ভুয়া নিয়োগপত্রে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

প্রতারণার শিকার একটি পরিবার

নড়াইল: নড়াইলে সেনাবাহিনীর ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে অন্তত ৩০ বেকার যুবকের কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে এলাকার রমজান সিকদার নামে এক প্রতারকের বিরুদ্ধে।

এলাকার মানুষের তোপের মুখে গাঁ ঢাকা দিয়েছেন অভিযুক্ত রমজান। অসহায় গরীব এ সব মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নিজের বাড়িতে বিল্ডিং নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযুক্ত রমজানের বাড়ি কালিয়া উপজেলার কাঠাধুরা গ্রামে।

জানা যায়, অভিযুক্তের শ্যালক সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার। সেই শ্যালকের তার কথা বলেই এলাকার মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন রমজান।

উপজেলার শুক্তগ্রামের জুলু মোড়ল মাছ বিক্রি করে সংসার চালায়। প্রতারক রমজানের সঙ্গে দীর্ঘ দিনের পরিচয় তার। সেই সুবাদে রমজান তাকে বলেন ‘তোর ছেলেকে সেনাবাহিনীর চাকরি দিয়ে দিবো। তোকে আর কষ্ট করতে হবে না’। অশিক্ষিত এ মাছ বিক্রেতা নিজের জমি বিক্রি করে এবং এলাকা থেকে সুদে টাকা নিয়ে বিশ্বাস করে পাঁচ লাখ টাকা তুলে দেন রমজানের হাতে। বিনিময়ে ছেলেকে ঢাকায় নিয়ে হোটেলে রেখে একটি ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়েছেন।

জুলু মোড়ল বাংলানিউজকে জানান, ‘রমজান তাকে বলেছে বিষয়টি নিয়ে কোনো বাড়াবাড়ি করিস না, টাকা ফেরত দিয়ে দিবো। আর সেই অপেক্ষায় রমজানের পথ চেয়ে বসে আছি। রমজান এলাকাতে নেই, ফোন দিলেও ফোন ধরে না।‘— কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়ে জুলু মোড়ল।

মাউলি গ্রামের সাদিয়ার মুসল্লি বলেন, মালি পদে চাকরি দেওয়ার জন্য রমজান তাকেসহ এলাকার আরও দুই জনকে ঢাকায় মিরপুর নিয়ে একটি হোটেলে রাখেন। দিনের বেলা মিরপুর সেনানিবাসের পাশে একটি রেস্টুরেন্টে নিয়ে চা খেতে দেয় তাদের। পরে সেখানে দুটি লোক এসে তাদের একটি করে নিয়োগপত্র দেয়। তারা হোটেলে ফিরে ১১ লাখ টাকা দেন রমজানকে। তারা নিয়োগপত্র নিয়ে খুশিতে বাড়ি ফিরে আসেন।
ভুয়া নিয়োগপত্র
ছেলের সরকারি চাকরি হয়েছে তাই ভেবে সাদিয়ারের বাবা কামরুল মুসল্লি বসত-ভিটাসহ মাঠের জমি বিক্রি করে রমজানকে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা দেন। নিয়োগপত্র নিয়ে চাকরিতে যোগদান করতে গেলে বুঝতে পারে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।

সাদিয়ারের বাবা কামরুল মুসল্লি বাংলানিউজকে বলেন, ‘রমজান সিকদার বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার নিজের লোক আছে। তার শ্যালক সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার। চাকরি দেওয়া তার কাছে সহজ বিষয়। টাকা দিলেই ছেলের চাকরি হয়ে যাবে। তখন তিনি (কামরুল মুসল্লি) রমজানকে বলেছিলে চাকরির নিয়োগপত্র দেখে টাকা দিবো। কথা মত তার ছেলেকে একটি সেনাবাহিনীর মালি পদে ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন রামজান।

কলাগাছি গ্রামের এরশাদ শেখ বাংলানিউজকে বলেন, তার ভাগিনা আবু তাহের গাজী এবং শ্যালক হিরাঙ্গির গাজীকে সেনাবাহিনীর মালি পদে চাকরি দেওয়ার জন্য ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেয় রমজান। বিনিময়ে তাদের দুই জনকে মালি পদে চাকরির দু’টি নিয়োগপত্র দেন। নিয়োগ পত্রের ঠিকানা অনুযায়ী ঢাকা মিরপুর সেনানিবাসে গেলে সেনাবাহিনীর লোকেরা জানিয়ে দেন এটি নকল নিয়োগপত্র। তার পর থেকে প্রতারক রমজানকে বিষয়টি জানালে পুনরায় সঠিক নিয়োগপত্র দিবেন বলে ঘুরাতে থাকেন।

ভুক্তভুগি ও এলাকাবাসী জানান, কালিয়া ও লোহাগড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে অন্তত ৩০ যুবকের কাছ থেকে পাঁচ থেকে সাত লাখ করে টাকা নিয়েছেন রমজান। বিনিময়ে এলাকার ১৯ যুবককে সেনাবাহিনীর মালি পদে ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়েছেন। বাকি লোকেদের নিয়োগপত্র দেবেন বলে ঘোরাচ্ছেন। খুলনা জেলা ও গোপালগঞ্জ জেলার কয়েকজন যুবকের কাছ থেকেও টাকা নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে রমজান সিকদারের বিরুদ্ধে।

রমজান সিকদারের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার স্ত্রী আছিয়া খাতুন আসমা সাংবাদিকদের দেখে রেগে বলেন আপনারা কেন এসেছেন? তার স্বামী ঢাকায় বেড়াতে গেছে বলে জানান তিনি।

রমজানের মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে রমজান সিকদার অন্য মোবাইল দিয়ে ফোন দিয়ে বলে এলাকার লোকেরা তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৫৫০ ঘণ্টা, জুলাই ১২, ২০১৮
জিপি

দাউদকান্দিতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক ব্যবসায়ী নিহত
লালমনিরহাটে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ধর্ষক গ্রেফতার
‘বুলেটের চেয়েও শক্তিশালী ব্যালট’
ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেলো অলিম্পিক পদকজয়ী ফিগার স্কেটারের
গোবিন্দগঞ্জে মাধ্যমিকের বই জব্দের ঘটনায় আটক ১
৩ ভাইয়ের প্রচেষ্টায় ৪ ঘণ্টায় ১ ইলিশ!
এখন সংগ্রাম জাতি হিসেবে গৌরব অর্জনের
কক্সবাজার লিংক রোডে ইসলামী ব্যাংকের ৩৩৭তম শাখা
রবীন্দ্রকথন ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’
দু’হাত হারানো সিয়াম পেলো জিপিএ-৪