ভাষার জন্য কোনো সীমারেখা রাখা উচিৎ নয়: মোস্তফা জব্বার

ইউনিভার্সিটি করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার, ছবি: বাংলানিউজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: ভাষার ক্ষেত্রে সাধারণত কোনো সীমারেখা রাখা উচিৎ নয় বলে মনে করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার।

তিনি বলেন, ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর মধ্যে রাষ্ট্রীয় সীমানা থাকুক। কিন্তু ভাষাগত নয়। ভাষাটা সারা পৃথিবীতে একই হওয়া উচিত। এ জায়গাটায় মতবিনিময় হওয়া ভালো।

মঙ্গলবার (১০ জুলাই) বেলা ১১টায় বাংলা একাডেমির শহিদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলা একাডেমি ও ডোমেইন নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইকানের (ইন্টারনেট করপোরেশন ফর অ্যাসাইন্ড নেমস অ্যান্ড নাম্বারস) যৌথ উদ্যোগে ‘বাংলা ভাষা অঞ্চলের জন্য বাংলা ইউনিকোড লিপি উন্নয়নে নিউ ব্রাহ্মী জেনারেশন প্যানেল (এনবিজিপি)’ এর সঙ্গে বাংলাদেশের গবেষকদের এ মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অথিতির বক্তব্যে মোস্তফা জব্বার বলেন, বাংলা ভাষা আমাদের কাছে কতোটা প্রিয় কিংবা বাংলা বর্ণমালা আমাদের কাছে কতোটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই। বাস্তবতা হচ্ছে বাংলা ভাষা পৃথিবীর একটিমাত্র দেশের রাষ্ট্রভাষা। যেটি হলো বাংলাদেশ। তাই বাংলাভাষার চর্চা, গবেষণা, ভাষা সম্পর্কিত উন্নয়নের কাজগুলোকে সামনে নিয়ে যাওয়া এবং তথ্যপ্রযুক্তি প্রয়োগ করা। এটি আমাদের আত্মার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়।

ভাষার জন্য সংগ্রামের মতো এর প্রযুক্তিগত উন্নয়নে আমাদের চেষ্টার ঘাটতি ছিলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, বস্তুত বাংলা ভাষার জন্য আমরা লড়াইটা যতোটুকু করেছি প্রযুক্তিগত দিক থেকে ততোটা কাজ আমরা করিনি। যার কারণে যখন আমরা দেশকে স্বাধীন করলাম তখন আমাদের বাংলা হরফ তৈরি করার মতো অবস্থা আমাদের ছিলো না।

তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে বাংলা ভাষার ব্যবহারিক ক্ষেত্রে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশের ভাষাবিজ্ঞানীসহ সাধারণ ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা ও মতামতকে বাংলা ইউনিকোড লিপি উন্নয়নে বিবেচনায় রাখতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বাংলা ভাষার প্রযুক্তিগত ব্যবহারকে যুগোপযোগী এবং সহজসাধ্য করতে বেশ কিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

সরকার ভাষার উন্নয়নে একটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। সম্ভবত বাংলা ভাষার ইতিহাসে এ প্রথম এতো বড় একটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ সরকার ১৫৯ কোটি টাকার প্রকল্পের মধ্যে ১৬টি টুলস ডেভেলপ করছে। এর মধ্যে রয়েছে অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিডর, মেশিন ট্রান্সলেশন, করপাস গড়ে তোলা, বাংলা ভাষার প্রমিতকরণের ভিত্তিতে তার লেখার পদ্ধতি তৈরি করা, প্রতিবন্ধিদের জন্য কেমন করে ব্যবহার করা যেতে পারে সে বিষয়ের অন্তর্ভুক্তি রয়েছে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন- বাংলা একাডেমির মহ‍াপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান, অধ্যাপক ড. পবিত্র সরকার, অধ্যাপক ড. উদয় নারায়ণ সিংহ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব শ্যামসুন্দর সিকদার, ড. মনিরুজ্জামান, অধ্যাপক জীনাত ইমতিয়াজ আলী, অধ্যাপক সৈয়দ শাহরিয়ার রহমান, সমীরণ গুপ্ত, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোস্তফা কামাল, অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান খান, ড. স্বরোচিষ সরকার, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সুভাষ সিংহ রায়, গবেষক রাজীব চক্রবর্তী এবং থাইল্যান্ডের পিটিনান কুয়ারমর্নপাতানাসহ বিষয় সংশ্লিষ্ট গবেষকরা।

বাংলাদেশ সময়: ১৫৩০ ঘণ্টা, জুলাই ১০, ২০১৮
এসকেবি/ওএইচ/

স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের বোর্ড সভা ২৬ জুলাই
ইন্দো-বাংলা ফার্মার আইপিওতে আবেদন শুরু ২২ জুলাই
জাস্টিন-হেইলির বিয়ে আগামী বছর!
অবসরে অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি কাহিল
বর্ষায় উৎসবের সাজ 
স্টিয়ারিং থেকে এবার ককপিটে সৌদি নারীরা
জাপানে বন্যার পর তীব্র তাপদাহ, ১৪ জনের প্রাণহানি
ফুড গ্রেডেড প্যাকেটে এলো ওএমএসের আটা
রাজধানীতে ৩৬ মাদক ব্যবসায়ী আটক
নড়াইলের মামলায় ফের খালেদা জিয়ার জামিন নামঞ্জুর