আটুল আর বাটুল (পর্ব-৩) | বিএম বরকতউল্লাহ্

গল্প/ইচ্ছেঘুড়ি | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

আটুল আর বাটুল

রাজা আর রানির খাবার জোগাড় করবে শিয়াল
পরেরদিন পশু-পাখিরা একত্র হলো একটি খোলা মাঠে। রাজা বললো, আমি তোমাদের রাজা। আর এ বাটুল তোমাদের রানিমা। আগে তোমরা তোমাদের সম্মানিত রাজা-রানির থাকা-খাওয়ার সুবন্দোবস্ত করো তারপর হবে তোমাদের সুখ-শান্তির ব্যবস্থা।

সবাই বললো, খাওয়ার ব্যবস্থা? সেটা কীভাবে?
 
রাজা বললো, প্রতিদিন আমাদের তিনবেলা পশু-পাখির টাটকা গোশত এনে খাওয়াতে হবে। সেটা হতে পারে খরগোশের, হতে পারে বিড়ালের, হতে পারে হাঁস বা মুরগির, হতে পারে খট্টাসের, অগত্যা শেয়ালের মাংস হলেও চলবে। রাজা রানির পেট শান্তি তো বনেও শান্তি। তোমরা তখন নিরাপদে চলবে-ফিরবে, কেউ তোমাদের কিছু বলবে না, কিছু করবেও না। বুঝতে পেরেছ ব্যাপারটা?
 
রাজা আর রানির খাবার জোগাড় করার দায়িত্ব পড়লো শিয়ালের ওপর।

আটুল বাটুল রাজা রানি হয়ে এবং শিয়ালের উপর নিজেদের খাবারের ভার দিয়ে খুব খুশি। বনে ছিল একটি ডোবা। সেই ডোবার টলটলে জলে আটুল আর বাটুল গোসল করে বাসায় ফিরে গেলো। গোসলের পর তাদের আসল চেহারা বেরিয়ে পড়লো। 

বনের পশুপাখিরা রাজা রানিকে দেখে অবাক হয়ে বললো, হায়, আমরা যাদের রাজা আর রানি বানিয়েছি, এরাতো আসলে ভয়ংকর কুকুর!!
কিন্তু এখন আর কিছুই করার নেই।  


কুকুরের পেটে ঘি হজম হয় না 
শিয়ালেরা পালা করে একেক দিন একেক প্রাণীর গোশত এনে খাওয়ায়। যেদিন শিয়াল কোনো প্রাণী ধরে আনতে পারে না সেদিন সবাই থাকে লুকিয়ে।
 
রাজা বললো, তোমরা টাটকা খাবারের সন্ধানে রাতে চলে যাবে পাশের গ্রামে। ওই গ্রামের ঘরে ঘরে হাঁস মুরগি আছে। তোমরা নিয়ে আসবে ওসব। যাও।
 
শিয়ালেরা রাতের অন্ধকারে চলে যায় গ্রামে। তারা গৃহস্থবাড়ি থেকে চুপি চুপি নিয়ে আসে হাঁস আর মুরগি। রাজা আর রানি মজা করে খায়।
 
এদিকে রাজা রানিকে ঠিকমতো খাবার না দিতে পারলে, ক্ষুধার্ত রাজা রানি যে আচরণ করে তা সহ্য করা কঠিন।

পরেরদিন শিয়ালেরা গ্রামে ঢুকলো। তারা শুনতে পেলো, এক বুড়ি আফসোস করে বলছে, ‘কুকুরের পেটে ঘি হজম হয় না। আরামে ছিল, ভালো লাগেনি। এখন বুঝুক মজা।’

এ কথাটা শিয়ালের কানে বারবার বাজতে লাগলো। ‘কুকুরের পেটে ঘি হজম হয় না।’ ব্যাপারটা কি তাহলে?

শিয়াল বুদ্ধি করলো, আমরা তাহলে কুকুরকে ঘি খাইয়ে দেখি অবস্থাটা কি দাঁড়ায়।
 
এক শিয়াল বলল, চল আমরা হাঁস-মুরগির পরিবর্তে নিয়ে যাই ঘি। ঘি খাওয়াবো রাজা-রানিকে।
 
গৃহস্থের রান্নাঘরে ভাণ্ড ভর্তি ঘি। শিয়ালেরা ঘি’র ভাণ্ড নিয়ে গেলো।
 
একটা ভাণ্ড নিয়ে সামনে ধরতেই রাজা-রানি খেয়ে ফেললো সব ঘি। ঢেঁকুর তুলে বলে বাহ, এতো দেখছি মহামজাদার আর মূল্যবান খাবার। অনেকদিন পরে খেলাম। খুব দামি খাবার এটি। সত্যিই তোমরা বুদ্ধিমান প্রজা আমার। 

শিয়ালেরা ভাবে রাজা রানি তো দেখি ঘি’র পাগল। এভাবে ঘি কয়দিন খাওয়ানো যাবে। ফুরিয়ে গেলে পরের ব্যবস্থা কি!
 
এক বৃদ্ধ শিয়াল পরামর্শ দিয়ে বললো, রাজা-রানি যেভাবে ঘি পছন্দ করে খায় তাতে আর সমস্যা নেই। যে কোনো জিনিস ঘিয়ে মেখে দিলেই খেয়ে সাবাড় করে ফেলবে তারা।

চলবে…

***আটুল আর বাটুল (পর্ব-২) | বিএম বরকতউল্লাহ্
***আটুল আর বাটুল (পর্ব)-১ | বিএম বরকতউল্লাহ্

বাংলাদেশ সময়: ১৭৩৩ ঘণ্টা, অক্টোবর ০৫, ২০১৭
এএ

২০-২১ জুলাই খাগড়াছড়িতে সাংস্কৃতিক উৎসব
যেসব স্থান ভ্রমণ না করলে জীবনটাই বৃথা! (পর্ব-৩)
রাজশাহীতে ফুটপাত ছাড়া আর একটি রাস্তাও নির্মাণ হবে না
অবসাদ দূর করবে চকোলেট মিল্ক
বগুড়ায় ভুল চিকিৎসায় স্কুলছাত্রের মৃত্যুর অভিযোগ
শেষ সময়ে লটারি টিকিট কিনে বাজিমাত!
প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের ড্র
ভারতে ১৩ বছর জেল খেটে দেশে শাহাজান
তাড়াইল উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন কাঞ্চন আর নেই
শুধু পানি খেয়ে গুহায় ১০ দিন পার করেছি