সমন্বয় না থাকলে দুর্যোগের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি নেই

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

কর্মশালায় মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া

ঢাকা: নিজেদের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে দুর্যোগের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি নেই বলে সরকারের সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে সতর্ক করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম।

বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরে আয়োজিত ‘হাওড় এলাকায় অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার কারণ চিহ্নিতকরণ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, হাওড়ের মানুষ মাত্র দুইটা জিনিস চায়। তারা চায় বাঁধ রক্ষা পাক এবং তারা যেন ধান ক্ষেত থেকে তুলে, শুকিয়ে ঘরে তুলতে পারে। এমনিতেই দু্র্যোগ, দুর্ভোগ লেগেই আছে। তারপর এতে সরকারের নেওয়া নানা কর্মসূচিতে যদি সমন্বয় না করা যায়, তবে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। তাই হাওড়বাসীর ছোট এই চাওয়া পূরণে সরকারের অনেকগুলো মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং সংস্থাকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে হবে। তা না হলে হাওড় রক্ষা করা সম্ভব হবে না।

মায়া বলেন, হাওড় এলাকায় বন্যা ঝুঁকি মোকাবিলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নিয়মিত মেরামত ও সংস্কার করা, নিয়মিত নদী খননের মাধ্যমে ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা, বন্যার পূর্বাভাস দ্রুত কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া, আগামজাত ও বন্য সহিষ্ণু জাতের ধান আবাদে কৃষককে উৎসাহিত করা, বাঁধ ব্যবস্থাপনা ও নির্মাণে স্থানীয়দের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, গবাদি পশুর জন্য দানাদার খাদ্য সরবরাহ, নিচু বিল ধানচাষের পরিবর্তে মাছ চাষে ব্যবহার করা, কার্যকর আন্তঃনদী সংযোগ স্থাপন করা ও বর্তমান আন্তঃনদী সংযোগের উন্নয়ন করা, হাওর অঞ্চলে আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা, নিন্মাঞ্চলের মানুষের ঘরের ভিটা উঁচু করে দেওয়া এবং এই অঞ্চলে বিশেষ অর্থনৈতিক জোন তৈরির মাধ্যমে হাওড়ের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পদক্ষেপকে আমি কার্যকর বলে মনে করি।

অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল বলেন, সারাদেশের সড়ক ও সেতুর যে নকশা, হাওড় এলাকার জন্য তাই। এটা হতে পারে না। দেশের হাওড়, উপকূল, পাহাড় এবং সমতলের জন্য আলাদা আলাদা নকশা, নির্মাণ কৌশল ও ব্যবস্থাপনা থাকতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থায় ও হাওড়ের সাত জেলার জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকতে হবে। এর দায় নিতে হবে হাওড় জলাশয় উন্নয়ন বোর্ডকে। প্রচলিত সড়ক ব্যবস্থার পরিবর্তে ১২ মাস ব্যবহার উপযোগী এলিভেটেড এক্সপ্রেস রোড ও শুকনার সময় ব্যবহারযোগ্য সাব-মার্সিবল রোড তৈরি করতে হবে।

অনুষ্ঠানে হাওড় ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মজিবুর রহমান বলেন, হাওড়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সমন্বয়হীনতা। সেখানে সড়ক ও জনপদ বিভাগ, পানি মন্ত্রণালয়, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়সহ নানা মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থা কাজ করছে। কিন্তু সবাই নিজের মতো করে কাজ করছে। কারও সঙ্গে কারও সমন্বয় নেই। আমাদের মনে রাখা দরকার ভারতের চারটি রাজ্যের ২৮টি নদীর পানি ও পাহাড়ি ঢল এই হাওড় দিয়ে বের হয়।

তিনি বলেন, হাওড়বাসীর দুর্ভোগের কারণ অপরিকল্পিত বাঁধ ও সড়ক ব্যবস্থা। বর্তমানে হবিগঞ্জ থেকে কিশোরগঞ্জ এবং নেত্রকোনা থেকে সুনামগঞ্জ পূর্ব-পশ্চিমমুখী দুইটি সড়ক তৈরি হচ্ছে। এটা হলে হাওড় শেষ হয়ে যাবে। কারণ আমাদের দেশের পানির প্রবাহ সাধারণত উত্তর থেকে দক্ষিণমুখী।

বিশিষ্ট পানি বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত অনুষ্ঠানে বলেন, দেশের সাতটি জেলার প্রতিটি হাওড়েরই চরিত্র আলাদা আলাদা। প্রতিটি নদীর চরিত্রও তাই। এজন্য প্রতিটি হাওড় ও নদীকে আলাদাভাবে না চিনলে এর সঠিক ব্যবস্থাপনা কঠিন। আমরা ২০১১ সালে ভারতের সঙ্গে করা যৌথ অববাহিকা ব্যবস্থাপনা চুক্তি বাস্তবায়নে কাজই শুরু করতে পারিনি। এটা কার্যকর করতে পারলেই অনেক সমস্যার সমাধান হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৫২ ঘণ্টা, জুলাই ১২, ২০১৮
আরএম/আরআর

পরিবেশ পদক পেল ওয়ালটন হাই-টেক
এইচএসসিতে পাসের হারে এবারও এগিয়ে মেয়েরা 
হুমায়ূন আহমেদের লেখা ১০ গান (ভিডিও)
বিরল ‘বহুরঙা উড়ন্ত কাঠবিড়ালি’র ছানা
আর্জেন্টিনায় মেসিকে আরও চান তেভেজ
মঞ্চ ভেঙে পড়ে গেলেন পাকিস্তান জামায়াতের আমির!
এইচএসসিতে পাস ৬৬.৬৪ শতাংশ, জিপিএ ৫- ২৯,২৬২
পুলিশ কর্মকর্তা মামুন হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার ৪
সুইডেনে ভয়াবহ দাবানল, ইইউ’র কাছে সাহায্যের আবেদন
রেস্ট হাউজে নেওয়া হতে পারে নওয়াজ-মরিয়মকে