ভূত ফিকশন 

সেরালি | বিএম বরকতউল্লাহ্

কিশোর গল্প/ইচ্ছেঘুড়ি | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ভূত ফিকশন 

সেরালি 
হাড়কিপটে নিঃসন্তান সেরালি অতঃপর এমন এক ফকিরবাবার সন্ধান পেলো, যিনি মানুষের মনের ব্যর্থ আশা পূরণ করে দিতে পারেন। সেরালির খুব বিশ্বাস হলো। সে মনে বড় আশা নিয়ে ফকিরবাবার দরবারে গিয়ে হাজির হলো।

সেখানে গিয়ে সেরালি অনেক নারী-পুরুষের সাক্ষাৎ পেলো- যারা ফকিরবাবার জন্য নানান মূল্যবান উপঢৌকন হাতে নিয়ে বসে আছে। তারা শত চেষ্টা করেও স্রষ্টার কাছ থেকে যা আদায় করতে পারেনি, তারা তা শ্রদ্ধা-ভক্তি ও উপঢৌকনের বিনিময়ে ফকিরবাবার কাছ থেকে পাওয়ার আশায় দরবারে এসেছে। এসব দেখে সেরালির মনের জোর আরো বেড়ে গেল এবং এক ফাঁকে সে ছুটে গিয়ে ফকিরবাবার পায়ে উপুড় হয়ে পড়ল। 

সেরালি চোখের জলে ফকিরবাবার কাছে তার কষ্টের কথা খুলে বললো। ফকিরবাবা চোখ বন্ধ করে তার সব কথা শুনলেন। সেরালি কান্নাভরা মুখে ফকির বাবার কাছে একটি সন্তান কামনা করলো। 

ফকিরবাবা সেরালির মাথায় হাত রেখে বললেন, এ বয়সে সন্তান দিলে তুই লালন-পালন করবি কেমনে রে সেরালি? সন্তান দিলেই কি হবে, মানুষ করতে হবে না?

সেরালি শক্তভাবে বললো, এ চিন্তা আপনার করতে হবে না বাবা। মুরব্বিদের দোয়ায় ও আপনার আদর-আশীর্বাদে আমার কোনো কিছুরই অভাব নেই। দশ পোলা দশজীবন শুয়ে-বসে খেলেও আমার সম্পদ ফুরাবে না। আর আমি সন্তানের মঙ্গলের জন্য যেখানে যা লাগবে চোখ বুঝে তা-ই করতে পারবো। সন্তান আবার মানুষ হয় না কেমনে!
যাহ্, তোর জন্য ব্যবস্থা একটা হবে। তুই নিশ্চিন্ত থাক। তো আমার জন্যে কী এনেছিস রে সেরালি। হাত বাড়িয়ে বললেন ফকিরবাবা।

আমি কি এতই নাদান যে খালি হাতে আপনার দরবারে কদম ফেলবো? এই বলে সেরালি তার ডান হাত কোঁচড়ে ঢুকিয়ে হাতিয়ে-মাতিয়ে একটা পুরনো কাপড়ের পুঁটলি বের করে আনলো। পুঁটলির কয়েকটা পরত ভেদ করে দলানো মোচড়ানো মলিন একটা দুই টাকার নোট বের করে সযত্নে বাড়িয়ে দিয়ে বললো, এই, এই নেন বাবা, আপনার উপঢৌকন। 

ফকিরবাবা সেরালির হাতে দুই টাকার মলিন নোটটা এক নজর দেখে রাগে কাঁপতে লাগলেন এবং হাত গুটিয়ে নিলেন। তিনি এই নাদান বক্ষিলের পিঠে এখন লাঠি ভাঙবেন, না তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিবেন ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না। ফকিরবাবা দ্রুত চোখ বন্ধ করে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ‘দয়াল বাবা দয়া করো’ বলে চুপ হয়ে গেলেন।  

সেরালি ফকিরবাবার সামনে দুই টাকার নোটটা ধরে হাত বাড়িয়ে বসে রইলো। 

হঠাৎ নীরবতা ভেঙে ফকিরবাবা চোখ বোঝা অবস্থায়ই সেরালির হাতটা সরিয়ে দিয়ে বললেন, তোর উপঢৌকন দেওয়ার দরকার নেই। এই মহামূল্যবান উপঢৌকন তোর ভবিষ্যৎ সন্তানের জন্য রেখে দে, কাজে লাগবে। তবে বাপধন, সন্তান পেতে হলে তোকে আরও কিছু কষ্ট করতে হবে যে, পারবিনি তুই?

পারবো না মানে! একশ বার পারবো। আমার শূন্য গোয়ালের চেয়ে দুষ্টু গরু ভালো। আমাকে পারতেই হবে, বাবা।
যা ব্যাটা, তুই পরীক্ষায় পাস। 

সেরালি আনন্দে হাতের টাকাটা কোঁচড় ভেদ করে গোপন পকেটে রেখে দিতে দিতে বলল, সন্তানের জন্য বেশুমার টাকা-পয়সা খরচ করা তো কোনো ব্যাপারই না আর কষ্ট করা তো অতি তুচ্ছ বিষয়। আমি সন্তানলাভের জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে রাজি আছি বাবা। আমাকে এখন কী করতে হবে, তাই আগে বলুন। সন্তান আমার চাই-ই চাই।

ফকিরবাবা চোখ বন্ধ করে একটা লম্বা শ্বাস ফেলে বললেন, পাকপরোয়ারদেগার তোর মতো দিলদরিয়া মানুষকে কেন যে সন্তান না দিয়ে এত বড়ো কষ্ট আর বিড়ম্বনার মধ্যে ফেলে দিলেন তার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছি না। তাঁর রহস্য বোঝা ভার! তবে তোর মত বান্দাকে ঠকিয়ে তিনি স্থির থাকতে পারেন না। এর মধ্যে জগত-সংসারের মালিক তোর জন্য কোনো উত্তম পুরস্কার নিয়ে বসে আছেন কি না কে জানে! কার মাধ্যমে যে তোর হাতে এই মহামূল্যবান পুরস্কার পৌঁছে দেবেন সেইটাই হলো কথা! 

সেরালি আবেগে অভিমানে মুখ বাড়িয়ে কি যেন বলতে চাইলো কিন্তু ফকিরবাবা হাত ইশারায় তাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, তোকে কিছু বলতে হবে না- ভাবতেও হবে না। আর কেউ না বুঝুক, উপরওয়ালা কিন্তু ঠিকই তোর কষ্ট বুঝতে পারছেন। তুই কোনো চিন্তা করিস না। তোর ভাগ্যে সন্তান যে আছে আমি তা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। এখন সন্তানটাকে ছহিসালামতে দুনিয়ার বুকে নিয়ে আসার সুবন্দোবস্ত করাটাই হলো আসল কাজ।

সেরালি ফকিরবাবার কথা শুনে মনে মনে খুব খুশি হলো। সে সন্তানের মুখে বাবা ডাকা, পিতার কাছে সন্তানের মান-অভিমান, খুনসুঁটি, দুষ্টুমি ছুটোছুটি এসব কল্পনা করে আনন্দে নেচে উঠলো। 

বাংলাদেশ সময়: ২০০৮ ঘণ্টা, অক্টোবর ২৭, ২০১৭
এএ

২০-২১ জুলাই খাগড়াছড়িতে সাংস্কৃতিক উৎসব
যেসব স্থান ভ্রমণ না করলে জীবনটাই বৃথা! (পর্ব-৩)
রাজশাহীতে ফুটপাত ছাড়া আর একটি রাস্তাও নির্মাণ হবে না
অবসাদ দূর করবে চকোলেট মিল্ক
বগুড়ায় ভুল চিকিৎসায় স্কুলছাত্রের মৃত্যুর অভিযোগ
শেষ সময়ে লটারি টিকিট কিনে বাজিমাত!
প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের ড্র
ভারতে ১৩ বছর জেল খেটে দেশে শাহাজান
তাড়াইল উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন কাঞ্চন আর নেই
শুধু পানি খেয়ে গুহায় ১০ দিন পার করেছি