মানুষ আমাকে কাছে পেয়েছে, তাই দাবি রয়েছে

শেখ তানজির আহমেদ, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

একান্ত সাক্ষাৎকারে সংসদ সদস্য মুস্তফা লুৎফুল্লাহ  

সাতক্ষীরা: আমিতো রাজধানী কেন্দ্রিক মানুষ না। আমার রাজনীতি, আমার বেড়ে ওঠা তৃণমূল পর্যায় থেকে। কপোতাক্ষ আন্দোলন, জলাবদ্ধতা মুক্ত আন্দোলন ও জামায়াত-শিবিরের সহিংসতাবিরোধী আন্দোলনসব সব আন্দোলনই আমি রাজপথে থেকে, তালা-কলারোয়ায় থেকে করেছি। 

সঙ্গত কারণেই মানুষ সমস্যায়, সুখে-দুঃখে আমাকে সবসময় কাছে পেয়েছে। আমাকে পাওয়ার ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোনো সময় বেধে দেওয়া ছিল না। আমি মানুষের সঙ্গে মিশতে পেরেছি। তাই মানুষের কাছেও আমার দাবি রয়েছে। সেই দাবি নিয়েই আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। 

সম্প্রতি সাতক্ষীরা শহরে নিজ বাড়িতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলাপকালে বাংলানিউজের কাছে এভাবেই নিজের অবস্থান তুলে ধরেন সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য ও দলটির জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ। 

বাংলানিউজকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে মুস্তফা লুৎফুল্লাহ বলেন, এ এলাকায় সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি একেবারেই বন্ধ হয়েছে। এটা আমি গর্ব করে বলতে পারি। সংখ্যালঘুরা দেশের অন্যান্য যে কোনো জায়গার চেয়ে এখানে বেশি মর্যাদা-সম্মান নিয়ে বসবাস করছেন। তালা-কলারোয়ার মানুষকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি আরও বেশি আকৃষ্ট করতে এবং প্রার্থী হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি বলে মনে করি। 

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কী ভাবছেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি সন্ধিক্ষণ। এ নির্বাচনে একাত্তরের পরাজিত শক্তি জামায়াত-বিএনপি যদি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে, তাহলে এদেশে আবার একটি একাত্তর হবে। এদেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার সরকার উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিশ্বের কাছে রোল মডেল। এখন যদি নির্বাচনে জনগণ সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করে, তাহলে ইতিহাসের চাকা পেছনে ঘুরবে। একাত্তরের পরাজিত শক্তি এদেশকে রক্তাক্ত করবে। উন্নয়ন থমকে দাঁড়াবে। কারণ লুটেরাদের হাতে, ধর্মান্ধদের হাতে, মৌলবাদিদের হাতে, জঙ্গিদের হাতে দেশ চলে যাবে। 

বিগত সাড়ে চার বছরে নির্বাচনী এলাকার জন্য কী কী করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি যখন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি, তখন সাতক্ষীরা অঞ্চল বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত ছিল। জামায়াত-শিবির এখানে ১৬ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল। রাজপথ বিচ্ছিন্ন করে, গাছ কেটে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকজনের বাড়ি-ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট করে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল তারা। আমার নির্বাচনের প্রধান শর্ত ছিল, জামায়াত-বিএনপির তাণ্ডব বন্ধ করা, যারা নির্যাতনের কারণে এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছিল তাদের ফিরিয়ে আনা। এ কাজটি আমি সর্বপ্রথম পালন করেছি। তারপর এলাকায় স্থিতিশীল অবস্থা ফিরিয়ে এনেছি। ওই নির্বাচনে আলাদা কোনো প্রতিশ্রুতি ছিল না। সহিংসতা বন্ধ এবং জামায়াতের যারা যুদ্ধাপরাধী, তাদের বিচার তরান্বিত করাই ছিল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তা করা হয়েছে। 

একান্ত সাক্ষাৎকারে সংসদ সদস্য মুস্তফা লুৎফুল্লাহ  তালা-কলারোয়ার প্রধান সমস্যা ছিল জলাবদ্ধতা। এ সমস্যা নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন। কিন্তু আমাদের আমলাতন্ত্র, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজ বুঝে নেওয়া ছিল প্রধান চ্যালেঞ্জ। আমি নির্বাচিত হওয়ায় এ কাজ সঠিকভাবে হয়েছে। তাই ২৮ বছর পর কৃষকেরা এবার ফসল ঘরে তুলতে পেরেছেন, তারা ফসলের উৎসব করেছেন। আমি নির্বাচিত হওয়ার পর এলজিইডির রাস্তা সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ হয়েছে অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এলাকার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে, যোগ করেন মুস্তফা লুৎফুল্লাহ। 

তালা-কলারোয়ার ৯৭ ভাগ মানুষকে বিদ্যুতায়নের আওতায় আনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। জামায়াত-বিএনপিও কল্পনা করতে পারেনি। সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, গর্ভবতী ভাতা, ১০ টাকা কেজিতে চাল দেওয়া ও ভিজিএফ’র চাল বিতরণ করার কারণে মানুষ অভাব ভুলে গেছে। এখন কৃষকেরা ১০ টাকায় অ্যাকাউন্ট খুলছেন। বিএনপির আমলে সারের জন্য মানুষকে রক্ত দিতে হয়েছে। এখন সারের দাম প্রতিনিয়ত কমছে। সার কৃষকের পেছনে ছুটছে। 

আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে তিনি বলেন, তালা-কলারোয়ার অধিকাংশ প্রার্থীই ঢাকায় থাকেন। আমরা যাদের (জামায়াত-বিএনপি) বিরুদ্ধে লড়াই করছি, তাদের সঙ্গে অন্য প্রার্থীদের যদি গোপন আতাত থেকে থাকে আর মানুষ যদি সেটা জানতে পারেন- তাহলে তাদের ভোট দেবে কেন? 

সংসদ সদস্য মুস্তফা লুৎফুল্লাহ বলেন, এখানে দুর্নীতি বন্ধ হয়েছে বলবো না। কিন্তু আমি তো নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত রেখেছি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলার তো জায়গা তৈরি করেছি। 

মুস্তফা লুৎফুল্লাহ ক্ষমতাসীন দলের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, এখানকার রাজনীতিতে যে উপদলীয় কোন্দল আছে- আমি তো নিজেকে তাতে জড়াইনি। উপদলীয় কোন্দলে প্রশাসনকে ব্যবহার করিনি। 

প্রসঙ্গত, মুস্তফা লুৎফুল্লাহ ২০১৩ সালে রাজপথে থেকে সাতক্ষীরায় জামায়াত-শিবিরের চালানো তাণ্ডব মোকাবেলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান এবং সাতক্ষীরা-১ আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সরদার মুজিব। তাকে প্রায় ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মুস্তফা লুৎফুল্লাহ। 

বাংলাদেশ সময়: ০৮১৮ ঘণ্টা, জুন ২৫, ২০১৮
এসআই

অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হেড কোচ নাভিদ নেওয়াজ
পিজিসিবির সঙ্গে গ্রামীণফোনের চুক্তি
এসএস স্টিলের আইপিও অনুমোদন
কুবিতে শিক্ষার্থী কল্যাণ তহবিল গঠনের দাবি
ওসমানী হাসপাতালে নার্সিং অ্যাসোসিয়েশন নেতার ওপর হামলা
ভোমরা বন্দরে ধর্মঘট ডেকেছেন ব্যবসায়ীরা
ভাল্লুকের আক্রমণে প্রাণ গেলো সেনা কর্মকর্তার
সরকারকে জিম্মি করে ‘রিপ্লেসমেন্ট’ সুবিধা চায় হাব
পাহাড়কে গুরুত্ব দিয়ে কৃষি শুমারির পথচলা
হলমার্কের জেসমিনের মেডিকেল রিপোর্ট চেয়েছেন হাইকোর্ট