পাহাড়ে অবৈধ বসতি উচ্ছেদে বাধা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

মতিঝর্ণায় পাহাড়ের খাদে বসতি উচ্ছেদ করছে প্রশাসন। ছবি: সোহেল সরওয়ার/বাংলানিউজ

চট্টগ্রাম: জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে নগরীর মতিঝর্ণায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসতি উচ্ছেদে বাধা দিয়েছে স্থানীয় লোকজন। 

বুধবার (১১ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।

অভিযানের শুরুতেই নগরীর লালখানবাজার ওয়ার্ডের মতিঝর্ণা এলাকার পাহাড়ের খাদে ঝুঁকিপূর্ণভাবে থাকা বেশ কয়েকটি ঘরের স্থাপনা ভেঙে দেয়া হয়। এসময় বেশ কয়েকটি ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগও বিছিন্ন করা হয়।

উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই স্থানীয়লোকজন বিক্ষোভ শুরু করে। বিক্ষোভে নারীদের সামনে দেখা গেছে। উচ্ছেদে দায়িত্বরত পুলিশের নারী কনস্টেবলদের সাথে তারা বাকবিতণ্ডা করতে থাকে। এসময় পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে চাইলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।     

মতিঝর্ণার পাহাড়ের খাদে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসতি উচ্ছেদে বাধা দিচ্ছে স্থানীয়রা। ছবি: সোহেল সরওয়ার/বাংলানিউজ

চান্দগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাব্বির রহমান সানি বাংলানিউজকে বলেন, ‘প্রশাসনের নির্দেশনায় মতিঝর্ণার ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের খাদে বসবাসকারীদের সরে যেতে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার মাইকিং করা হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে বসবাসরতদের মঙ্গলবারের (১০ এপ্রিল) মধ্যে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সমেয় বেঁধে দেয়া হয়েছিল। নির্দেশনার পরেও তারা সরেনি। তাদের উচ্ছেদে অভিয‍ান চলছে।’

এসময় পাহাড়ের খাদে বসবাসরত রুনু বেগম নামে এক স্থানীয় নারী বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমরা তো এখানে ৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে থাকি। বর্ষা আসলে আমরা সতর্ক থাকি। কোন সমস্যা নেই আমোদের। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম আসার আগে ম্যাজিস্ট্রেট এসে আমাদের উচ্ছেদ করতে চায়। আমরা এসব মানবো না।’

একইভাবে ফাহমিদা নামে আরেক স্থানীয় নারী জানান, আমরা বাসা ভাড়ার পাশাপাশি, গ্যাস বিল ও বিদ্যুৎ বিল দিয়ে এখানে থাকি। অবৈধভাবে তো থাকি না। আমাদেরকে কেন অবৈধ বলে উচ্ছেদ করছে। আমাদের ঘরের ছাউনি ভেঙে দিচ্ছে। আমরা গরিব মানুষ। দিনে এনে দিনে খাই, আমরা এখন কোথায় থাকবো?

নির্দেশনার পরেও পাহাড়ের খাদে বসবাসরতরা সরে না যাওয়ায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দেলোয়ার হোসেন নিজে মতিঝর্ণা এলাকায় গিয়ে উচ্ছেদ অভিযানের নির্দেশনা দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধভাবে পাহাড়ের খাদে বসবাসরতদের কাঁচা বসতবাড়ির স্থাপনা ভাঙতে শুরু করে। তখনই স্থানীয় নারীরা বিক্ষোভ শুরু করে।

পরে স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে পুরোপুরি উচ্ছেদ অভিযান শেষ না করেই পুলিশী পাহাড়ায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের চলে যেতে দেখা গেছে।

সদর সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মনসুর বাংলানিউজকে বলেন, মতিঝর্ণার পাহাড় ও পাহাড়ের খাদে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীরা নির্দেশনার পরেও সরে না যাওয়ায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাহাড়ের খাদে অবৈধভাবে বসবাসরতদের সরাতে এই উচ্ছেদ অভিযান। অভিযানে পাহাড়ের খাদে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত ১০/১২টি বাড়ির স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১৫টি বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

উচ্ছেদ কাজে বাধা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল্লাহ আল মনসুর বলেন, ‘আমরা এসেছি তাদের বাঁচাতে। পাহাড়ধসে তাদের প্রাণহানি ঠেকাতে এবং নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য। প্রশাসনের নির্দেশনা আছে, পাহাড়ের যাতে অবৈধভাবে বসতি না করে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের উসকানিতে তারা অভিযানে বাধা দিয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে জানানো হয়েছে।পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হবে।’

উচ্ছেদ অভিোনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধি, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিনিধি এবং নগর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরে যেতে আল্টিমেটাম

বাংলাদেশ সময়: ১২১৫ ঘণ্টা, এপ্রিল ১১, ২০১৮
এসবি/টিসি

বিশ্বকাপ বিদায়ে নেইমারের বলটাও দেখার ইচ্ছে হয়নি
‘পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন’ রঙচটা জীবনের রকমারি আখ্যান
নিউইয়র্কের পথে অমিতাভ-রণবীরের সেলফি
ভারত সফরে গেলেন এরশাদ
কারও শর্ত মেনে নয়, নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী
বিধি অনুযায়ী নির্বাচন হবে: প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গা
সেরে উঠছে সেই অজগরটি
আগরতলায় স্বস্তির বৃষ্টি
মাগুরায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ 
কখন বলেছি ভালোবাসি না? শচীনকে প্রশ্ন জুহির