যে বাড়ির দরজা সবার জন্য খোলা

আল রাহমান, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

যে বাড়ির দরজা সবার জন্য খোলা

চট্টগ্রাম: বিশাল প্রাসাদ। কোটি টাকার মন্দির। মহামূল্যবান কয়েক ডজন মূর্তি। সুদৃশ্য রবি ঠাকুর আর নজরুলের ভাস্কর্য। শান বাঁধানো পুকুর। মাটির তৈরি বড় বড় বাঘ-সিংহ-হাতি-ময়ূর। বাগানে দেশি-বিদেশি ফুলের সমারোহ, ফলের মেলা। কিন্তু এ বাড়ির দরজা সবার জন্য খোলা।

নগরীর উত্তর কাট্টলীর ‘দত্তবাড়ি’ বলতে গেলে একটি নতুন পর্যটনকেন্দ্র। দূরদূরান্ত থেকে জাতিধর্মবর্ণ-নির্বিশেষে সবাই ছুটে আসেন বেড়াতে। যারাই আসেন মুগ্ধ হন। আলো-ছায়ার খেলায় নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন। দর্শকদের জন্য শুক্রবার ও শনিবার বিকেলে খোলা থাকে বাড়িটি। পরিবার নিয়ে এলে অন্যদিনও আপত্তি নেই।   

প্রবাসী বাবুল দত্ত এ বাড়ির মালিক। তার মোটরপার্টস ও ওয়ার্কশপের ব্যবসা ওমানে। প্রথম স্ত্রী নমিতা রাণী দত্ত ১৯৯৭ সালের ১৩ অক্টোবর মা‍রা যান। মূলত স্ত্রীর স্মৃতিকে জাগরূক রাখতেই দত্তবাড়িকে আকর্ষণীয়ভাবে সাজিয়েছেন তিনি। ১৩৯০ সালের ৭ ভাদ্র প্রতিষ্ঠা করেছেন গীতামন্দির। উদ্বোধন করেন শ্রীশ্রী জ্যোতিশ্বরানন্দ মহারাজ।

যাকে ঘিরে দত্তবাড়ির এত আয়োজন

ভোলার মোহাম্মদ আলী (২৫) আর সুমন চন্দ্রনাথ (২৮) এ বিশাল স্বপ্নপুরির তত্ত্বাবধায়ক। পরম মমতায় ধুয়ে মুছে ঝকঝকে করে রাখে স্থাপত্যকর্মগুলো। সুমনই পরিচয় করিয়ে দিলেন নমিতা রাণী দত্ত ভক্তি করছেন সত্য নারায়ণ, অনুকূল ঠাকুর, রাম ঠাকুরকে এ রকম কিছু মূর্তি। বাগানে আছে একটি বড় শিবমূর্তি। পাশে কোণায় কৃষ্ণ ও তার মায়ের মূর্তি।

মোহাম্মদ আলী ঘুরে ঘুরে দেখালেন বাবুল দত্তের নিজ হাতে লাগানো দারুচিনি, তেজপাতা, কমলা, রকমারি আম, জলপাই, কাঁঠাল, জাম, লিচু, বেল, তেঁতুল, পেয়ারা, বড়ই, জামরুলসহ হরেক ফলের গাছ। এবার আমের মুকুল এসেছে বেশ। তিনটি পুকুর। মাছ কিলবিল করছে। তিন রকমের জবা, সাদা গোলাপ, নীলকণ্ঠ, গন্ধরাজসহ দেশি-বিদেশি শত শত ফুল আর পাতাবাহারের সৌন্দর্য ছড়িয়ে পড়ছে।   

নৈসর্গিক দৃশ্য মুগ্ধ করে অতিথিদের

দত্তবাড়ির কর্ত্রী রত্না দত্ত জানালেন, মানুষ মানুষের জন্য এ উপলব্ধি থেকে মানুষকে নির্মল আনন্দ দিতেই বাড়িটিকে দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজিয়েছেন বাবুল দত্ত। প্রতিদিনই সপরিবারে বেড়াতে আসেন অনেকে। শুক্র ও শনিবার ভিড় বেশি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান চৌধুরী জানালেন, বাবুল দত্ত একসময় গরিব ছিলেন। পরিশ্রম করে টাকা উপার্জন করেছেন। তিনি মনে করেন, প্রথম স্ত্রীর ভাগ্যেই তার এত উন্নতি। তাই স্ত্রীর স্মৃতি জাগরূক রাখতেই নিজের বাড়িটিকে দর্শনীয় স্থানে পরিণত করেছেন। বলতে গেলে কাট্টলীর যেকোনো পরিবারে নতুন অতিথি এলে নিয়ে আসেন দত্তবাড়ি দেখাতে। এটি আর বাবুল দত্তের বাড়ি নেই। এটি এখন সবার বাড়ি।   

বাবুল দত্তের বড় ছেলে আশীষ দত্ত থাকে বাড়িতে। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, বাবা মায়ের স্মৃতি ধরে রাখতেই বাড়িটি সাজিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সবার জন্য উন্মুক্তও করে দিয়েছেন। মানুষ খুশি হয়, ছোট ছোট শিশু-কিশোররা আনন্দ পায় এটিই আমাদের বড় তৃপ্তি।

বাংলাদেশ সময়: ১১০০ ঘণ্টা, মার্চ ০৯, ২০১৮

এআর/টিসি

কোটার বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের মত চেয়েছে সরকার
কেরালায় বন্যায় ৩২৪ জনের মৃত্যু, আশ্রয় শিবিরে সোয়া ২ লাখ
ডিমলায় জামায়াতের শীর্ষ ৪ নেতা আটক
স্বাচ্ছন্দ্যেই নৌপথে ঘরে ফিরছেন মানুষ
বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ক ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ
মন সুস্থ রাখে খেলাধুলা, বুদ্ধি বাড়ায় দাবা
লুটেরাদের কাউকে ছাড়া হবে না: ইমরান খান
বাজপেয়ীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
নরসিংদীতে ট্রেনে কাটা পড়ে কলেজছাত্রীর মৃত্যু
তিতের নতুন দলে নেই জেসুস