সেই বাদল ফরাজিকে মুক্ত করতে রিট খারিজ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

হাইকোর্ট/ফাইল ফটো

ঢাকা: বিনা অপরাধে ভারতের কারাগারে প্রায় ১০ বছর বন্দি থাকার পর  দেশে ফিরিয়ে আনা বাদল ফরাজিকে কারামুক্ত (ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার) করতে রিট উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (১১ জুলাই) বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। গত ৮ জুলাই এ রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবিরপল্লব ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওসার।

৬ জুলাই বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে জেট এয়ারের একটি ফ্লাইটে বাদলকে নিয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান দেশের প্রতিনিধি দল।এরপর প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে তাকে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়।

অতিরিক্ত কারা মহাপিদর্শক কর্নেল মো. ইকবাল হাসান বাংলানিউজকে শুক্রবার বলেছিলেন, শুক্রবার দুপুরের দিকে বাদলকে নিয়ে দিল্লির বিমানবন্দর থেকে রওয়ানা দেয় বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল। দলে পুলিশের দু’জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়েছেন। দেশে আনার পর তাকে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হবে। 

নিয়ম অনুযায়ী আপাতত বাদল ফরাজিকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ভারতের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় দিল্লির তিহার জেলে বন্দি বাংলাদেশের নাগরিক বাদল ফরাজিকে (২৮) ফিরিয়ে আনা হলো।

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানান, দেশে ফিরিয়ে আনার পর বাদল ফরাজিকে জেলে রেখেই বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী যা করার তাই করা হবে।

বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের কাছে ১৭ নম্বর ফারুকি রোডের বাসিন্দা আবদুল খালেক ফরাজি ও সারাফালি বেগমের ছেলে বাদল। টিএ ফারুক স্কুলের অষ্টম শ্রেণি পাস বাদলের ইচ্ছা ছিল তাজমহল দেখবে। এমন ইচ্ছায় ২০০৮ সালের ১৩ জুলাই দুপুরে বেনাপোল অভিবাসন কার্যালয়ে সব প্রক্রিয়া শেষ করে ভারতের হরিদাসপুর সীমান্তে প্রবেশের পরই সেখানকার একটি খুনের অপরাধে বাদলকে আটক করে বিএসএফ। হিন্দি বা ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে না পারার কারণে বিএসএফের কর্মকর্তাদের বোঝাতেই পারেননি যে খুনের অভিযোগ যে বাদলকে খোঁজা হচ্ছে তিনি সেই ব্যক্তি নন।

২০০৮ সালে ৬ মে দিল্লির অমর কলোনিতে এক বৃদ্ধাকে খুনের অভিযোগে বাদল সিং নামে এক ব্যক্তিকে খুঁজছিল পুলিশ। তাকে ধরতে সীমান্তেওসতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু শুধু দু’জনের নাম এক হওয়ায় বাংলাদেশি নাগরিক বাদল ফরাজিকে
আটক করে বিএসএফ। পরে ওই খুনের অভিযোগে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ নম্বর ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয় বাদলের বিরুদ্ধে।

২০১৫ সালের ৭ আগস্ট বাদলকে দোষী সাব্যস্ত করে দিল্লির সাকেট আদালত বাদলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। দিল্লি হাইকোর্টও নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখে। পরে বাদল ফরাজির স্থান হয় দিল্লির তিহার জেলে। বিনা দোষে এই সাজা মেনে না নিয়ে বাদল ফরাজি দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহায়তায় সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন। কিন্তু শীর্ষ আদালতও বাদলের আবেদন খারিজ করে দেন। ফলে গত ১০ বছরের বেশি সময় ধরে জেলেই কাটাতে হয়েছে বাদলকে।

বাংলাদেশ সময়: ১২২৩ ঘণ্টা, জুলাই ১১, ২০১৮
ইএস/এএ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: আদালত
সৈয়দপুরে ইউএনও’র মোবাইল নম্বর ক্লোন, টাকা দাবির অভিযোগ
এরশাদের সঙ্গে শ্রিংলার বৈঠক
জলাবদ্ধতা ইস্যুতে সিডিএর পরিকল্পনা জানতে চেয়েছে চসিক
নীলফামারীতে শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সংলাপ
খালেদাকে রাজনীতি থেকে সরানোর চক্রান্ত চলছে
‘নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিএনপিই ককটেল হামলা ঘটিয়েছে’
দুবাইতে একান্তে সময় কাটাচ্ছেন সালমান-জ্যাকলিন
নিজ ওয়ার্ডে ইভিএম চাইলেন আ’লীগের মেয়র প্রার্থী
ভোলায় ইলিশা ফেরিঘাট প্লাবিত
শরণার্থী প্রত্যাবাসন: ৩ জনকে বরখাস্তের নির্দেশ বিপ্লবের