প্রতি বছর অর্থনৈতিক শুমারির তথ্য হালনাগাদ করা হবে

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

‘স্ট্যাটিস্টিক্যাল বিজনেজ রেজিস্টারের খসড়া প্রশ্নপত্র বিষয়ে মতামত’ শীর্ষক কর্মশালা

ঢাকা: এখন থেকে প্রতি বছর অর্থনৈতিক শুমারির তথ্য হালনাগাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, সাধারণত অর্থনৈতিক শুমারির তথ্য পেতে ১০ বছর অপেক।সা করতে হয়। এখন থেকে প্রতি ২ বছর পর পর এ শুমারি করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ভবনে ‘স্ট্যাটিস্টিক্যাল বিজনেজ রেজিস্টারের খসড়া প্রশ্নপত্র বিষয়ে মতামত’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব কথা জানান মন্ত্রী।
 
পরিসংখ্যান সচিব কেএম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, এসডিজির মূখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য জুয়েনা আজিজ। 

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে, কিন্তু পুরাতন তথ্য দিয়ে এখনো আমাদের চলতে হয়। ফলে অনেক কিছুর গ্যাপ থেকেই যায়। তাই আমরা প্রতি বছর বছর ইকোনোমিক ইউনিটের আপডেট করার চেষ্টা করবো। অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশ প্রতি ছয় মাস পর পর হালনাগাদ করে। আমরা প্রথমে হয়তো ছয় মাস পর পর আপডেট করতে পারবো না, তবে বছরওয়ারী করার একটা টার্গেট থাকবে।
 
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশ স্বাধীনের পরে মাত্র তিন বার অর্থনৈতিক শুমারি হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৩ সালে অর্থনৈতিক শুমারি হয়। এখন ‘স্ট্যাটিস্টিক্যাল বিজনেজ রেজিস্টার ও অর্থনৈতিক শুমারি মিলে একটা রূপ দেবো। কারণ দুটোর লক্ষ্য-উদ্দেশ্যই অভিন্ন। আমরা আলাদাভাবে দু’টা চালু রাখবো না, যে কোনো একটা রাখবো।’
 
গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আমাদের চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। তার পরেও অসুবিধা রয়ে গেছে। কারণ আমাদের অর্থনীতি অনেক বড় হয়েছে। সামনে আমাদের বিশাল টার্গেট, এটা করতে হলে আরও সমুদ্র বন্দর দরকার। আরও গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের জন্য আমরা উন্নয়ন সহযোগী খুঁজছি।
 
তথ্য সংগ্রহ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তথ্য সংগ্রহ করতে হলে আমাদের নিজস্ব জনবল থাকতে হবে। প্রতিটা ইউনিয়নে আমাদের তথ্য সংগ্রহকারী থাকতে হবে। এতে করে সঠিক তথ্য আসবে। আর ঢাকা থেকে তথ্য সংগ্রহকারী গেলে আমরা সঠিত তথ্য পাওয়া যাবে না। কারণ ইউনিয়ন পর্যায়ের মানুষ তথ্য দিতে ভয় পাবে। সব মানুষের ভয়ভীতি দূর করে আমাদের তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। বর্তমানে দেশে মোট ৭৮ লাখ ১৮ হাজার ৫৬৫টি ইকোনোমিক ইউনিট রয়েছে।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, আমাদের গ্রাম আর গ্রাম নেই। গ্রামেও শহরের ছোঁয়া। কৃষিবহির্ভূত অর্থনীতি কর্মকাণ্ড হয় ঘরের ভেতরে। গ্রামের কৃষকরা শুধু কৃষিতে আটকে নেই। এর বাইরেও তারা কাজ করছে। এসব তথ্য আপডেট করা দরকার। ফলে উন্নয়ন সহযোগিরা আরও বেশি বেশি বিনিয়োগ করবে।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, এসডিজির অনেক সূচকের ডাটা আমাদের নেই। যা আমাদের দরকার। কারণ আরো অনেক সূচক যুক্ত হবে। এই ডাটা দেয়ার দায়িত্ব পরিসংখ্যান ব্যুরোর।

তিনি বলেন, আমাদের যেখানে যা তথ্য দেয়া দরকার তা দেই না। তথ্য ব্যবস্থাপনার জন্য দরকার জাতীয় পর্যায়ের কমিটি,  যা নেই।

বাংলাদেশ সময়: ২০৩৮ ঘণ্টা, অক্টোবর ১২, ২০১৭
এমআইএস/এসএইচ


বেশি দামে ওষুধ বিক্রি, মৌলভীবাজারে ফার্মাসিস্ট আটক
ফেঞ্চুগঞ্জে ট্রান্সফর্মারে আগুনে ক্ষতি ৩০ কোটি টাকা
আখাউড়ায় মদ ও ইয়াবাসহ আটক ৩
নেত্রকোনায় ইয়াবাসহ মাদক বিক্রেতা আটক
প্যারিস পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

Alexa