যত্রতত্র ‘বেওয়ারিশ বাস’

মহিউদ্দিন মাহমুদ, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

রাস্তার পাশে পড়ে আছে বেওয়ারিশ বাস

ঢাকা: নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ঢাকায় বন্ধ ছিল সব ধরনের বাস চলাচল। সেই জের কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ঘোষণা হয় ট্রাফিক সপ্তাহ। সারা দেশে প্রতিদিন হতে থাকে হাজার হাজার মামলা। ঢাকায় সেই প্রভাবেই দেখা দেয় ব্যাপক বাস সংকট। নগরবাসীর প্রশ্ন ছিল, এতো বাস গেলো কই?

সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে দেখা যায় রাজধানীর বিভিন্ন অলিগলি, পরিত্যক্ত জায়গা কিংবা প্রধান সড়কের পাশে পড়ে রয়েছে অসংখ্য ‘বেওয়ারিশ গাড়ি’। আর পরিবহন সংকটের অন্যতম কারণও এটি।

গত দু’দিনে রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায় অন্তত শতাধিক ‘বেওয়ারিশ গাড়ি’ পড়ে রয়েছে। 

স্থানীয়রা জানান, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় থেকে এসব বাস পড়ে আছে। কেউ বাসগুলোর খোঁজ-খবর নিতে আসেন না। রাস্তার পাশে অযত্নে-অবহেলায় বাসগুলো পড়ে আছে। এর আশপাশেও কাউকে দেখা যায় না।

১১ নম্বরের পলাশনগর আবাসিক এলাকায় একটি জাবালে নূর বাস কয়েকদিন ধরেই পড়ে ছিল। কুর্মিটোলায় জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের ঢালে দুই শিক্ষার্থী মৃত্যুর পর দিন থেকেই বাসটি ওখানে। সম্প্রতি বাসটিকে নতুন করে রং করার জন্য ঘষামাজা করা হয়েছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।

পূরবী সিনেমা হল মোড় থেকে কালশী মোড়ে য‍াওয়ার রাস্তায় বিভিন্ন পরিবহনের অন্তত ২৫-৩০টি বাস গত কয়েকদিন থেকে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ভাঙচুরের ক্ষতও রয়েছে কয়েকটি বাসে। 

এখানকার চা দোকানি আব্দুর রহিম বলেন, বাসগুলো শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরুর পর থেকে বিভিন্ন সময় কে বা কারা এখানে এভাবে ফেলে রেখে গেছেন। কেউ বাসগুলোর খোঁজও নিতে আসেন না। 

কালশী থেকে মিরপুর ১২ নম্বরের সঙ্গে সংযুক্ত আধুনিক হাসপাতাল শাখা রোড়ে আনুমানিক ৩০টির মতো পড়ে রয়েছে। এ বাসগুলোও গত ১০/১২ দিনের মধ্যে এখানে রাখা হয়েছে।

১২ নম্বর বি ব্লকের বাসিন্দা রেদওয়ান‍ হোসেন বলেন, নিশ্চয়ই গাড়িগুলোর ফিটনেস সমস্যা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, ট্রাফিকের কড়াকড়ির জন্য বাসগুলো এখন ‘বেওয়ারিশ’।

তিনি বলেন, এই বাসগুলোতেই দিন আমরা চলেছিলাম। আবার সড়কে যখন কড়াকড়ি কমে যাবে, সুযোগ বুঝে এই ‘বেওয়ারিশ’ বাসগুলো হয়তো ফের রাস্তায় চলবে। ট্রাফিক পুলিশ, বিআরটিএকে এ বিষয়ে সর্তক থাকতে হবে।

এ শাখা রোডে আল্লাহর দান হোটেলের এক কর্মী বলেন, দু-তিনটি বাস এক দেড় মাস থেকে পড়ে আছে। বাকি বাসগুলো ১০/১১ দিন আগে এখানে ফেলে রেখে গেছে।

মিরপুর-১২ নম্বর বাসস্ট্যান্ড মোড় থেকে সাগুফতার মোড় পর্যন্ত প্রধান সড়কে আনুমানিক ২০/২২টি বাস পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ গত কয়েকদিন একইভাবে পড়ে রয়েছে। কয়েকটি বাস চলাচল করে, মাঝে-মধ্যে এখানে পার্কিং করে রাখা হয় বলে জানান স্থানীয়রা।

মিরপুর-১২ নম্বর বাসস্ট্যান্ডের পেছনে ১ নম্বর রোডে ময়লার ভাগাড়ের পাশেও ১৫-২০টি বাস। এর মধ্যে কয়েকটি বাস কয়েকদিন আগে থেকে এখানে পড়ে আছে। 

পড়ে থাকা বাসগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মালিক, শ্রমিক কাউকে আশপাশে খুঁজে পাওয়া যায়নি। 

নূর-এ মক্কা বাসের কন্ডাক্টর আবুল খায়ের বলেন, রাস্তায় ফিটনেস, কাগজপত্র ছাড়া বাস বের করে কি মামলা খাবে নাকি। অনেক বাসের অবস্থা খুব খারাপ। সেগুলো রেকার করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

বাংলাদেশ সময়: ০৭০০ ঘণ্টা, আগস্ট ১০, ২০১৮
এমইউএম/এএ

সবার নজর কাড়লো দুলালের ‘কালা মানিক’
টোকিওতে জাতীয় শোক দিবস পালিত
ক্রেতা নেই সিলেটের পশুর হাটে!
পাটুরিয়া ফেরিঘাটে ছোট গাড়ির দীর্ঘ লাইন
গ্যাস সিলিন্ডারে ১৯০০ বোতল ফেনসিডিল, আটক ২
বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু
আসামের নাগরিক তালিকা বাতিলের আহ্বান
কামারশালার বাতাসে উড়ছে স্ফুলিঙ্গ
বাবা হলেন আমান রেজা
জিয়া পরিবারের মুখোশ উন্মোচন করাই সবার কর্তব্য