পশ্চিমবঙ্গ সরকারের লক্ষ্য বিশ্ববাজারে মধু রফতানি

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

মৌমাছি চাষ

 

কলকাতা: লক্ষ্য বিশ্ববাজারে মধু রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন। সেদিকেই পা বাড়াচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মধু উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজ্যের আর্থিক উন্নয়ন ও অন্যতম উপার্জনের দিক হবে এই মধু। আর সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবায়িত করবে রাজ্য সরকার৷ ১৯ আগস্ট ছিলো বিশ্ব মৌমাছি দিবস৷ সেদিন একযোগে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দফতরের মন্ত্রী রেজ্জাক মোল্লা৷

পশ্চিমবঙ্গে নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে ইউক্যালিপটাস গাছ থেকে মধু সংগ্রহ করতে মৌমাছি পালকরা চলে যান মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলায়। 
 
আবার ডিসেম্বরে যখন সরষের ফুল ফোটে তখন তারা পাড়ি দেন নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগণা ও মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলোয়৷ ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে লিচুর মরসুমে বাক্স নিয়ে তারা পাড়ি দেন মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও দক্ষিণ ২৪ পরগণার জেলাগুলোতে।

বর্ষার সময়টা তারা সময় কাটান নিজেদের বাড়িতে৷ সে সময় কমতে শুরু করে মৌমাছির সংখ্যা৷ তখন চিনির রস খাইয়ে বাঁচিয়ে রাখতে হয় মৌমাছিগুলোকে৷ প্রায় যাযাবর জীবন কাটাতে হয় মৌমাছি পালকদের৷ বিশেষত উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগণা, মালদহ ও মুর্শিদাবাদ জেলাতেই মৌমাছি পালকদের সংখ্যা বেশি।

দীর্ঘদিন ধরেই মৌমাছি নিয়ে কাজ করছেন দীপক দাঁ৷ বনগাঁ লাইনে গোবরডাঙা এলাকায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের কাজও চলছে তারই উদ্যোগে৷ দীপক জানান, অন্য অনেক কিছুর মতোই বিশ্বে মধুর বাজার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশই চিনের দখলে৷ অথচ পশুর, বাইন,খোলসে গাছ থেকে যে উৎকৃষ্ট মানের মধু মেলে। ঠিকমতো প্রচার করা গেলে তা দার্জিলিং চায়ের মতো জনপ্রিয় হতে পারে৷ উপযুক্ত প্রচারের অভাবে এখনও সে সম্পর্কে ততটা জানে না অনেকেই। যদিও গত কয়েক বছর ধরে আমেরিকা, জার্মানিসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে রফতানি হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের মধু৷

পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে প্রায় ২ লাখ বাক্সে ভ্রাম্যমাণ মৌমাছি পালনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষ৷ এক একজন মৌপালকের সঙ্গে যুক্ত থাকেন গড়ে চারজন৷ সেই হিসাবে শুধু এ রাজ্যে মৌমাছি পালনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন লাখখানেক মানুষ৷

ইউক্যালিপটাস, সরষে, লিচু, ধনে, তিল ছাড়াও সুন্দরবনের গরান, কেওড়া, পশুর, খোলসে ও বাইন গাছ থেকে মেলে ভালো মধু৷ নারকেল গাছের ফুল থেকেও মধু সংগ্রহ করে মৌমাছিরা৷ সেই মধুর স্বাদও ভালো।

বাংলার আবহাওয়া এবং এ ধরনের গাছ যথেষ্ট পরিমাণে থাকায় মৌমাছি পালন এবং মধু উৎপাদনের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷ 

আর সেই রূপরেখাকে বাস্তবায়িত করতে রাজ্যের পঞ্চায়েত এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দফতর একযোগে কাজ করবে-এমনটাই জানান মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় ও রেজ্জাক মোল্লা৷

বাংলাদেশ সময়: ১৭২৬ ঘণ্টা, ২৬ আগস্ট, ২০১৭
ভিএস/আরআর

পঞ্চগড়ে ট্রাকচাপায় পথচারী নিহত
স্বর্ণের নৌকা দিয়ে ক্ষমতাসীন দলে নাম লেখালেন ইউপি সদস্য
‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ১৯ ফেব্রুয়ারি’
সিলেটে বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫
মঙ্গলবার হচ্ছে না জুবায়ের হত্যার হাইকোর্টের রায়
৯০ দিনের কারাদণ্ডের বিধান রেখে বীজ বিল পাস
ফ্রান্সে প্রথম বাংলাদেশি কাউন্সিলর শারমিন হক
সর্বস্তরের কর্মকর্তার পদোন্নতি দাবি ফরাজীর
আমিরকে পেছনে ফেললেন সালমান
সিআরভিএস বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু মঙ্গলবার




Alexa