বঙ্গবন্ধুর কাছে ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ ধর্মহীনতা নয়

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ শীর্ষক একক বক্তৃতা/ছবি: বাংলানিউজ

ঢাকা: ‘ধর্মনিরপেক্ষতার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু বহুবার বলেছেন, ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ ধর্মহীনতা নয়। প্রত্যেক মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালন ও প্রচারের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে। শুধু রাষ্ট্র ও রাজনীতি ধর্মের ব্যাপারে নিরপেক্ষ থাকবে, কোনো বিশেষ ধর্মকে প্রশ্রয় দেবে না।’

শুক্রবার (১০ আগস্ট) বিকেলে ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ শীর্ষক একক বক্তৃতায় এমনটাই বলছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও চলচ্চিত্রকার শাহরিয়ার কবির। 

জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনী সংগঠনের এ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. বোরহানউদ্দীন খান জাহাঙ্গীর।

শাহরিয়ার কবির বলেন, ইউরোপে যারা নিজেদের সেকুলার বলে দাবি করে, তারা ঈশ্বর-ভূত-পরলোক কিংবা কোনো সংস্কারে বিশ্বাস করে না। বঙ্গবন্ধু কখনোও সে ধরনের সেকুলারিজম প্রচার করতে চাননি। মুক্তিযুদ্ধের সময় এদেশের প্রতিটি মানুষ লক্ষ্য করেছে, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের বদৌলতে ধর্ম কিভাবে গণহত্যা ও ধর্ষণসহ যাবতীয় ধ্বংসযজ্ঞের সমার্থক হতে পারে। যে কারণে '৭২-এর সংবিধানে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগঠনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি কারও মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেনি।

বক্তারা বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবথেকে বড় দুর্ভাগ্য হচ্ছে অধিকাংশ সময় এ দেশটি শাসন করেছে পাকিস্তানপন্থী মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি। '৭৫-এর পর বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতির যে পাকিস্তানিকরণ বা মৌলবাদীকরণ বা সাম্প্রদায়ীকরণ আরম্ভ হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি প্রায় এক দশক ক্ষমতায় থাকার পরও আমরা ৭১'-এর চেতনায় ফিরে যেতে পারিনি।

তিনি বলেন, '৭২-এর সংবিধানে জেনারেল জিয়া কর্তৃক বাতিলকরা রাষ্ট্রের চার মূলনীতি পুনঃস্থাপিত হলেও এখনও সাম্প্রদায়িকতার কলঙ্ক থেকে সংবিধানকে পুরোপুরি মুক্ত করা যায়নি। সেখানেও বাধা হচ্ছে বিভাজনের মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক শক্তির আধিক্য।

ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর কথা উল্লেখ করে বক্তারা আরও বলেন, বর্তমানে বিশ্বে মুসলিম জনসংখ্যা দেড়শ কোটিরও বেশি। ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও বাংলাদেশসহ ৫৭টি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলমান। মুসলিম দেশগুলোতে বঙ্গবন্ধু ছাড়াও ধর্মনিরপেক্ষ সরকার ও রাষ্ট্রগঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন তুরস্কের মুস্তফা কামাল আতাতুর্ক, আফগানিস্তানের বাদশাহ আমানুল্লাহ ও ড. নজিবুল্লাহ, ইন্দোনেশিয়ার সুকর্ণ, আলজেরিয়ার আহমেদ বেনবেল্লা সিরিয়ার হাফিজ আল আসাদ, ইরাকের সাদ্দাম হোসেন ও প্যালেস্টাইনের ইয়াসের আরাফাতসহ অনেকে। এসব দেশের ভেতর সিরিয়া ও বাংলাদেশ ছাড়া মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশে ইসলামী বা রাজনৈতিক ইসলামের সমর্থক দলগুলো সরকার পরিচালনা করছে।

শাহরিয়ার কবির বলেন, '৭২-এর সংবিধান কার্যকর থাকলে বাংলাদেশে আজ ধর্মের নামে এতো নির্যাতন, হানাহানি, সন্ত্রাস, বোমাবাজি, রক্তপাত হতো না। বাংলাদেশ যদি একটি আধুনিক ও সভ্য রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই, তবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অনুসরণ ছাড়া আমাদের সামনে অন্য কোনো পথ খোলা নেই।

সভাপতির বক্তব্যে বোরহানউদ্দীন খান জাহাঙ্গীর বলেন, বঙ্গবন্ধু যা চাননি, সেই না চাওয়াটার মধ্যে আমরা বারবার কেন যাচ্ছি? আমরা কি তাকে বাদ দিয়ে কিছু বলতে পারি নাকি কিছু করা সম্ভব! কিন্তু কিছু লোক এটা করার চেষ্টা করছে। তাদের সম্ভবত আমরা সবাই চিনি। যদি জানি, তবে তাদের সঙ্গ আমাদের এখনই ত্যাগ করা উচিত।

বাংলাদেশ সময়: ২০৪২ ঘণ্টা, আগস্ট ১০, ২০১৮
এইচএমএস/এসএইচ

যশোরের নতুন এসপি মঈনুল হক
ফেনীতে কোথায় কখন ঈদের জামাত
চাটখিলে অস্ত্র-গুলিসহ যুবদল কর্মী গ্রেফতার
দোষীদের দ্রুত শাস্তি চান গ্রেনেড হামলায় নিহতদের পরিবার
যশোরে আরও ১৫ হাজার কেজি ভিজিএফ’র চাল জব্দ
নারায়ণগঞ্জে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে ৭ গরু বিক্রেতা
নরসিংদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ১১জন নিহতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি
কলঙ্কিত আরেক অধ্যায় ২১ আগস্ট
১৮০০ স্প্লিন্টার আঘাত করলেও আ’লীগ ছাড়েননি মাহবুবা
নরসিংদীতে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১১