ে মুক্তিবাহিনী বাংলাদেশে প্রবেশ করে খুব সহজেই ঢাকায় পৌঁছতে পারতো। এজন্য সমর কৌশলের দিক থেকে পাকবাহিনী ও মুক্তিবাহিনী দু’পক্ষের কাছেই কামালপুরের গুরুত্ব ছিল অনেক।

জামালপুর ব্যাটেলিয়ন সদর দফতর থেকে মেলান্দহ, ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ অর্থা্ৎ উত্তর-পশ্চিম দিক দিয়ে বকশীগঞ্জ পৌঁছতে পারতো পাকবাহিনী। তবে দেওয়ানগঞ্জ থেকে বকশীগঞ্জ যেতে কিছুটা নদীপথ পেরুতে হয় বলে সেটা খুব একটা মাড়াতো না তারা। আরেকটি পথ শ্রীবরদী দিয়ে। এপথ আবার দু’ভাবে ব্যবহার করা যায়। একটি সরাসরি শ্রীবরদীর ভেতর দিয়ে, অন্যটি শ্ররবর্দী ঝগড়ার চর, ফুলকার চর হয়ে বকশীগঞ্জ। জামালপুর থেকে দেওয়ানগঞ্জ হয়ে বকশীগঞ্জ এবং জামালপুর থেকে শ্রীবরদী হয়ে বক্সীগঞ্জ, এ দু’টি পথের মাঝের যে এলাকা, সেটাই হচ্ছে ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চল।

আমীর ডাকাতের বাড়িতে থেকে মোয়াজ্জেমরা যখন গেরিলা হামলার মাধ্যমে পাক বাহিনীর যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে কামালপুরের দিকে এগুচ্ছেন, তখন সেদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধারাও দক্ষিণে এগুচ্ছেন। সেসময় ভারতের আর্মির ক্যাপ্টেন নিগি আর ধন বাহাদুর নেতৃত্ব দিতেন। এভাবে গেরিলা হামলা করতে করতে ফয়েজুর কোম্পানি মহেন্দ্রগঞ্জ গিয়ে পৌঁছায় জুলাইয়ের শেষ দিকে।

আগস্টে এ অঞ্চলকে নিয়ে গঠন করা হয় ১১ নম্বর সেক্টর। দায়িত্ব নেন তৎকালীন মেজর তাহের। মহেন্দ্রগঞ্জকে করা হয় সেক্টর হেড কোয়ার্টার। মহেন্দ্রগঞ্জ আবার সাবসেক্টরগুলোরও একটি। মোয়াজ্জেম হোসেন মহেন্দ্রগঞ্জ সাবসেক্টরেরই হাবিলদার মেজর হিসেবে দায়িত্ব পান। এ সাবসেক্টরের অধীনে তখন ২৫টির মতো কোম্পানি।
মুক্তিযোদ্ধা ইউনুস হারুণ।
পাকবাহিনীর ব্যাটেলিয়ন হেড কোয়ার্টার জামালপুরের সঙ্গে বকশীগঞ্জের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর জুড়ে প্রায় সব ব্রিজ ভেঙ্গে ফেলেন গেরিলারা। এছাড়া ট্যাংকবিধ্বংসী মাইন পুঁতে, অ্যামবুশ করে রাস্তা ব্লক করে দেওয়া হয়। মেজর তাহের একই পরিকল্পনা গ্রহণ করেন বকশীগঞ্জ থেকে কামালপুর রুটেও। কেননা, জামালপুর থেকে বকশীগঞ্জ থানায় বেজ ক্যাম্প করে কামালপুর বিওপিতে শক্তি নিয়োগ করেছিল পাকিস্তান বাহিনী। সেখান থেকেই যেত রেশন, রসদ ও গোলা-বারুদ।

এদিকে দেওয়ানগঞ্জ থেকে বকশীগঞ্জের নৌ-রুটে চলতো পাকবাহিনীর স্পিডবোট। ঝগড়ার চরের ইউনুস হারুণ ও তার ১১ সহযোগীর অ্যামবুশে বন্ধ হয়ে যায় সে পথও। এরপর মহেন্দ্রগঞ্জ ক্যাম্পে অবস্থান করে বিস্ফোরকের ওপর প্রশিক্ষণ নেওয়া ইউনুসরা প্রতিদিনই কামালপুরে হামলা করতেন। এর আগে ট্রেনিং শেষ করে তারা জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র, যমুনা হয়ে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন ব্রিজ ভাঙ্গার সফল অপারেশন করেন।

অক্টোবরের প্রথম দিকে ইউনুস হারুণের ওপর দায়িত্ব আসে কালীহাতি ব্রিজ উড়িয়ে দেওয়ার। সে মোতাবেক সহযোগী ১১ যোদ্ধাকে নিয়ে ২ অথবা ৩ অক্টোবর সন্ধ্যার পর মহেন্দ্রগঞ্জ সেক্টর হেডকোয়ার্টার থেকে রওনা হন নদীপথে। ব্রহ্মপুত্রের কূল ঘেঁষে বকশীগঞ্জ, দেওয়ানগঞ্জ হয়ে জামালপুরের বেলগাছায় পৌঁছলে হঠাৎ নজরে আসে, দূরে একটি আলোর ঝলাকানি। থেকে থেকে জ্বলে আর নেভে। কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণের পর ইউনুসরা বুঝতে পারেন, ওটা আসলে ধেয়ে আসা কোনো নৌকা থেকে ফেলা টর্চ লাইটের আলো। সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক হয়ে তারা নদীর এক বাঁকে নৌকা ভিড়িয়ে লুকিয়ে পড়েন। কিছুক্ষণপর তাদের অদূরেই এসে ভেড়ে সেই নৌকাও।

ইউনুস তার সহযোদ্ধাদের একজনকে সেই নৌকায় কি আছে, খবর নিয়ে আসতে বলেন। তিনি গিয়ে দেখতে পান নৌকাবোঝাই অস্ত্র। লোকগুলো সবাই রাজাকার। হাসি-ঠাট্টা করতে করতে হাতিয়ার ছাড়াই একে একে তীরে উঠে আসছে। এ খবর শুনে ইউনুস তাদের অ্যামবুশে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। এরই মধ্যে প্রস্রাব করতে একসঙ্গে সব রাজাকার তীরে উঠে আসে। সুবিধা হয় মুক্তিযোদ্ধাদের। ক্রলিং করে নদী কিনার ধরেই তারা চলে যান রাজাকারদের নৌকার কাছাকাছি। তিনটি ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে তারা পজিশন নেন। যাতে কেউ পালাতে না পারে। দশ-পনের মিনিট পর রাজাকাররাও নৌকায় ওঠার জন্য চলে আসে তাদের থাবার মধ্যে। সঙ্গে সঙ্গে গর্জে ওঠে হাতিয়ার। মুর্হুতেই মারা যায় ১৭ রাজাকার।
মুক্তিযোদ্ধা মোয়াজ্জেম হোসেন।
রাজকারদের কাছ থেকে পাওয়া অস্ত্রগুলো নিয়ে ইউনুসরা ছোটেন কালীহাতি ব্রিজের দিকে। দুইদিন পর সন্ধ্যার দিকে সেখানে পৌঁছেন। কিন্তু এবার তারা নিজেরাই পড়ে যান অ্যামবুশে। কেননা, কালীহাতি ব্রিজের উপর এবং আশেপাশে পাকবাহিনী সব সময় অস্ত্র নিয়ে পজিশনে থাকতো এটা তারা জানতেন না। ব্রিজের একাবারে কাছাকাছি পৌঁছতেই পাকবাহিনী অতর্কিত গুলি চালাতে থাকে। একেবারে বৃষ্টির মতো। ব্যাপক গুলিবর্ষণের কারণে উপায়ান্তর না দেখে পিছু হটেন মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা। নৌকা ফেলে যে যার মতো নদীপথেই চলে যান। ইউনুসের সাথে তার ১১ সহযোদ্ধার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নদীতে ভেসে, সাঁতরিয়ে কয়েক ঘন্টা পর এক চরে গিয়ে ওঠেন তিনি। সেখানে ছোট্ট একটা ঘর। এক মাঝি তার বউকে নিয়ে থাকেন। ইউনুস সেই মাঝির সহায়তা নিয়ে রাতেই রওনা হন টাঙ্গাইলের কাদের সিদ্দিকীর গড়া বাহিনীর (কাদেরিয়া বাহিনী) সঙ্গে দেখা করতে। কয়েক ঘন্টা চলার পর এক চরে কাদেরিয়া বাহিনীর লোকেরাই ইউনুসকে আটকায়। সব খুলে বলার পর তারা কাদের সিদ্দিকীর কাছে তাকে নিয়ে যায়। সেখানেই প্রায় সাতদিন অবস্থান করেন ইউনুস।

কালীহাতি ব্রিজ উড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ায় অবশেষে তিনি মির্জাপুর ব্রিজ উড়িয়ে দেবেন বলে পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা শুনে কাদের সিদ্দিকীও কিছু লোকবল দিতে রাজি হন। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মাঝামাঝি এক সন্ধ্যায় তারা মির্জাপুর ব্রিজের নিচে অবস্থান নেন। ব্রিজের দুই প্রান্তে দুটো বিস্ফোরক বসিয়ে তাতে ডেটোনেটর লাগিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। মুহূর্তেই উড়ে যায় বিশালাকার ব্রিজটি। ঢাকা থেকে পাকবাহিনীর সদস্যরা যেন গোলাবারুদ নিয়ে সড়কপথে যাতায়াত করতে না পারে, সেজন্য ব্রিজ উড়িয়ে দিতেন মুক্তিযোদ্ধারা। মির্জাপুর ব্রিজ উড়িয়ে দিয়ে ইউনুস প্রায় ১৫ দিন পর ফিরে আসেন মহেন্দ্রগঞ্জ ক্যাম্পে।

অক্টোবরের শেষের দিকে পাকবাহিনীর বকশীগঞ্জ কোম্পানি-সদর থেকে কামালপুর পর্যন্ত রাস্তায় বেশ ক’টি হামলা চালিয়ে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ করে দেন ইউনুস ও অন্য মুক্তিযোদ্ধারা। কোনো উপায়ান্তর না থাকায় কামালপুরের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ঘাসিরপাড়া-গলাকাটা হয়ে ধানক্ষেতের ভেতর দিয়ে রেশন ও গোলা-বারুদ আনার পরিকল্পনা নেয় পাকবাহিনী।

নভেম্বরের প্রথম দিকে মুক্তিযোদ্ধাদের সোর্স এ খবর পৌঁছে দেয় মহেন্দ্রগঞ্জ ক্যাম্পে। এতে সেক্টরপ্রধান মেজর তাহের (পরে কর্নেল) পরিকল্পনা করেন, পাকবাহিনীকে অ্যামবুশে ফেলার। এজন্য দায়িত্ব দেওয়া হয় পান্না কোম্পানি, ভূঁইয়া কোম্পানি, মাহফুজ কোম্পানি ও ফয়েজুর কোম্পানিকে। ফয়েজুর কোম্পানির সাথে আছে মহেন্দ্রগঞ্জ সাবসেক্টরের হাবিলদার মেজর মোয়াজ্জেমও।
বাংলানিউজের সঙ্গে কথা বলছেন মুক্তিযোদ্ধা মোয়াজ্জেম হোসেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, রেবিয়ে পড়ে কোম্পানি চারটি। প্রতি কোম্পানিতেই প্রায় ৩০ জন মুক্তিযোদ্ধা। আকাশে  ১৩ কিংবা ১৪ নভেম্বরের চাঁদনী রাত। ধানক্ষেতের আল ধরে কখনো ক্রলিং করে, কখনো হেঁটে রাত ১০টার দিকে পৌঁছে যান নির্দিষ্ট এলাকায়। পান্না কোম্পানি আর ভূঁইয়া কোম্পানি অবস্থান নেয় ঘাসিরপাড়ায়। আর মাহফুজ কোম্পানিসহ মোয়াজ্জেমরা অবস্থান নেন গলাকাটা নামক স্থানে।

ভোর সাড়ে তিনটার দিকে বকশীগঞ্জের সূর্যনগর প্রাইমারি স্কুল থেকে রওনা দেয় পাকবাহিনী। আলাদা জায়গায় অবস্থানরত গেরিলা ইউনিটগুলো নিজেদের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেয়, যে পর্যন্ত ওদের পাকিস্তানিদের গাইড গলাকাটা ক্রস করে সামনে না এগুবে, সে পর্যন্ত কেউ ফায়ার ওপেন করবে না। কিন্তু ভুলবশত পান্না্ কোম্পানির একজন ওদের গাইড বের হওয়ামাত্র ফায়ার ওপেন করে ফেলেন। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে যায় দু’পক্ষের তুমুল গুলিবর্ষণ।

ক্রমাগত গোলাগুলি চলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। গোলাগুলি বন্ধ হলে ঘাসিরপাড়ার এক বাড়ি থেকে ৭০ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহৃত টিনের চুঙ্গা নিয়ে এসে ধানক্ষেতের ভেতর থেকে সারেন্ডার করার আহ্বান জানানো হয়। সে সময় ১২ পাকিস্তানি সেনা আত্মসমর্পণ করে। ১০ জনের মতো মারা যায়। আর বাকিরা রেশন, গোলাবারুদ ফেলে রেখে দৌড়ে পালায়। এরপর অস্ত্র, গোলাবারুদ আর রেশন নিয়ে মহেন্দ্রগঞ্জ চলে যান মুক্তিযোদ্ধারা।

এভাবে সব পথ বন্ধ হয়ে গেলে মেজর তাহের চূড়ান্ত আক্রমণের প্রয়াস চালান। ১৪ নভেম্বর মেজর তাহের পাকবাহিনীর মর্টার শেলের আঘাতে পা হারালে দায়িত্ব নেন উইং কমান্ডার এম হামিদুল্লাহ খান। মাসের শেষ সপ্তাহেই যৌথ বাহিনী গঠিত  হয়।এখানে দায়িত্ব নেন ভারতের ব্রিগেডিয়ার হরদেব সিং ক্লের (Hardev Singh Kler)। যার অধীনে ছিল ভারতের ৯৫ মাউন্টেন ব্রিগেড। ক্লেরের সার্বিক পরিকল্পনায় ৪ ডিসেম্বর ধানুয়া কামালপুর ক্যাম্পে পাকবাহিনী আত্মসমর্পণ করে। এরপর মিত্রবাহিনী জামালপুরের দিকে মার্চ করে।

যারা ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন:
শেরপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন ও ঝিনাইগাতি থানা শাখার সাবেক কমান্ডার ইউনুস হারুণ।


সহযোগিতায়:

** তোরা, তেলডালা থেকে মুজিব ক্যাম্প
** পাকবাহিনীর ওপর গারো-হাজংদের প্রতিশোধের আগুন

বাংলাদেশ সময়: ০৭৫৬ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৬
ইইউডি/জেএম

সুনামগঞ্জে সাংবাদিকের ওপর দুর্বৃত্তের হামলা
ভোট দিয়ে যাকে খুশি তাকে নির্বাচিত করবেন ভোটাররা
মিরপুরে সেলুন ব্যবসায়ী এসিড দগ্ধ
জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি ঘোষণা
শুভ জন্মদিন পৃথুলা রশিদ
হরিণাকুণ্ডে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ডাকাত নিহত
রুট-মরগানের ব্যাটে ইংল্যান্ডের সিরিজ জয়
রাজশাহীতে ককটেল-বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘটনায় ফখরুলের উদ্বেগ
ঢাকা কলেজ প্রতিষ্ঠা
ইতিহাসের এই দিনে

ঢাকা কলেজ প্রতিষ্ঠা

শিক্ষায় অগ্রগতি কর্কটের, কন্যার পরিবারে অশান্তি