সেই বিদেশি ছাত্রকে খুনের পর আত্মহত্যার চেষ্টা করে বন্ধু

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ইউএসটিসির ভারতীয় ছাত্র আতেফ শেখকে (লাল শার্ট) খুনের পর আত্মহত্যার চেষ্টা করে আসামি মাইসনাম উইনসন শিং

চট্টগ্রাম: বেসরকারি ইউএসটিসির ভারতীয় ছাত্র আতেফ শেখকে (২৪) খুনের পর আসামি মাইসনাম উইনসন শিং (২৪) কোমরের বেল্ট ফ্যানে লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল বলে নিশ্চিত হয়েছে পিবিআই। মূলত খুনের পর সংগৃহীত আলামতের ডিএনএ পরীক্ষার পর চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়।

সোমবার (১২ মার্চ) পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর জনসংযোগ কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা বাংলানিউজকে এসব বিষয় নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, খুনের পর আলামত হিসেবে সংগৃহীত রক্ত, ছুরি, ছুরির বাঁট, চাদর ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের জন্য ঢাকায় সিআইডির ডিএনএ ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়। সেখান থেকে জানানো হয়, এসব আলামতের মধ্যে রক্ত, ছুরি, চাদর থেকে একজনের ডিএনএ এবং ছুরির বাঁট থেকে ভিন্ন একজন পুরুষের ডিএনএ পাওয়া গেছে। এর প্রেক্ষিতে সন্দেহভাজন আসামি মাইসনাম উইনসন শিং ও গানঞ্জমাই নীরাজের ডিএনএ তুলনামূলক পরীক্ষার জন্য বিজ্ঞ আদালতের অনুমতি নিয়ে আবার পাঠানো হয়। এরপর ছুরির বাঁট থেকে ভিন্ন একজন পুরুষের ডিএনএর সঙ্গে মাইসনাম উইনসন শিং’র ডিএনএর মিল পাওয়া যায়। গানঞ্জমাই নীরাজের ডিএনএর সঙ্গে কোনো ডিএনএ মেলেনি।

সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, ঘটনার মোটিভ জানার জন্য মাইসনাম উইনসন শিংকে আবার রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে জানিয়ে বলেন, ঘটনাস্থলে জব্দ করা ছোরা ব্যবহার করে ভিকটিম আতিফ শেখকে উপর্যুপুরি আঘাত করে গলা কেটে হত্যা করার পর আবেগতাড়িত হয়ে নিজের ব্যবহৃত প্যান্টের বেল্ট দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে মাইসনাম উইনসন শিং।

ইউএসটিসির ভারতীয় মেডিকেল শিক্ষার্থী মো. আতেফ শেখের সঙ্গে নগরীর আকবর শাহ্ থানাধীন আব্দুল হামিদ সড়কের লেকভিউ সোসাইটির হাজি ইউসুফ ম্যানশনে মাইসনাম উইনসন শিং, গানঞ্জমাই নীরাজ এবং তোঙ্গবরম জয়েস্তানা দেবী বসবাস করা অবস্থায় ২০১৭ সালের ১৪ জুলাই আনুমানিক সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত সাড়ে ১০টার মধ্যে ছেলের বন্ধু প্রভাকর লাইসরাম, মালেমনগনবা মায়েংবাম, অথোকপাম রোনাল্ড, প্রমোশ চাকমা ওরফে টুকু, ৫) সজল চাকমা ওরফে মুনসহ ড্রিংকস্ পার্টির ব্যবস্থা করেন। তারা ইউএসটিসির এমবিবিএস এবং বিবিএ কোর্সের ছাত্র। এরপর রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টা ৫০ এর মধ্যে  মাইসনাম উইনসন শিং’র রুম থেকে আতেফ শেখকে গলা কাটা ও মাইসনাম উইনসন শিংকে ফ্যানের সঙ্গে গলায় বেল্ট দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক মামলার আবদুল খালেকের ছেলে আতেফ শেখকে মৃত ঘোষণা করেন।

বাদী সন্দেহ করেন যে, আসামিদের মারাত্মক আঘাতের কারণে বাদীর ছেলে মারা যায়। বাদী আব্দুল খালেক এজাহার দিলে পরদিন ১৮ জুলাই আকবর শাহ্ থানায় মামলা  (নম্বর: ২০, ধারা: ৩০২/৩৪ দণ্ড বিধি) রুজু হয়। পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন ভূঁইয়া মামলার প্রাথমিক তদন্তভার নেন। তিনি গানঞ্জমাই নীরাজকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেন। ওই বছরের ২০ জুলাই পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা মামলার পরবর্তী তদন্তভার নেন।

তিনি মামলার প্রধান সন্দেহভাজন আসামি মাইসনাম উইনসন শিংকে গ্রেফতার করেন। বার বার রিমান্ডে এনে ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করেন। জিজ্ঞাসাবাদে মাইসনাম উইনসন শিং জানান যে, ঘটনার আগে পরে সব কিছু তার মনে থাকলেও ঘটনার সময়টুকু সে স্মৃতিচারণ করতে পারছে না। এর পর তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের অনুমতিক্রমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের ছয় সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করে মাইসনাম উইনসন শিং’র মানসিক অবস্থা সম্পর্কে মতামত নেন। মেডিকেল বোর্ড মাইসনাম উইনসন শিং ইচ্ছাকৃতভাবে স্মৃতিচারণ করতে না পারার বিষয়টি বলার চেষ্টা করছে মর্মে প্রতিবেদন দেয়। এরপর ডিএনএ টেস্টের সিদ্ধান্ত নেন।

ভারতীয় শিক্ষার্থী খুন

বাংলাদেশ সময়: ১৮০৪ ঘণ্টা, মার্চ ১২, ২০১৮ 

এআর/টিসি

আবাসিকে গ্যাস সংকট থাকছে না চট্টগ্রামে
এনআরসি ইস্যুতে দ্বিধা বিভক্ত সরকার, অভিযোগ বীরজিতের
প্রধানমন্ত্রীকে এসএমএস করে কোরবানির গরু পেলেন তারা
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিট চালু
পাসপোর্ট করতে এসে রোহিঙ্গা তরুণী আটক
ব্যাংকের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ
যাত্রীর চাপ সামলাতে ফিটনেসবিহীন বাস-ট্রাক
পঁচাত্তরের খুনিদের ক্ষমতায় দেখতে চায় না জনগণ
সদরঘাটে ঘরমুখো যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়
ট্রেনের ছাদ-ইঞ্জিন-বগি, বাদ নেই কিছুই!