বিডিআর হত্যাযজ্ঞের আপিলের রায় ঘোষণা চলছে

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহ- ফাইল ফটো

ঢাকা: রাজধানীর পিলখানায় বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দফতরে হত্যাযজ্ঞের মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় দেওয়া শুরু করেছেন হাইকোর্ট। 

রোববার (২৬ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৫৫ মিনিট থেকে বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিশেষ (বৃহত্তর) হাইকোর্ট বেঞ্চ আলোচিত হত্যা মামলাটির রায় ঘোষণা করছেন। 

বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার।

এর আগে গত ১২ নভেম্বর থেকে হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ২৬ নভেম্বর রায় ঘোষণার জন্য রাখা হয় আপিল মামলাটি। 

প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের শুনানি ও যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন শেষে গত ১৩ এপ্রিল মামলাটির রায় ঘোষণা অপেক্ষমান (সিএভি) রাখেন হাইকোর্ট। 

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানার বিডিআর সদর দফতরে ৫৭ জন সেনা সদস্যসহ ৭৪ জনকে হত্যার দায়ে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ১৫২ জন বিডিআর সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দেন বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আখতারুজ্জামানের অস্থায়ী আদালত। 

পাশাপাশি অস্ত্র লুটের দায়ে ১০ বছর করে কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছর করে কারাদণ্ডও পেয়েছেন তারা। 


জীবিত ৮৪৬ জন আসামির মধ্যে আরও ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন, ২৫৬ জনকে তিন থেকে দশ বছরের কারাদণ্ড এবং ২৭৭ জনকে খালাস দেওয়া হয়। মামলার মোট ৮৫০ জন আসামির বাকি ৪ জন বিচার চলাকালেই মারা গেছেন।

ওই ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের মামলার বিচার চলছে বিচারিক আদালতে।

হত্যা মামলার রায়ের বিরুদ্ধে খালাসপ্রাপ্ত ২৭৭ জনের মধ্যে ৬৯ জন আসামির সাজা চেয়ে হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল ও ডেথ রেফারেন্স দায়ের করেন রাষ্ট্রপক্ষ। অন্যদিকে দণ্ডপ্রাপ্ত ৪১০ জন আসামির সাজা বাতিল চেয়ে রায়ের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আপিল করেন তাদের আইনজীবীরা।
 
পরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড ও কয়েকজনের সাজা বাড়াতে আরও দু’টি আবেদন জানিয়েছিলেন রাষ্ট্রপক্ষ। তবে দেরিতে আবেদন করায় গত ১৩ এপ্রিল আবেদন দু’টি বাতিল করে দেন হাইকোর্ট। 

এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে গত ৬ জুন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের বাতিলের আদেশটিই বহাল রাখেন।
 
২০১৫ সালের ৪ জানুয়ারি সকল ডেথ রেফারেন্স ও ফৌজদারি আপিলের শুনানির জন্য হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ বেঞ্চটি গঠন করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন। পরদিন ৫ জানুয়ারি বিশেষ বেঞ্চ বসে ১৮ জানুয়ারি শুনানি শুরুর দিন ধার্য করেন।

২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি থেকে বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিশেষ (বৃহত্তর) বেঞ্চে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শুরু হয়ে গত ১৩ এপ্রিল ৩৭০ কার্যদিবসে শেষ হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা, মোমতাজ উদ্দিন  ফকির  ও মোশাররফ  হোসেন কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোশাররফ হোসেন সরদার, শেখ বাহারুল ইসলাম ও  জাহিদ সরওয়ার কাজল ।

আসামিপক্ষে ছিলেন- অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, আবদুল বাসেত মজুমদার, মহসীন রশীদ, এস এম শাহজাহান, এ এস এম আবদুল মুবিন, মো. আমিনুল ইসলাম, দাউদুর রহমান মিনা, শামীম সরদার প্রমুখ। আর রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন হাসনা বেগম।

বাংলাদেশ সময়: ১০৫৮ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৫, ২০১৭
ইএস/এমএ

বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার পর ফুটবলটাও দেখার ইচ্ছে হয়নি
‘পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন’ রঙচটা জীবনের রকমারি আখ্যান
নিউইয়র্কের পথে অমিতাভ-রণবীরের সেলফি
ভারত সফরে গেলেন এরশাদ
কারও শর্ত মেনে নয়, নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী
বিধি অনুযায়ী নির্বাচন হবে: প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গা
সেরে উঠছে সেই অজগরটি
আগরতলায় স্বস্তির বৃষ্টি
মাগুরায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ 
কখন বলেছি ভালোবাসি না? শচীনকে প্রশ্ন জুহির