দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আসছে ১৫০ রেল কোচ ও ২০ ইঞ্জিন 

মফিজুল সাদিক, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ফাইল ছবি

ঢাকা: প্রাথমিকভাবে ইন্দোনেশিয়া থেকে ১৫০ রেল কোচ আমদানির সিদ্ধান্ত হয়েছিলো। এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে উন্নতমানের ২০টি রেল ইঞ্জিন ও ১৫০টি কোচ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

২০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) ও ১৫০টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ (কোচ) সংগ্রহে মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৮৮১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৮০ কোটি ১০ লাখ টাকা দেবে দক্ষিণ কোরিয়া। অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীর চেয়ে কম হারে দশমিক শূন্য ১ শতাংশ সুদে সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা দিচ্ছে দেশটি। 

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) শামসুজ্জামান বাংলানিউজকে বলেন, ‘এবারই প্রথম কোরিয়া থেকে কোচ কিনবো। এর আগে দেশটি থেকে কয়েকটি ইঞ্জিন আনা হয়েছিলো, যার মান অন্য দেশের তুলনায় অনেক ভালো।  রেল কোচ ও ইঞ্জিন কেনা প্রকল্পে বড় অঙ্কের ঋণও দিচ্ছে কোরিয়া’।
 
‘বাংলাদেশ রেলের জন্য ২০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমেটিভ এবং ১৫০টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ সংগ্রহ’ প্রকল্পের আওতায় কোচ ও ইঞ্জিনগুলো কেনা হবে। 

চলতি সময় থেকে ২০২০ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।
 
রেল মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সরকার প্রাথমিকভাবে  ১০০টি মিটারগেজ ও ৫০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ ইন্দোনেশিয়া থেকে কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো। এ লক্ষ্যে  ইন্দোনেশিয়ার কোম্পানি ইনকার সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তিও হয়েছিলো। ১৫০টি কোচের ব্যয় নির্ধারিত হয়েছিলো ৬৮৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এতে প্রতিটি কোচের দাম পড়তো সাড়ে ৪ কোটি টাকা। 

তবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিটি কোচের দাম পড়বে আনুমানিক ৫ কোটি টাকা। সে হিসেবে নতুন পরিকল্পনায় কোচ বাবদ খরচ হবে ৭৫০ কোটি টাকা। বাকি ১ হাজার ১৩১ কোটি টাকা দিয়ে ২০টি ইলেকট্রিক রেল ইঞ্জিন কেনা হবে। প্রতিটি  কোরিয়ান ইঞ্জিনের দাম পড়ছে প্রায় ৫৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

ইন্দোনেশিয়া থেকে কোচ কেনার উদ্যোগ থেকে সরে আসার কারণ সম্পর্কে শামসুজ্জামান বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া এ খাতে বড় অংকের ঋণ দিচ্ছে। তাই সে দেশ থেকেই ইঞ্জিন ও কোচ কেনা হচ্ছে।
 
সূত্র জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়েতে যাত্রীবাহী ১ হাজার ১৬৫টি মিটারগেজ (এমজি) কোচ রয়েছে। মেকানিক্যাল কোড অনুসারে যাত্রীবাহী কোচের স্বাভাবিক অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ৩৫ বছর। এ আয়ুষ্কাল পার হয়ে যাওয়া ৪৫৬টি কোচের বয়স ৩৫ বছরের বেশি। আর পার হওয়ার পথে থাকা ১৩৫টির বয়স ৩১ থেকে ৩৪ বছরের মধ্যে। আরও ৫৯১টি কোচ বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে চলছে। 

ফলে যাত্রীদের নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। বেশি পুরনোগুলোর স্থলে যুক্ত হবে দক্ষিণ কোরিয়ার রেল কোচগুলো।
 
অন্যদিকে বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়েতে ২৮১টি ইঞ্জিন রয়েছে। এর মধ্যে ১৮৬টি মিটারগেজ ও ৯৬টি ব্রডগেজ। এসব ইঞ্জিনের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ২০ বছর। অথচ ইতোমধ্যেই ১৬৮টি ইঞ্জিনের বয়স ৩০ বছর অতিক্রম করেছে।  পুরনো হয়ে যাওয়া এসব ইঞ্জিনের মধ্যে রয়েছে ১১০টি মিটারগেজ ও ৫৮টি ব্রডগেজ। ব্যয়বহুল মেরামত ও অধিক জ্বালানি ব্যয়ের মাধ্যমে মেয়াদ উত্তীর্ণ এসব রেল ইঞ্জিন চলমান রাখা হয়েছে। অনেক পুরনো মডেল হওয়ায় মেরামতের সময় প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশও পাওয়া যাচ্ছে না। 

রেল ইঞ্জিন বহর থেকে পুরনোগুলো প্রত্যাহার করা জরুরি বলেও মনে করে মন্ত্রণালয়।
  
রেল মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কমল কৃষ্ণ ভট্টাচার্য বাংলানিউজকে বলেন, ‘নিরাপদ ও আরামদায়ক হওয়ায় রেলপথে যাত্রীর পাশাপাশি রেললাইনও বেড়েছে। ফলে বিদ্যমান কোচ ও ইঞ্জিন দিয়ে রেল পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছি। আমাদের অনেক রেল কোচ ও ইঞ্জিন পরিচালনাও অনেক ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।  তবে আশা করছি, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ইঞ্জিন ও কোচ চলে এলে রেলপথে আরও গতি বাড়বে’। 
 
বাংলাদেশ সময়: ০০৩৯ ঘণ্টা, জুলাই ১৮, ২০১৭
এমআইএস/আরআই/এএসআর
 


মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যার প্রতিবাদে প্রকম্পিত ফ্রান্স
টেংরার পর এবার গুতুম রেণু উৎপাদনের প্রযুক্তি উদ্ভাবন
ফতুল্লায় তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু
পটুয়াখালীতে ইয়াবাসহ যুবক আটক

Alexa