Alexa

২০১৬ সালে শরণার্থী হয়েছে পৌনে ৩ লাখ বাংলাদেশি

রহমান মাসুদ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

২০১৬ সালে শরণার্থী হয়েছে পৌনে ৩ লাখ বাংলাদেশি- ফাইল ফটো

ঢাকা: এপ্রিলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইউরোপ অভিমুখে যে জনস্রোত নেমেছে, তাতে অন্তত গত বছরে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া-ইরাক-আফগানিস্তানের বা দারিদ্র্যপীড়িত উত্তর আফ্রিকার চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে ছিল একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বাংলাদেশ।

আর সেই প্রতিবেদনকে গুরুত্ব দিয়ে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরও সোমবার (১৯ জুন) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। পরিসংখ্যান দিয়ে ইউএনএইচসিআর বলেছে, ২০১৬ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ‘শরণার্থী’ হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে দুই লাখ ৭৬ হাজার ২০৮ বাংলাদেশি। আশ্রয় প্রত্যাশার দেশের তালিকায় আমেরিকা বা প্রাচ্যের কিছু দেশ থাকলেও বেশিরভাগই ভিড়েছে ইউরোপে।
 
কারণ? ওই আইওএম’র প্রতিবেদনের মতোই বিশ্লেষণ ইউএনএইচসিআরের। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, ভাগ্য বিড়ম্বনা, জীবন সংগ্রাম থেকে পালিয়ে বাঁচতে উন্নত জীবন লাভের প্রত্যাশায় এই বাংলাদেশিরা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে স্থলপথে বা জলপথে দালালের হাত ধরে পাড়ি দিয়েছেন ইতালি-জার্মানি-স্পেন-ফ্রান্সের মতো দেশগুলোতে। অবশ্য সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান বা দক্ষিণ সুদানের মতো দেশগুলোর মানুষের স্বদেশ ছাড়ার পেছনের প্রধান কারণ অভ্যন্তরীণ হানাহানি-সংঘাতই।
 
ইউএনএইচসিআর গত বছরের যে দুই লাখ ৭৬ হাজার ২০৮ বাংলাদেশি শরণার্থীর হিসাব দিয়েছে, তার মধ্যে ৩৩ হাজার ২০৭ জন পেয়েছেন ‘শরণার্থী মর্যাদা’। একজনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বাকিরা চেয়েছেন অ্যাসাইলাম বা রাজনৈতিক আশ্রয়। অবশ্য এ সময়ে বাংলাদেশেও অ্যাসাইলাম চেয়েছেন ৪ জন বিদেশি।
 
ইউএনএইচসিআর’র প্রতিবেদনটির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাওয়া শরণার্থীর মধ্যে ফ্রান্সে অ্যাসাইলাম চেয়েছেন ৬ হাজার ৮৯ জন, ইতালিতে ৬ হাজার ৬৬৮ জন, যুক্তরাজ্যে ৩ হাজার ৯১ জন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ১ হাজার ৫৪১ জন। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় ১ হাজার ৩৪০ জন, অস্ট্রিয়ায় ২৯০ জন, ব্রাজিলে ১৫৮ জন, কানাডায় ২৮৮ জন, সাইপ্রাসে ১৩৩ জন, জার্মানিতে ২ হাজার ৫৯৩ জন, গ্রিসে ১ হাজার ৭৩১ জন, হাঙ্গেরিতে ২৫৬ জন, আয়ারল্যান্ডে ১০৩ জন, জাপানে ৪০৪ জন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৩৩৫ জন, দক্ষিন আফ্রিকায় ২ হাজার ৮৩৪ জন, সুইডেনে ১৪৮ জন বাংলাদেশি অ্যাসাইলাম চেয়েছেন।
 
ইউএনএইচসিআর’র বৈশ্বিক প্রতিবেদনটি বলছে, ২০১৬ সালে প্রতি মিনিটে ২০ জন মানুষ রাষ্ট্র হারিয়েছে। বিশ্বে বর্তমানে যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি শরণার্থী রয়েছে, যার সংখ্যা সাড়ে ২২ মিলিয়ন। চলতি বছরের এখন পর্যন্ত গত বছরের চেয়ে ৩ লাখ বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ২০১৬ সালে এই সংখ্যা ছিল ১০.৩ মিলিয়ন। এরমধ্যে ৬.৯ মিলিয়ন মানুষ দিয়েছেন সীমান্ত পাড়ি এবং ৩.৪ মিলিয়ন মানুষ চেয়েছেন অ্যাসাইলাম।
 
জাতিসংঘ সংস্থাটি আরও বলছে, নতুন করে শরণার্থী হওয়ার ঝুঁকিতে আছে আরও ১০ মিলিয়ন মানুষ। এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে বিশ্বের ৬৫.৬ মিলিয়ন মানুষ স্বদেশ ছেড়ে বিদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।
 
সংস্থাটি আরও বলছে, কেবল তাদের তত্ত্বাবধানেই বিশ্বের ৭৫টি দেশে ৩২ লাখ শরণার্থী আছেন। মোট শরণার্থীদের ৫১ ভাগেরই বয়স ১৮ বছরের নিচে। যদিও বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৩১ ভাগই এই বয়সের। এসব শরণার্থীদের ৮৪ ভাগই দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন। অন্যদিকে ২০১৬ সালে ২০ লাখ মানুষ অ্যাসাইলাম চেয়েছেন।
 
শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ইউরোপের দেশ জার্মানি। কেবল ২০১৬ সালেই দেশটিতে আশ্রয় পেয়েছে ৭ লাখ ২২ হাজার ৪০০ জন। এরপরেই আছে যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও তুরস্কের নাম। ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছেন ২ লাখ ৬২ হাজার জন, ইতালিতে ১ লাখ ২৩ হাজার এবং তুরস্কে ৭৮ হাজার জন। এ সময়ে বিভিন্ন দেশ থেকে ৫ লাখ ৫২ হাজার জন শরণার্থীকে স্বদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বিশ্বের মোট শরণার্থীর ৫৫ ভাগই তিন দেশের নাগরিক। এরমধ্যে সাড়ে ৫ মিলিয়ন সিরিয়ান, আড়াই মিলিয়ন আফগান ও ১.৪ মিলিয়ন দক্ষিণ সুদানিয়ান।
 
মঙ্গলবার ২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবস। এ উপলক্ষে সোমবার (১৯ জুন) প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, এই বিপুল সংখ্যক শরণার্থীর দিকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজর দেওয়া উচিত, নিশ্চিত করা উচিত তাদের মৌলিক নিরাপত্তা।
 
বাংলাদেশ সময়: ০১৫৩ ঘণ্টা, জুন ২০, ২০১৭
আরএম/এসজে/এনটি


ঈদের সকালে ঢাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা ক্ষীণ
ফরিদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মামা-ভাগ্নেসহ নিহত ৩
যাত্রীশূন্য ছিলো গাবতলী-কল্যাণপুর টার্মিনাল
ঈদে স্বস্তিতে বাড়ি ফেরা
ট্রাম্পের মুখ যখন সাঁতারের পোশাক!

Alexa