বন্ধ হয়নি গণপরিবহনের ‘ঠোকাঠুকি’

মফিজুল সাদিক, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

বন্ধ হয়নি গণপরিবহনের ‘ঠোকাঠুকি’। ছবি-ডিএইচ বাদল

ঢাকা: বুধবার (৯ মে) আব্দুল্লাহপুর থেকে ছেড়ে আসা তেঁতুলিয়া পরিবহনের একটি বাস আড়াআড়িভাবে দাঁড়িয়ে আছে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে। উদ্দেশ্য আরও যাত্রী তোলা। রাস্তা আটকে বাসের সামনের অংশ বাম দিকে বেঁকে আছে এবং পেছনের অংশ আছে ডানে। 

এমন অবস্থায় দ্রুত গতিতে আসা বিহঙ্গ পরিবহনের একটি বাস ওই বাসটির সামনের অংশে ধাক্কা দেয়। ফলে তেঁতুলিয়া পরিবহনের লুকিং গ্লাস ভেঙ্গে যায়। এতে আঁতকে ওঠেন দুই বাসের যাত্রীরা। শুরু হয় দুই বাসের যাত্রী, চালক ও হেলপারদের মধ্যে বিবাদ। হেলপারেরা একে অপরকে চড় থাপ্পড়ও মারতে থাকেন। এমন সময় অনেক যাত্রী ঝামেলায় না জড়িয়ে বাস থেকে নেমে পড়েন।
 
এসময় কথা হয় তেঁতুলিয়া পরিবহনে থাকা শ্যামলীগামী যাত্রী একেএম আজিজুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, কয়েকদিন আগেই বাসের ঠোকাঠুকিতে রাজীব ছেলেটার প্রাণ গেছে। তারপরও এদের মুরগি ঠোকাঠুকি থামছে না। এদের আসলে ভাই দেখার কেউ নাই।

বন্ধ হয়নি গণপরিবহনের ‘ঠোকাঠুকি’। ছবি-ডিএইচ বাদল
ঢাকা থেকে আব্দুল্লাহপুর রুটে চলাচল করে তেঁতুলিয়া পরিবহন, অন্যদিকে বিহঙ্গ পরিবহন চলাচল করে মিরপুর ১২ নম্বর থেকে সদরঘাট পর্যন্ত।
 
শনিবার (১২ মে) মালিবাগ হাজীপাড়া ফিলিং স্টেশনের কাছে সুপ্রভাত পরিবহনকে আরও একটি সুপ্রভাত পরিবহন পেছন থেকে থাক্কা দেয়। এরপর শুরু হয় দুই বাসচালকের মধ্যে বাকবিতাণ্ড। একই কোম্পানির বাস দু’টি যাচ্ছিল সদরঘাট থেকে গাজীপুরা রুটে।
  
একই দিনে বিআরটিসি’র একতলা বাস কাওরানবাজার সার্ক ফোয়ারার কাছে পান্থকুঞ্জের পাশে সিগন্যালে থেমে যাত্রী তুলছিল। পরে একই দিক থেকে সায়দাবাদ-গাবতলীগামী আট নম্বর বাস দ্রুতগতিতে এসে বিআরটিসি বাসের পাশের ফাঁকা দিয়ে ঢুকে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে বিআরটিসি বাসের পেছনে হাল্কা ধাক্কা দেয় আট নম্বর বাসটি। 

একই দিনে সেখানে দ্রুত রাস্তা পার হতে গিয়ে একজন পথচারী আহতও হন। ডান হাত ভেঙ্গে যায় তার। আঘাত পান পায়েও।
  
একই স্থানে ফার্মগেটমুখি একটি দ্বিতল বিআরটিসি বাস ও একই দিক থেকে আসা স্বজন পরিবহন নামে অপর একটি বাসের রেষারেষিতে হাত হারিয়ে প্রাণ হারান তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজীব হোসেন। এরপরও নগরীতে বন্ধ হয়নি গণপরিবহনের ‘ঠোকাঠুকি-রেষারেষি’।
 
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সার্ক ফোয়ারার কাছে পান্থকুঞ্জের পাশে সিগনালে লাল অক্ষরে লেখা ‘পার্কিং নিষেধ’। অথচ সব সময় এখানে অর্ধ শতাধিক যাত্রী গাড়ির অপেক্ষায় থাকেন। 

কোনো গাড়ি এলে সবাই ছুটে যান। অন্যদিকে গণপরিবহনগুলোও এ্ই যাত্রীদের ওঠানোর জন্য প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে। এখনও একই অবস্থা দেখা যায় রাজীবের হাত হারানোর স্থানটিতে। (সম্প্রতি দুই বাসের রেষারেষিতে হাত কেটে পড়ে যায় রাজীবের। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।)
 
শনিবার এখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রাফিক সার্জেন্ট ফিরোজ খান। গণপরিবহনের রেষারেষি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজীবের হাত হারানোর পরও বাসগুলোর রেষারেষি থেমে নেই। তবে আমরা সব সময় শতভাগ সচেতন আছি। আমাদের সামনে এমন ঘটনা ঘটলেই অ্যাকশনে যাচ্ছি। 

রাজধানীর কারওয়ানবাজার এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে একটা বাস-বে দরকার। তাহলেই এখানে আর দুর্ঘটনা ঘটবে না। দুর্ঘটনা রোধে ট্রাফিক পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে। এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। চালকদেরও রেষারেষি আর অসুস্থ প্রতিযোগিতা পরিহার করতে হবে। 

বাংলাদেশ সময়: ০৬৩৪ ঘণ্টা, মে ১৩, ২০১৮
এমআইএস/এসআই

ফেনীতে ঈদ জামাতে দেশবাসীর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা
দেশবাসীকে মাশরাফির ঈদ শুভেচ্ছা
ভাঙন আতঙ্কে ঈদ আনন্দ নেই কমলনগরে
খুলনায় ঈদের জামাতে মুসল্লিদের ঢল
রাজশাহীতে ঈদের জামাতে সন্ত্রাসবাদ পরিহারের আহ্বান 
ত্যাগের মহিমায় উদযাপিত হচ্ছে ঈদুল আজহা
নামাজের পর চলছে পশু কোরবানি
জাতীয় ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হলো প্রধান জামাত 
সমুদ্র শহরের নিরাপত্তায় সাড়ে ৪শ’ নিরাপত্তাকর্মী
রাজধানীতে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত