ঢামেকে ১০ টাকার চিকিৎসায় হুইলচেয়ারের ভাড়া হাজার!

আবাদুজ্জামান শিমুল, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

হুইলচেয়ারে রোগী বহন করছে এক নারী, ছবি: বাংলানিউজ

ঢাকা: দশ টাকার টিকিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে যেকোনো ধরনের প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়া গেলেও মুমূর্ষু ও গুরুতর আহত রোগী বহনে হুইলচেয়ারের ভাড়া দিতে হয় হাজার টাকা। এমনটাই অভিযোগ ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনদের।

বুধবার (০৮ জুলাই) সরেজমিনে ঢামেক হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে এমন চিত্রই দেখা যায়।

হাসপাতালের বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ ও নতুন ভবনে দেখা যায়, কিছু নারী হুইলচেয়ার নিয়ে রোগী বহনের জন্য অপেক্ষা করছেন। অনেকে আবার রোগী নিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব নারীদের অনেকেই বেসরকারি কর্মচারী হিসেবে হাসপাতালে কাজ করছেন।

ছয় বছরের শিশু মারিয়া। কুমিল্লা থেকে পায়ে সমস্যা নিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় এসেছে চিকিৎসার জন্য। ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে তাকে এক্সে করার পরামর্শ দেন।এসময় তাকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালের নতুন ভবনের নিচতলার এক্সে রুমে। কিন্তু সেখানে আগে থেকে অপেক্ষায় থাকা ময়না নামে এক নারী শিশু মারিয়াকে হুইলচেয়ারে করে এক্সে রুমের ভেতরে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে রেড়িয়ে মারিয়ার বাবা ফারুক মিয়ার কাছে তিনি ২শ’ টাকা দাবি করেন।

হুইল চেয়ারের জন্য রোগীদের গুনতে হয় হাজার টাকাএসময় এভাবে টাকা দাবি করায় অবাক হন ফারুক মিয়া। তিনি বলেন, রুমের বাইরে থেকে ভেতরে নিলেই দুইশ টাকা! আমিতো ১০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটেছি। আপনি দুইশ টাকা দাবি করছেন, এটা কেমন বিচার। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সাংবাদিকদের উপস্থিত টের পেয়ে হুইলচেয়ার নিয়ে দ্রুত কেটে পড়েন ময়না।

এভাবে শাহানাজ, মুনিরা, মাকসুদা ও সুফিয়া নামে অনেক নারীকেই দেখা যায় হুইলচেয়ার নিয়ে অপেক্ষা করতে। এমনকি তাদের পাশ দিয়ে কোনো রোগী হেটে গেলে হুইলচেয়ার লাগবে কিনা জিজ্ঞাস করতেও দেখা যায়।

এক রোগীর স্বজন তাসমিনা ইয়াসমিন বাংলানিউজকে বলেন, গত ২৬ জুন শারীরিক অসুস্থতার জন্য আজিমপুর থেকে তার মা জান্নাতুল রহমানকে (৫৭) ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তার মাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে লেগেছে মাত্র ২৫ টাকা। এরমধ্যে টিকিট ১০ টাকা ও ভর্তি ফাইল ১৫ টাকা।

তিনি আরও জানান, চিকিৎসকদের পরার্শক্রমে কয়েকদিন আগে মাকে বাসায় নিয়েছি। তিনি এখন সুস্থ আছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো চিকিৎসার প্রয়োজনে মাকসুদা নামে এক নারী মাকে হুইলচেয়ারে করে নতুন ভবনে নিয়ে যান। পরে তিনি আমাদের কাছে রোগী বহনের জন্য এক হাজার টাকা দাবি করেন। এক হাজার টাকা কেন? জানতে চাইলে তার তোপের মুখেও পড়তে হয় আমাদের। এক পর্যায়ে তিনি (মাকসুদা) জানান, এটা হুইলচেয়ারের ভাড়া। পড়ে আমরা তাকে এক হাজার টাকা দিয়ে দেই।

জানতে চাইলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন জানান, হুইলচেয়ারগুলো বিভিন্ন ওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে রোগী বহনের জন্য, ব্যবসার জন্য নয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ২১৪০ ঘণ্টা, আগস্ট ০৮, ২০১৮
এজেডএস/ওএইচ/

ব্যস্ত সময় পার করছেন মাগুরার কামারেরা
চাপ বেড়েছে শিমুলিয়া ঘাটে, পারের অপেক্ষায় ৩৫০ গাড়ি
জাবির ভর্তি পরীক্ষার অনলাইন আবেদন শুরু
‘মিস্টার ফিফটি’র জন্মদিন
খানজাহান আলী বিমানবন্দরের জন্য জমির দখল হস্তান্তর
যুক্তরাষ্ট্রে সাকিব কন্যার প্রথম স্কুল
মাগুরায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে মা মনসা দেবীর পূজা
স্ত্রীর মরদেহ, আংশিক গলাকাটা স্বামী ও ২ সন্তান ঢামেকে
অচলাবস্থা থেকে বের হতে পারছে না সরকার
খুলনায় গৃহবধূ হত্যায় স্বামীর ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ