হতাশায় দিন কাটছে বাঁশশিল্পের কারিগরদের

দেলোয়ার হোসেন বাদল, সিনিয়র ফটো করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

বাঁশশিল্পের কারিগররা। ছবি-ভিডিও: ডিএইচ বাদল

ঢাকা: বৃদ্ধ সুরুজ ব্যাপারির বয়স ৯৭ ছুইঁ ছুইঁ। কানে কম শোনেন কিন্ত তার চোখের নজর এখনও তীক্ষ্ণ। শীতের সকালে রোদে বসে আপন মনে এ বয়সেও ঝুড়ি তৈরি করছেন দ্রুতগতিতে।

বৃদ্ধ ওই হস্তশিল্পীর কাছে গিয়ে কয়েকবার জিজ্ঞেস করি, ও দাদু কত বছর ঝুড়ি তৈরির কাজ করছেন? তিনি হাসিমুখে উত্তর দিলেন, ‘ছোটবেলা থেকে করছি বাপু। বাঁশশিল্পের কারিগররা। ছবি- ডিএইচ বাদলযতোদিন আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখবে নিজে কাজ করে খেয়ে যেতে চাই গো। আগে কাজ করতাম আনন্দের সঙ্গে এখন করি হতাশাগ্রস্ত হয়ে গো বাপু। আমাদের এই পণ্য এখন বেশি বিক্রি হয় না। 'প্লাস্টিক' আইসা আমাদের ভাতে মারছে।’.পাশেই তার স্ত্রীকে দেখিয়ে বৃদ্ধ বললেন, যা কাজ করে পাই, তা দিয়ে বুড়াবুড়ির কোনমতে দিন চলে যায়। ছেলে মাদ্রাসায় পড়ে। আর মেয়েদের বিয়ে দিসি।বাঁশশিল্পের কারিগররা। ছবি- ডিএইচ বাদলবাংলানিউজের সঙ্গে কথা হয় কালাম পাটোয়ারি (৪৬) নামে আরেক কারিগরের। তিনি জানান, জন্মের আগে থেকেই তাদের এই ব্যবসা। বর্তমানে ব্যবসা মন্দা চলছে। বাঁশশিল্পের কারিগররা। ছবি- ডিএইচ বাদলহস্তশিল্পজাত পণ্যগুলো আর আগের মতো বিক্রি হয় না। যা হয় তা দিয়ে ছেলেমেয়ে নিয়ে সংসার চালাতে খুবই কষ্ট হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, কয়েক বছর আগেও নরসিংদীর বেলাবো, কায়না, উবাগা, বরাট ও বটমা গ্রামে প্রায় ১ লাখ লোক এ কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বাঁশশিল্পের কারিগররা। ছবি- ডিএইচ বাদলকেউ বাঁশ বিক্রি করতেন, কেউ বাঁশ কাটার কন্ট্রাক্ট নিতেন, কেউ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। পরে সবার থেকে পণ্যগুলো কিনে বাজারে বিক্রি করতেন। কিন্তু এখন এ কাজ করে নিজেই বাঁচা মুশকিল। কথা হয় স্কুলপড়ুয়া সিনথিয়ার সঙ্গে, কিসে পড়ো জানাতে চাইলে সে বলে, আমি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ি। সিনথিয়া লেখাপড়ার পাশাপাশি ঝুড়ি বানাতে বাবা-মাকে সাহায্য করে। সে তার বাবা-মাকে ঝুড়ি বানাতে দেখে সব রপ্ত করে নিয়েছে বলে বাংলানিউজকে জানায়।বাঁশশিল্পের কারিগররা। ছবি- ডিএইচ বাদলকয়েক বছর আগেও সৌদি আরব, কুয়েত, দুবাই, কাতার, চীন, লন্ডনসহ অন্য দেশে কাঁচামাল হিসেবে এ পণ্য রফতানি হতো। তখন কাঁচামালগুলো তাজা থাকতো পরে তা বন্ধ হয়ে যায়।বাঁশশিল্পের কারিগররা। ছবি- ডিএইচ বাদল এরপর সমস্যায় পড়ে যান এই পেশার কারিগররা। কেন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এ শিল্প তা জানে না খেটে খাওয়া মানুষগুলো। প্রয়োজনীয় অর্থ ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে জেলার ঐতিহ্যবাহী বাঁশশিল্প। বাঁশশিল্পের কারিগররা। ছবি- ডিএইচ বাদলঅনেকেই তাদের পৈত্রিক পেশা ছেড়ে অন্য কাজে যোগ দিচ্ছেন। শুধু বেলাবো, কায়না ও উবাগা গ্রামের মানুষ চালিয়ে যাচ্ছে তাদের বাপ-দাদার পেশাকে।

বাংলাদেশ সময়: ১২২৭ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৩, ২০১৮
এএটি/আরআর

 

মতিঝর্নায় র‌্যাবের সঙ্গে গুলিবিনিময়, নিহত ২
আনিসুল হকের প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেনি ডিএনসিসি
অনিয়ম-দুর্নীতিতেও কম যান না কবি নজরুলের সেই শিক্ষক!
সাংহাইয়ের হোয়াংপু ও ঢাকার বুড়িগঙ্গা
রহস্য দ্বীপ (পর্ব-৮২)
‘দেখেও না দেখার ভান করতে হচ্ছে’
গরমে স্বস্তি পেতে চাই সবুজ নগরী
১৪ দলের পরিধি বাড়াতে আপত্তি শরিকদের
দাউদকান্দিতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক ব্যবসায়ী নিহত
লালমনিরহাটে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ধর্ষক গ্রেফতার