দিনাজপুরে আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

মাহিদুল ইসলাম রিপন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

গাছে গাছে ফুটন্ত মুকুল থেকে বের হচ্ছে আমের গুটি

দিনাজপুর: ফাল্গুনের শুরুতে আম গাছের প্রতিটি শাখার কচি ডগার বুক ভেদ করে আসতে শুরু করে মুকুল। মাস পেরিয়ে যখন প্রায় শেষ প্রান্তে তখন আম গাছগুলোর ডাল-পালা ঢাকা পড়েছে থোকা-থোকা ঝুলন্ত মুকুলে। বাড়ির আশপাশ ও বাগানের আম গাছগুলোতে ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ ও মৌমাছির ছুটাছুটি এখন সার্বক্ষণিক। 

গাছে গাছে ফুটন্ত মুকুল থেকে বের হচ্ছে আমের গুটি। ভালো ফলন পাওয়ার আশায় গুটিদানা রক্ষার্থে বিরতিহীনভাবে গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছে বাগানি ও আম চাষীরা।

মঙ্গলবার (১৩ মার্চ) দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে প্রতিটি আম বাগানের এমন চিত্র দেখা যায়।

প্রচণ্ড শীত ও কুয়াশার সঙ্গে লড়াই করে গাছগুলো নিজেদের মুকুলকে রক্ষা করেছে। বর্তমানে মুকুলের ভিড়ে হাড়িয়ে গেছে ডাল-পালা। মাছি ও ঝিঁঝিঁ পোকার ঝিঁঝিঁ শব্দে আশপাশ মুখরিত করে তুলছে। এদিকে মুকুল টিকিয়ে রাখতে পরিচর্যায় ব্যস্ত বাগানের চাষীরা। যে পরিমাণের মুকুল দেখা দিয়েছে এতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে জেলায় রেকর্ড পরিমাণ আম উৎপাদনের সম্ভবনা রয়েছে বলে বাগানিরা আশা করছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর জেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় চার হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার গত মৌসুমের চেয়ে বেশি জমিতে আমের চাষ হচ্ছে। চলতি মৌসুমে প্রচুর পরিমাণের মুকুল দেখা দিয়েছে। মুকুল টিকিয়ে রাখতে চাষীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে কৃষি বিভাগ। 
আম গাছগুলোর ডাল-পালা ঢাকা পড়েছে থোকায় থোকায় ঝুলন্ত মুকুলে।
দিনাজপুর শহরের উপকন্ঠ লালবাগ এলাকার আম চাষী বাগানি মো. মামুনুর রশিদ বাংলানিউজকে জানান, গত কয়েক মৌসুমের চেয়ে এবার আম গাছে মুকুল অনেক বেশি। সঠিক পরিচর্যায় মুকুল টিকিয়ে রাখতে পারলে এবার রেকর্ড পরিমাণ আম উৎপাদন হবে। গাছে মুকুল আসার অনেক আগ থেকে পরিচর্যা শুরু করা হয়েছে। সব ধরনের শত্রাক থেকে গাছকে মুক্ত রাখতে বালাই নাশক প্রয়োগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি গাছের গড়ায় পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. তৌহিদুল ইকবাল বাংলানিউজকে জানান, চলতি মৌসুমে জেলার প্রায় চার হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ হবে। চলতি বাংলা মাসের শুরুতে আমের মুকুল আসতে শুরু করে। এবার যে পরিমাণের মুকুল দেখা দিয়েছে সে পরিমাণ উৎপাদন হলে জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকাসহ বিদেশে রফতানি করা সম্ভব হবে। 

চাষীদের সার্বিক সহযোগিতা দিতে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা চাষীদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। কীটনাশক, বালাইনাশক ব্যবহারে সঠিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ১০০ ভাগ গাছেই মুকুল দেখা দিয়েছে। আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে সব মুকুল থেকে আমের গুটি বের হবে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনূকুলে থাকলে আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান কৃষিবিদ মো. তৌহিদুল ইকবাল। 

বাংলাদেশ সময়: ১১০৫ ঘণ্টা, মার্চ ১৪, ২০১৮
এসআরএস/

একনেকে অনুমোদন পেলো ইভিএম কেনা প্রকল্প
‘আমি তো আপনাদের কাছেই শুনলাম’
আদালতের আদেশ লংঘনে সাতক্ষীরার সাবেক ডিসিসহ ৩ জনের জেল
কোটা ইস্যুতে ঢাবিতে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ-সমাবেশ
ভাঙনের হুঙ্কার দিয়ে পানিপ্রবাহ কমছে পদ্মায়
পরিবর্তনের জন্য জাতীয় ঐক্যর বিকল্প নেই: ড. কামাল
সোনালী ব্যাংকে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় অফিসার নিয়োগ
ভবন থেকে পড়ে ও বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত ২
শরতের রোদে ত্বকের সুরক্ষা
নিয়মের ব্যতয় ঘটালে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ