ইডিইউর গানের পাখি কমল গন্ধা

চট্টগ্রাম প্রতিদিন ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

কমল গন্ধা

চট্টগ্রাম: ‘এখন গান নিয়ে আসছেন ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী কমল গন্ধা’ উপস্থাপকের এমন ঘোষণায় ততক্ষণে পুরো হলরুমে করতালি।  ইউনিভার্সিটির সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হলেই মঞ্চে দেখা যায় মেয়েটিকে।

একটি নয়, দুটি নয়। অনুরোধ রাখতে গিয়ে কখনও তাকে ৩টির বেশি গান গাইতে হয়। রবীন্দ্র সংগীত দিয়েই তার পরিচিতি। সুমিষ্ট গলায় ভেসে উঠে ‘পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে’ কিংবা ‘পাতার ভেলা ভাসাইলিরে’।

গান গেয়ে কমলের খ্যাতি এখন ক্যাম্পাস জুড়ে। না, কেবল ক্যাম্পাস বললে ভুল হবে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেতার কিংবা চট্টগ্রামের সব বড় মঞ্চের জনপ্রিয় মুখ এখন ইডিইউর এই ছাত্রী।

পড়ছেন ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে, অথচ গান নিয়েই নাকি সারাদিন নাড়াচাড়া! পিতা শান্তি বিকাশ দত্ত। মা শ্রিপা দত্ত। দুই ভাই-বোনের মধ্যে কমল সবার বড়।

ছোটবেলায় মেয়ের গানের প্রতি আগ্রহ দেখে বাবা হারমোনিয়াম কিনে দিয়েছিলেন। ব্যস্ তাতেই সর্বনাশ! মেয়ের গলায় যেন রবীন্দ্র সংগীত ঠিক মানিয়ে গেলো কবিগুরুর আশীর্বাদে। 

গানটাকে খুব ভালোবাসেন মেয়েটি। বললেন, একদিনও গান ছাড়া থাকতে পারি না। সংগীত চর্চার বিষয়। সাধনা করতে হয়। আরও বহুদূর যেতে চাই। শুদ্ধধারার সংগীতে বেঁচে থাকতে চাই অনেকদিন।

ইডিইউ’র ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষার্থী কমল গন্ধা

ইডিইউর ক্যান্টিনে বসে কৃতী ছাত্রী কমলের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। একটু পরেই ক্লাস শুরু। চপের প্লেটে চামুচ চালাতে-চালাতে কথার পিঠে কথায় মেয়েটি জানালেন, ৪/৫ বছর বয়সে বাবার হাত ধরে প্রথম গানের স্কুলে যান।

আর্য্য সংগীত সমিতিতে হাতেখড়ি। সময়টা ১৯৯৯ সাল। উচ্চাঙ্গ সংগীতে ওস্তাদ মিহির লালার কাছে পাঠ শুরু। দুই বছর যেতে না যেতেই খুব ভোরে বাবার ঘুম থেকে ডাকাডাকি ‘রেওয়াজ করার সময় হলো’।

এভাবেই সংগীতকে ভালোবাসা। এখন মন চাইলেও গান ছাড়া থাকা যায় না। সুরবন্ধু অশোক চৌধুরী, প্রদীপ চৌধুরী, প্রমোদ দত্ত, প্রদীপ দাশসহ অনেক গুণী ব্যক্তিদের কাছে তালিম নেয়ার সৌভাগ্য হয়েছে মেয়েটির।

ঝুলিতে জমা হয়েছে জাতীয় শিশু কিশোর প্রতিযোগিতা, নতুন কুঁড়ি, বাংলাদেশ রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী সংস্থা, বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা, সুরেন্দ্র লাল দাশ স্মৃতি স্বর্ণপদক, স্বাধীনতা মেলা পরিষদ, অবসর সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, কিড্স কালচারাল ইনস্টিটিউট, আনন্দ নিকেতন সংগীত অ্যাকাডেমি, বাংলাদেশ মুক্তির সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্রসহ নানা সংগঠনের পুরস্কার।

২০১৫ সালে বিটিভি থেকে পাঁচ হাজার টাকা প্রথম সম্মানি পেয়েছিলেন কমল। খুশিতে দু’রাত নাকি ঘুমোতেই পারেননি। বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্নে বিভোর কমলের কাছে সংগীত মানে কেবল গাওয়ার বিষয় নয়। অন্তরেও ধারণ করতে হবে সাধনা। তার প্রিয় বন্ধুদের মধ্যে একজন ফারদিন।

তিনি বলেন, মানুষ হিসেবে খুবই ভালো কমল। গানেই তাকে সবসময় দেখতে চাই আমরা। ভীষণ আড্ডাবাজ।

বাংলাদেশ সময়: ১৭১৪ঘণ্টা, মার্চ ১০, ২০১৮

এমইউ/টিসি

আবাসিকে গ্যাস সংকট থাকছে না চট্টগ্রামে
এনআরসি ইস্যুতে দ্বিধা বিভক্ত সরকার, অভিযোগ বীরজিতের
প্রধানমন্ত্রীকে এসএমএস করে কোরবানির গরু পেলেন তারা
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিট চালু
পাসপোর্ট করতে এসে রোহিঙ্গা তরুণী আটক
ব্যাংকের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ
যাত্রীর চাপ সামলাতে ফিটনেসবিহীন বাস-ট্রাক
পঁচাত্তরের খুনিদের ক্ষমতায় দেখতে চায় না জনগণ
সদরঘাটে ঘরমুখো যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়
ট্রেনের ছাদ-ইঞ্জিন-বগি, বাদ নেই কিছুই!