বাংলানিউজে উদ্ভাসিত মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের সম্ভাবনা

ড. মাহফুজ পারভেজ, কন্ট্রিবিউটিং এডিটর | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

বাংলানিউজের স্ক্রিন শট।

বাংলানিউজে একের পর এক রিপোর্ট, ফিচার, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ছাপা হচ্ছে মালয়েশিয়ার নানা বিষয় নিয়ে। দেশটির পর্যটন ক্ষেত্র, শিক্ষা, কর্মসংস্থানের সমস্যা ও সম্ভাবনাও তুলে ধরা হচ্ছে। বিশেষত সে দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি কমিউনিটির সুখ, দুঃখ, আনন্দ, বেদনা, সাফল্যের কাহিনী ফুটে উঠছে বাংলানিউজের একাধিক প্রতিনিধির প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণে। চিহ্নিত হচ্ছে সম্ভাবনার বহু দিক।

বিশ্বায়নের যুগে পৃথিবীর সকল দেশেই বাংলাদেশিরা নানা কাজে পৌঁছে গেছেন। অনেক দেশে সংখ্যায় তারা বেশ বড়।

মালয়েশিয়াও তেমনি একটি দেশ, যেখানে বিরাট সংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করেন। চাকরি, ব্যবসা, শিক্ষাসহ নানা কাজে বসবাসকারী স্বদেশিদের টুকরো টুকরো গল্প বা সুখ-দুঃখের কথা আমরা প্রায়শই শুনে থাকি। কিন্তু তাদের প্রবাস জীবনের সামগ্রিক চিত্রটি সাধারণত থাকে আমাদের জানার বাইরে। বাংলানিউজ টিম বহুমাত্রিক লেখায় স্পর্শ করেছে মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জীবনের যাবতীয় প্রসঙ্গ।

দেশের বাইরে গেলে একটি কথা অভিযোগের আকারে প্রবাসীদের কাছ থেকে শুনতে আমরা অভ্যস্ত। তারা এই বলে অনুযোগ করেন যে, 'আমাদের কথা কেউ লিখে না। আমাদের দুঃখ-কষ্টের খবর কেউ ছাপায় না।' অভিযোগটি একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। বিশ্বের দেশে দেশে বসবাসকারী লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশির জীবন সংগ্রামের কথা ও কাহিনি কতটুকু মিডিয়ায় প্রকাশ পায়? উষর মরুতে, দ্বীপান্তরে, গহীন অরণ্যে, নগরে, বন্দরে বিচিত্র কর্মে লিপ্ত স্বদেশবাসীকে আমরা বলতে গেলে ভুলেই থাকি। তাদের কঠোর কষ্টে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রাটি ঠিকই আমরা পকেটে রাখি, কিন্তু তাদেরকে যোগ্য সম্মান জানাই না। তাদের কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করি না। এই  অবহেলা ক্ষমার অযোগ্য। তথাপি, সরকারি-বেসরকারি পর্যায় থেকে এমন অসহযোগিতাই করা হয় প্রবাসীদের প্রতি।

বাংলানিউজের স্ক্রিন শট। অথচ আমাদের অর্থনীতি ব্যবস্থায় এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে খোল নলচে পাল্টে ফেলেছে এদেশের শ্রমিক ভাই-বোনদের উৎপাদিত পোশাকের রফতানি আয় আর বিদেশ থেকে পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। এরাই এখন দেশের অর্থনীতির অন্যতম শক্তিদাতা। এরা অবশ্যই যোগ্য মর্যাদা, সম্মান ও সহযোগিতা পাওয়ার অধিকারী।

সম্প্রতি জাতিসংঘ উন্নয়ন ও বাণিজ্য বিষয়ক সংস্থা (ইউএনডিপি) কর্তৃক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে, বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয় যে হারে বাড়ছে তা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে এদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। আর এ জন্য প্রতিবেদনটিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি কৃষি, রফতানি আয় এবং রেমিটেন্স প্রবাহের বর্তমান ধারা ধরে রাখার ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব আরোপ করা হয়। ফলে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের মতোই প্রবাসী জনশক্তির প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। তাদের সমস্যা ও কষ্টের প্রতি মনোযোগী হতে হয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে।

নানা সমীক্ষার মতে, বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ হলেও বার্ষিক জিডিপিতে এ খাতটির অবদান শতকরা মাত্র ৩০%। অপর্যাপ্ত কৃষি ভর্তুকি এবং ব্যাংক ঋণ সুবিধা, বিদ্যুৎ ও সার সঙ্কট এ খাতের প্রধান অন্তরায়। কিন্তু সবচেয়ে বড় ঝুঁকির কথা হলো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অর্থনৈতিক সঙ্কটের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি তথা গ্রীন হাউস ইফেক্ট এবং এর ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের আধিক্য। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগের অন্যতম প্রধান শিকার বাংলাদেশ। এর মধ্যে আবার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে দেশের উপকূলীয় অঞ্চল। এছাড়া প্রত্যেকটি বিভাগে চলছে শহর সম্প্রসারণের কাজ। নির্মিত হচ্ছে নতুন নতুন ঘরবাড়ি। সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্যও করা হচ্ছে হাজার হাজার একর কৃষি জমি হুকুম দখল। যা কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি বিনির্মাণে প্রধান অন্তরায়। ফলশ্রুতিতে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য কৃষির ওপর আস্থা রাখা ক্রমশই কঠিন হয়ে পড়ছে। এক্ষেত্রে প্রবাসী জনশক্তি আমাদের গুরুত্বপূর্ণ ভরসাস্থল।

পাশাপাশি আমাদের এটাও মনে রাখা দরকার যে, আমাদের দেশে জনসংখ্যা এখনও বড় জাতীয় সমস্যা। বিশ্বজনসংখ্যা রিপোর্ট/২০১০ অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৪৪ লাখ। বিশ্ব জনসংখ্যায় বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। কিন্তু কাজে লাগানোর তেমন কোনো ক্ষেত্র সৃষ্টি না হওয়ায় বেকারত্বের অভিশাপ থেকে তারা মুক্ত হতে পারছে না। এই সমস্যাকে সমাধান করতে এবং জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তরিত করার ক্ষেত্রে দক্ষ, আধা দক্ষ, অদক্ষ শ্রমিক, ওয়েজ আর্নাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাংলানিউজের স্ক্রিন শট।
বিদেশে বাংলাদেশি জনশক্তিকে শক্তি যুগিয়ে আরও অধিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার নীতিই এক্ষেত্রে কাম্য। জনশক্তি রফতানির জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানো এবং কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তির সংখ্যা বাড়ানো হলে জনসংখ্যা রফতানি স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে। জনসংখ্যার চাপ কমে তখন প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জিত হবে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ও ব্যবসা ক্ষেত্রে আরও সম্ভাবনার কথা বাংলানিউজ তুলে ধরছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার মধ্যপ্রাচ্য এখন নিজেই সংকটাপন্ন। তদুপরি সেখানে বিভিন্ন দেশ থেকেও প্রচুর জনশক্তি রফতানি হওয়ায় ব্যাপক প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে মালয়েশিয়ার দিকে মনোযোগী হওয়া দরকার। প্রয়োজন মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের সমস্যা ও বিঘ্ন দূর করে অধিকতর জনশক্তি রফতানির সুযোগ সৃষ্টি করা।

বাংলানিউজ সে অমিত সম্ভাবনার কথাই বলছে। আগামীর পথই দেখাচ্ছে মালয়েশিয়া থেকে সরেজমিন তথ্যমূলক বিভিন্ন প্রতিবেদনের মাধ্যমে।

বাংলাদেশ সময়: ১৫১৫ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৭, ২০১৭
এমপি/জেডএম


রংপুরের সাফল্যের ‘রহস্য’ বললেন মাশরাফি
মাগুরায় সড়ক দুর্ঘটনায় খড় বিক্রেতা নিহত
পীরগাছায় বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ২
‘আমিই বস’
রোহিঙ্গা সংকট মারাত্মক প্রভাব ফেলছে বন-পরিবেশে

Alexa