চমেক হাসপাতাল

বিশ ঘণ্টায় ৪৫০০ রোগী ভর্তি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ধর্মঘটের কারণে চমেক হাসপাতালে রোগীর ভিড়। ছবি: উজ্জ্বল ধর

চট্টগ্রাম: বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ধর্মঘটের কারণে চাপ বেড়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে। রোববার (০৮ জুলাই) বিকেল ৫টা থেকে সোমবার(০৯ জুলাই) দুপুর ১টা পর্যন্ত সাড়ে ৪ হাজার রোগী চমেক হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন।

চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, রোগী বাড়লেও সকলের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। যতো রোগী হোক, কেউ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হবে না।

সোমবার চমেক হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, অর্থোপেডিক বিভাগ, শিশু রোগ বিভাগ, সার্জারি বিভাগ, হৃদরোগ বিভাগসহ হাসপাতালের ৪০টি ওয়ার্ড ও বিভাগে রোগীর ভর্তির সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।

বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ধর্মঘটের কারণে চমেক হাসপাতালে রোগীর ভিড়। ছবি: উজ্জ্বল ধরজরুরি বিভাগের টিকিট কাউন্টারে দায়িত্বরত কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, প্রতিদিন সাধারণত জরুরি বিভাগে প্রায় ৬০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। কিন্তু রোববার বিকেল ৫টা থেকে সোমবার দুপুর ১টা পর্যন্ত ১১০০ রোগী এসেছেন। এরমধ্যে সোমবার সকালে এসেছেন ৫০০ রোগী।

চমেক হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. বহ্নি চক্রবর্তী বাংলানিউজকে বলেন, আউটডোর-ইনডোর মিলে সাড়ে ৪ হাজার রোগী দুপুর পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা নিতে এসেছেন। অন্যসময় আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন।

চমেক হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় রয়েছে শিশু রোগ বিভাগ। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, রোগীদের শয্যার সংকুলান না হওয়া ফ্লোরে বেড বিছিয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। এ বিভাগে  সোমবার সকাল থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ১০০ শিশু ভর্তি হয়েছে।

শ্বাসকষ্ট নিয়ে ২ বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে বাঁশখালী থেকে এসেছেন মা আয়েশা বেগম।

বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ধর্মঘটের কারণে চমেক হাসপাতালে রোগীর ভিড়। ছবি: উজ্জ্বল ধরতিনি বাংলানিউজকে বলে, শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় তাকে বেসরকারি একটি হাসপাতালে ভর্তি করানোর জন্য শিশু বিশেষজ্ঞ এক ডাক্তার পরামর্শ দিয়েছিলো। কিন্তু সকালে দেখি ওই হাসপাতাল বন্ধ। পরে তাড়াতাড়ি চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসি। হাসপাতালে সিট না পেলেও ফ্লোরে রেখে তাকে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

অর্থোপেডিক বিভাগে আগে থেকে থাকা রোগীর সঙ্গে বাড়তি রোগী ভর্তি হওয়ায় এ বিভাগে চাপ বেড়েছে সবচেয়ে বেশি।

সীতাকুণ্ড উপজেলা থেকে অর্থোপেডিক বিভাগে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা আহসান উল্লাহ বাংলানিউজকে বলেন, ‘বেসরকারি হাসপাতাল মৃত্যুকূপ! একদিকে বাড়তি টাকা অন্যদিকে জীবনের অনিশ্চয়তা। বেসরকারি হাসপাতাল বন্ধ হয়েছে খুব ভালো হয়েছে। চিকিৎসাসেবা নিতে তাই সরকারি হাসপাতালে চলে আসলাম। একটু কষ্ট হলেও টাকাও বাচবে।’

হৃদরোগ নিয়ে চমেক হাসপাতালে আসেন মো. আবুল কালাম। বাড়ি সাতকানিয়া হলেও বাসা নগরের জিইসি মোড়ে। 

তিনি জানান, ন্যাশনাল হাসপাতালের এক চিকিৎসকের পরামর্শে সোমবার সকালে ভর্তি হওয়ার কথা ছিলো সেখানে। সকালে ভর্তি হতে গেলে সেখান থেকে তাকে জানানো হয়, এখানে ভর্তি হওয়া যাবে না। চিকিৎসার জন্য তাকে সরকারি হাসপাতালে যেতে হবে। আর সে কারণেই চমেকে চলে আসেন তিনি।

চমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আখতারুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, রোগী বাড়লেও সকলের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। যতো রোগী আসবে সবার চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে।

বেসরকারি হাসপাতাল বন্ধ থাকলে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

ম্যাক্স হাসপাতালে রোববার অভিযান চালায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এর প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেয় বেসরকারি হাসপাতাল মালিক সমিতি। ফলে সোমবার (০৯ জুলাই) নগরের সব বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ রাখেন।

পরবর্তীতে বেলা ১২টার দিকে ধর্মঘট সাময়িত স্থগিত করেন বেসরকারি হাসপাতাল মালিক সমিতির নেতারা।

চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতালে ধর্মঘট স্থগিত

বাংলাদেশ সময়: ১৪২০ ঘণ্টা, জুলাই ০৯, ২০১৮

জেইউ/টিসি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: ম্যাক্স হাপাতাল
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টাইগারদের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড
শেষ দুই ওভারের ঝড়ে টাইগারদের লড়াকু সংগ্রহ, টার্গেট ২৮০
তামিমের সেঞ্চুরি, অল্পের জন্য পারলেন না সাকিব
কাঁচা রাস্তা পাকাকরণে প্রকল্প চাইলেন নাছির
সাকিব-তামিম জুটির রেকর্ড
প্রিমিয়ারে কারিকুলাম ডিজাইন নিয়ে কর্মশালা
গৃহবধূ ধর্ষণ, আদালতে ৩ যুবকের জবানবন্দি
জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করল পাকিস্তান
ভালো মানুষ সংগঠিত হলে অশুভ শক্তি থাকবে না
ইডিইউতে জেন্ডার ও উন্নয়ন নিয়ে সেমিনার