হুমকির মুখে বঙ্গবন্ধু সেতু ও টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধ

সুমন কুমার রায়, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ভাঙনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে শহর রক্ষা বাঁধ ও বঙ্গবন্ধু সেতু। ছবি: বাংলানিউজ

টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়ের ৮নং ওয়ার্ডের রানাগাছা এলাকার ঝিনাই নদীতে ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে শহর রক্ষা বাঁধ।

গত দুইদিনের ভাঙনে কবরস্থান ও বেশ কয়েকটি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। যেকোন সময় রক্ষা বাঁধ ভেঙে শহরে পানি প্রবেশ করতে পারে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুকনো মৌসুমে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করায় বন্যার সময় ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়। ড্রেজারের বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ প্রশাসনকে একাধিকবার অভিযোগ করলেও তারা বিষয়টি আমলে নেননি। ফলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রানাগাছা এলাকাবাসীদের।

এদিকে, বঙ্গবন্ধু সেতু রক্ষা গাইড বাঁধ এলাকায় আবারো দেখা দিয়েছে ভাঙন। বুধবার (১১ জুলাই) মধ্যরাত থেকে সেতুর পূর্বপাড় গরিলাবাড়ী অংশে এ ভাঙন শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) সকাল ১১টা পর্যন্ত ১০০ মিটার অংশ ধসে ১০টি বসতভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। 

গত বছর ভাঙনের ফলে দ্বিতীয় সেতু রক্ষা বাঁধটি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ায় এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে প্রথম সেতু রক্ষা বাঁধটি। ভাঙন অব্যাহত থাকায় হুমকির মধ্যে পড়বে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বঙ্গবন্ধু সেতু। 

এদিকে, ভাঙন ঠেকাতে বিবিএ’র পক্ষ থেকে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা কোনো কাজেই আসছে না বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা। এছাড়া, সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের রামাগাছা এলাকার রাস্তাটি (শহর রক্ষা বাঁধ) আংশিক ভেঙে হুমকির মুখে রয়েছে।

ইতোমধ্যেই ওই এলাকার তুলা মিয়ার ৪০ শতাংশ, আজাহার আলীর ৪০ শতাংশ, বাদশা মিয়ার ৪০ শতাংশ, সাহাদত আলীর ৩০ শতাংশ, খালেম মিয়ার ৪০ শতাংশ সহ এলাকার বেশ কয়েকজনের জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে আরও শতশত বসতভিটা।

রানাগাছা এলাকার তুলা মিয়া বাংলানিউজকে জানান, গত দুইদিনের ভাঙনে শহর রক্ষা বাঁধটির অর্ধেকের বেশি নদীগর্ভে চলে গেছে। বাঁধের বাকি অংশেও ফাঁটল দেখা দিয়েছে। এই নদী ভাঙন রোধে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অপরদিকে, সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের চরপৌলী, রাঙ্গাচিড়া, খাসকুকুয়া এলাকায় যমুনার ভাঙনে অনন্ত ৩০টি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গত কয়েকদিনের ভাঙনে দুইটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মসজিদ ও ঐহিত্যবাহী চরপৌলী হাট নদীগর্ভে চলে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে শতশত একর ফসলি জমি ও বসতভিটা।

ভাঙনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে শহর রক্ষা বাঁধ ও বঙ্গবন্ধু সেতু। ছবি: বাংলানিউজ

চরপৌলী এলাকার জেবুন্নেছা বাংলানিউজকে জানান, গত তিন বছর ধরে বাড়ি সরিয়ে পরের জমিতে ঘর তৈরি করে থাকছেন তিনি। এবারেও যমুনার ভাঙন তার ঘরের পেছনে এসেছে। এখন তার আর যাওয়ার কোন জায়গা নেই।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন বাংলানিউজকে জানান, ইতোমধ্যেই ভাঙন কবলিত এলাকাসহ শহর রক্ষা বাঁধ পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৪০ ঘণ্টা, জুলাই ১২, ২০১৮
এনটি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: বন্যা ভাঙন
সাভারের পরিণতি কি হাজারীবাগের মতো!
ক্ষমা চেয়ে গ্রাহকের সুদ কমালো উত্তরা ব্যাংক
কোটা ইস্যুতে ক্লাস বর্জন, সেশনজটের আশঙ্কা ঢাবিতে
নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের মন্তব্যে গুরুত্ব দেবে না আ’লীগ
কোন্দলে জর্জরিত মহিলা দল
২০-২১ জুলাই খাগড়াছড়িতে সাংস্কৃতিক উৎসব
যেসব স্থান ভ্রমণ না করলে জীবনটাই বৃথা! (পর্ব-৩)
রাজশাহীতে ফুটপাত ছাড়া আর একটি রাস্তাও নির্মাণ হবে না
অবসাদ দূর করবে চকোলেট মিল্ক
বগুড়ায় ভুল চিকিৎসায় স্কুলছাত্রের মৃত্যুর অভিযোগ