শিক্ষা প্রশাসনে ‘শুদ্ধি অভিযান’

ইসমাইল হোসেন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের লোগো

ঢাকা: প্রশ্ন ফাঁস, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগের মধ্যে শিক্ষাখাতে বড় ধরনের শুদ্ধি অভিযান চলছে। এই অভিযানে কর্মকর্তাদের বদলির কাজ শুরু হয়েছে। অপেক্ষাকৃত বেশি দুর্নীতিবাজদের দূরে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বছরের পর বছর শিক্ষা প্রশাসনে থেকে সংশ্লিষ্টরা দুর্নীতি অনিয়ম করে আসায় বদলির উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার পৃথক দু’টি আদেশে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসা ৩০ জন কর্মকর্তাকে বদলি করেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর, ঢাকাসহ কয়েকটি শিক্ষাবোর্ড, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এবং নিরীক্ষা অধিদফতরের ৩০ জন কর্মকর্তার মধ্যে ঢাকার ২৩ জনকে বাইরে বদলি করেছে মন্ত্রণালয়।

সরকারি নিয়ম হলো, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক দফতরে টানা তিন বছরের বেশি সময় রাখা যাবে না। এছাড়া গতবছরের ১০ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত আলাদা একটি নীতিমালা জারি করেছিল।

এতে বলা হয়, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা এখন থেকে একই দফতর বা সংস্থায় টানা তিন বছরের বেশি সময় থাকতে পারবেন না। কোনো কর্মকর্তাকে একটি দফতর থেকে অন্য কোনো দফতর বা সংস্থায় বদলিও করা যাবে না।

চলমান এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার পর দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে আসা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাপারে সরকারি নিয়ম এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা শিক্ষা মন্ত্রণালয়েই লঙ্ঘন করা হচ্ছিল বলে সমালোচনা করে আসছিলেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের সচিব শাহেদুল খবির চৌধুরী ২০০৯ সালের মার্চ থেকে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন। ২০০৯ সাল থেকে তপন কুমার সরকার উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক থেকে এখন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দায়িত্বে আছেন। কলেজ পরিদর্শক আশফাকুশ সালেহীন ও বিদ্যালয় পরিদর্শক এটিএম মইনুল হোসেন ২০১৪ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে এলেও তাদেরকে বদলি করা হয়েছে।

উপ-পরিচালক ফজলে এলাহী ২০১০ সাল থেকে (বদলি করা হয়েছে), উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাসুদা বেগম ২০০৯ সাল থেকে (বদলি করা হয়েছে), উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আল মাসুদ করিম ২০১৫ সাল থেকে উপ-কলেজ পরিদর্শক মন্মথ রঞ্জন বাড়ৈ ২০১৫ সাল থেকে, উপ-সচিব মুহাম্মদ নাজমুল হক ২০০৯ সাল থেকে উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (বদলি করা হয়েছে), উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অদ্বৈত কুমার রায় ২০১৩ সাল থেকে উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।  

এদিন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের সাতজন কর্মকর্তাকেও বদলি করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দীর্ঘ দিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসা এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদবির করে ঢাকায় থাকার অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন পদে থেকে নানা রকম দুর্নীতিতেও জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে এদের বিরুদ্ধে।

এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ না করতে পারায় সমালোচনার মুখে পদত্যাগের জন্য যাওয়া শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ দুর্নীতি ও প্রশ্ন ফাঁস রোধ করতে কঠোর হতে বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কর্মকর্তারা বলছেন, এরই ধারাবাহিকতায় এই অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানের মধ্যে দুর্নীতির বাইরে থাকলেও কেবল দীর্ঘদিন পদে থাকায় বদলি করা হয়েছে তাদের। এদের মধ্যে একজন কলেজ পরিদর্শক আশফাকুশ সালেহীন। 

শিক্ষা প্রশাসনের এমন আরো বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে আগামী সপ্তাহের মধ্যে বদলি করা হবে বলে জানান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ সময়:০৭০৫ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৮

এমআইএইচ / জেএম

আকাশপথে সরকারি সফরে বিমান ব্যবহারের নির্দেশ 
সৈয়দপুর বিমানবন্দরে মালদ্বীপ ফুটবল দলকে ফুলেল শুভেচ্ছা
পার্বত্যাঞ্চলের জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করছে সরকার
টানা উইকেট পতনে বিপাকে পাকিস্তান
ককটেলসহ ৩ শিবির নেতা গ্রেফতার
বাবুগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের মারধরে ছাত্র অজ্ঞান
ডুজার ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
পদ্মায় তীব্র স্রোত ও নাব্য সংকটে ফেরি চলাচল ব্যাহত
সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হলো বাংলাদেশ ভবন
খালেদার সুচিকিৎসার দাবিতে ঢাবিতে মানববন্ধন