ঈদে দুই সখীর ঘোরাঘুরি

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

পাখি মনি ও হিরা মনি টিকিটের লাইনে। ছবি: ডিএইচ বাদল

ঢাকা: পাখি মনি ও হিরা মনি। দু’জনেই বয়সের ভারে ন্যুব্জ। তবে শরীরের বয়স বাড়লেও মনের বয়স বাড়তে দেননি। এখনও যেন শৈশবের দুরন্তপনায় মেতে থাকতে চান দু’জনে। বয়সকে চাপা দিয়ে ঘোরাঘুরি করে ফুরফুরে রাখতে চান মন।

ঈদুর ফিতরের ছুটিতে যদি রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রে উপচেপড়া ভিড়ের মধ্যে এ দু’জনকে দেখা যায়, এমনটি মনে হবে না কার? রোববার (১৭ জুন) শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের টিকিট নেওয়ার লাইনে দুই সখীকে দেখে অনেকেই চোখ পিটপিট করে তাকিয়ে ছিলেন।

লাইনটি তখন কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের গেট পেরিয়ে আরও পেছনের দিকে চলে এসেছে। এরই মাঝে দাঁড়ানো পাখি ও হিরা। প্রথমে মনে হয়েছিল হয়তো পরিবারের অন্যদের সঙ্গে এসেছেন। কিন্তু লাইন এগিয়ে যখন তারা কাউন্টারের সামনে, পাখি ব্যাগ থেকে টাকা বের করে দু’টো টিকিট চাইলেন।

সে দুই টিকিট নিয়ে হাসতে হাসতে বেরিয়ে এলেন তিনি। শারীরিক বয়সের কারণে পা ধীরলয়েই চললেও উচ্ছ্বাস যেন সেই সোনালী কৈশোরেরই। পাখি বাংলানিউজকে বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে আমরা দুই বান্ধবীই ঘুরে বেড়াচ্ছি। প্রতি ঈদেই ঘুরি। হিরা থাকলে মজা পাই।’

পাখির চেয়ে হিরাকে একটু রাশভারীই মনে হলো। হয়তো শরীর তেমন আর টানতে চায় না। তবু পাখির টানেই হেঁটে চলেন। বলছিলেন, ‘পাখি থাকলে ভরসা লাগে। সে চালু।’

পাখি মনি ও হিরা মনির বাড়ি রাজধানীর কাঁটাবনের আশপাশে। এভাবে ঘুরতে বেরোনোর সময় পরিবারের কাউকে সঙ্গে নেন না? এমন প্রশ্নের উত্তরে পাখি বলেন, ‘আমাদের কেউ নেই।’ তখন তার মুখটা মলিন হয়ে উঠলো যেন। মনে হলো কোনো বেদনা চাপা দিতে চাইলেন। 

আবার তখনই তুড়ি মেরে সবকিছু উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘যতদিন বেঁচে আছি, আমাদের বন্ধুত্ব থাকবে। আমরা ঘুরে আনন্দ পাই।’

জাদুঘরে তাদের মতো ‘বয়স্করাও’ যখন ঈদের আনন্দ উপভোগ করছেন, তখন বোঝাই যায় কেমন মুখর হয়ে উঠেছে এ প্রাঙ্গণ। বাতাস থাকলেও ভ্যাঁপসা গরম। সবকিছু ছাপিয়ে দর্শনার্থীতে সরগরম ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক এই অঙ্গন।

আহসান কবীর নামে পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী তার পুরো পরিবার নিয়ে এসেছেন জাদুঘরে। বাংলানিউজকে বলেন, ‘জাদুঘরে এলে অতীতে জানা হয়। তাই অনেক ভাল লাগে। বাচ্চারাও খুব পছন্দ করে।’

লায়ালা রায়হান এসেছেন তার বান্ধবীদের সঙ্গে। বলেন, ‘সারাবছরই তো নানা জায়গায় ঘোরাঘুরি করি। ঈদের ছুটিতে জাদুঘরে প্রতিবার আসি। অনেক ভাল লাগে।’

জাতীয় জাদুঘর শনি থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকে। বৃহস্পতিবার ছুটি দিয়ে শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা হয়। বাংলাদেশি ও সার্কভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য প্রবেশমূল্য ২০ টাকা, শিশুদের জন্য ১০ টাকা। আর অন্য দেশের নাগরিকদের প্রবেশমূল্য ১০০ টাকা।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৪৫ ঘণ্টা, জুন ১৭, ২০১৮
ইইউডি/এইচএ/

হালকা বৃষ্টি স্বস্তি নামালো নগরীতে 
জনগণের ওপর সরকারের আস্থা নেই: মোশাররফ
জয়পুরহাটে ছুরিকাঘাতে জেলা ছাত্রলীগের সম্পাদক আহত
তীব্র তাপদাহের পর স্বস্তির বৃষ্টি
খালেদা ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না
রঙতুলির আঁচড়ে শেখ হাসিনা
তাপদাহে রাজশাহীর জনজীবন ত্রাহি অবস্থা
সিঙ্গাপুরে ১৫ লাখ লোকের তথ্য হ্যাক
সৈয়দপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ দশমিক ১ ডিগ্রি
কুড়িগ্রামে প্রচণ্ড দাবদাহে জনজীবন ওষ্ঠাগত